সিনেমা, রোবট আর ভ্রমণের আড্ডা
বিকেল ৩টা বাজতেই কিশোর আলোর সভাকক্ষ পূর্ণ হয়ে গেল। কিশোর আলোর ১১২তম কিআড্ডায় অংশ নিতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে কিআ কার্যালয়ে এসেছে কিশোর-কিশোরীরা।
শুরুতেই রোবটিক্স নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে সিলভার ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী নুসাইবা তাজরিন তানিশা। তানিশা বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই রোবট তৈরির প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়। ইউটিউব ও বই পড়ে আমি রোবট বানাতে শিখেছি। পরেরবার আমি রোবট বানিয়ে স্বর্ণপদক জিততে চাই।’
কিশোর-কিশোরীরা রোবটিক্স নিয়ে তানিশাকে নানা প্রশ্ন করে। তানিশা জানান, চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। ‘আমি ২০২২ সালে রোবটিক্স শেখা শুরু করি এবং মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাই। ২০২৩ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিই।’
এরপর আড্ডায় আসেন কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি নিজের ছেলেবেলার স্মৃতি পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মজার কিছু অভিজ্ঞতা শোনান। হাস্যরসের ছলে বলেন, তাঁর প্রিয় দল এবার রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায় নিয়েছে।
এরপর বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় সাগরিকাকে নিয়ে কিশোর আলোর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে উঠে আসে সাগরিকার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে তিনি নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গেছেন, তা সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।
পরের পর্বে আড্ডায় উপস্থিত হন ‘উৎসব’ ও ‘বনতলা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের পরিচালক তানিম নূর। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কিশোরদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রিয় গল্প ও উপন্যাস সম্পর্কে জানতে চান। আলোচনা করেন, কীভাবে একটি গল্প বা উপন্যাসকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়া হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে গ্রামবাংলাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। একজন শিক্ষার্থী নদীভাঙন নিয়ে সিনেমা তৈরির কথা বলে। চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা দিক নিয়ে এই পর্বে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।
পরের পর্বে মঞ্চে আসেন কিশোর আলোর প্রাক্তন স্বেচ্ছাসেবক সাফা জেরিন সুকন্যা। তিনি ‘রইদ’ চলচ্চিত্রে কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর আলোচনায় রইদ সিনেমার কাস্টিং ও নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত উঠে আসে। কিআ আড্ডায় চলচ্চিত্রটির ট্রেলার ও বিহাইন্ড দ্য সিন প্রদর্শন করা হয়। তা নিয়ে চলে বিস্তারিত আলোচনা।
অনুষ্ঠানের পরের পর্বে উপস্থিত হন ভ্রমণপ্রেমী অতিথি স্বপ্নরাজ। তিনি জানান, একবার হেঁটে, আরেকবার সাইকেল চালিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন। ঘুরে দেখেছেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা। তিনি তাঁর ভ্রমণের নানা অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণার গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় ‘কিশোর আলো রিভিউ’ পর্ব। অংশগ্রহণকারীরা কিশোর আলোর সাম্প্রতিক সংখ্যার ভালো লাগা, মন্দ লাগা এবং চোখে পড়া ভুলগুলো নিয়ে মতামত জানায়। এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন কিশোর আলোর নির্বাহী সম্পাদক আদনান মুকিত।
এবারের কিআড্ডা সঞ্চালনা করেন কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক আহমাদ মুদ্দাসসের।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বের আয়োজন ছিল জমজমাট কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে তিনজন বিজয়ী নির্বাচিত হন। সবশেষে কিশোর আলোর স্বেচ্ছাসেবক আরেফিন ফয়সাল গান গেয়ে শোনান। শেষে সবাই চিপস খেতে খেতে বিদায় নেয়।