তুমি কতটা ফুটবলপ্রেমী

অলংকরণ: সাফায়েত সাগর

শেষ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ দেখেছে দুর্দান্ত সব খেলা। তবে এক এক জন এক এক ভাবে দেখেছে বিশ্বকাপ। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে ঘুরে বেড়িয়েছে। কেউ খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান মুখস্থ করছে। কেউ আবার বিশ্বকাপ দেখে এখন থামে নি, পরের বিশ্বকাপ আসা পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে তুমি নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে নম্বর মিলিয়ে জেনে নাও, তুমি আসলে কতটা ফুটবলপ্রেমী!

আরও পড়ুন

১. ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরো সূচি প্রকাশ হওয়ার পর তুমি কী করেছিলে?

ক. সূচি সংগ্রহ করে রেখেছি। প্রিয় দলের ম্যাচ, সম্ভাব্য নকআউট ম্যাচ, এমনকি কোন দিন কোন বড় দল মুখোমুখি হবে, সব দেখে রাখছি।

খ. শুধু প্রিয় দলের ম্যাচগুলো কখন হবে, সেটা দেখে রেখেছিলাম। বাকি ম্যাচগুলো পরে।

গ. বিশ্বকাপ শুরু হলে তখন টিভি থেকে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দেখে জেনেছিলে।

২. ধরো, তোমার প্রিয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাংলাদেশ সময় রাত তিনটায়। পরদিন আবার স্কুলও আছে। তুমি কী করবে?

ক. অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমাব। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই উঠে যাব। পরদিন ক্লাসে একটু ঘুম পেলেও ম্যাচ মিস করব না।

খ. যদি ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে দেখব। নাহলে সকালে উঠে হাইলাইটস দেখে নেব।

গ. রাত জেগে খেলা দেখা যাবে না। ঘুমাতে হবে। স্কুল আছে তো।

৩. স্কুলে গিয়ে দেখলে, বন্ধুরা একজন নতুন ফুটবলারকে নিয়ে কথা বলছে যাকে তুমি চেনো না। তুমি কী করবে?

ক. বাসায় ফিরে তার ভিডিও দেখব। কোন ক্লাবে খেলে, কী পজিশনে খেলে, সব খোঁজ নেব।

খ. বন্ধুদের কাছ থেকে শুনব। পরে সময় পেলে দেখে নেব।

গ. নতুন খেলোয়াড়ের নাম মনে রাখার কোনো দরকার দেখি না।

৪. তোমার ঘরের দেয়াল বা পড়ার টেবিলের অবস্থা বিশ্বকাপের সময় কেমন থাকে?

ক. সেখানে প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি, জার্সি, পোস্টার কিংবা ফুটবল-সংক্রান্ত কোনো না কোনো জিনিস থাকবেই।

খ. হয়তো একটা-দুটো ফুটবলের জিনিস আছে, তবে খুব বেশি নয়।

গ. আমার ঘরে ফুটবল বিশ্বকাপের চিহ্ন নেই।

৫. বিশ্বকাপের সময় তোমার মুঠোফোন, ইউটিউব বা ফেসবুকের ফিডে সবচেয়ে বেশি কী দেখা যায়?

ক. ম্যাচ বিশ্লেষণ, গোলের ভিডিও, খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার, ভবিষ্যদ্বাণী। যা আছে প্রায় সবই ফুটবলবিষয়ক।

খ. ফুটবলের কিছু ভিডিও দেখি। তবে অন্যান্য বিষয়ও এ সময় আমার নজরে থাকে।

গ. ফুটবল নিয়ে তেমন কিছু দেখি না।

৬. তোমার প্রিয় দল বিশ্বকাপ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিল। তখন তোমার প্রতিক্রিয়া কী হবে?

ক. মন খারাপ হয়ে যাবে। কয়েক দিন ধরে ম্যাচ নিয়ে ভাবব। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করব।

খ. খারাপ লাগবে। কিন্তু এক-দুই দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাব।

গ. বিশেষ কোনো অনুভূতি হবে না। খেলা তো খেলাই।

৭. পাড়ায় বা স্কুলে ফুটবল খেলার আয়োজন হয়েছে। তুমি কী করবে?

ক. আমি সবার আগে নাম লেখাব। খেলতে না পারলেও মাঠে উপস্থিত থাকব।

খ. সময় ও সুযোগ থাকলে খেলব।

গ. খেলার চেয়ে বাসায় অন্য কিছু করতে আমার বেশি ভালো লাগবে।

৮. ফুটবল নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ক্ষেত্রে তুমি কতটা সক্রিয়?

ক. কোন খেলোয়াড় বা দল কেন ভালো, তার পক্ষে তথ্য-উপাত্তসহ যুক্তি দিতে পারি।

খ. নিজের মতামত দিই, তবে খুব গভীরে যাই না।

গ. ফুটবল নিয়ে তর্ক করার আগ্রহ আমার নেই।

৯. ধরো, টিভিতে একটি লিগের ম্যাচ চলছে। ম্যাচে তোমার প্রিয় দল খেলছে না। তুমি কী করবে?

ক. ম্যাচটা দেখব। ভালো ফুটবল হলে দল যা–ই হোক, আমার দেখতে ভালো লাগে।

খ. অন্য কাজ না থাকলে কিছুক্ষণ দেখতে পারি।

গ. প্রিয় দল না খেললে খেলা দেখার কোনো মানে হয় না।

১০. বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের দিন তোমার পরিকল্পনা কী ছিল?

ক. আগেই সব কাজ গুছিয়ে রাখা। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার ব্যবস্থা রাখা। ম্যাচের আগে-পরে বিশ্লেষণ দেখা।

খ. খেলার সময় হলে টিভির সামনে বস। ম্যাচটা উপভোগ কর।

গ. সময় পেলে দেখ। অন্য কোনো কাজ থাকলে সেটা করতে হবে।

আরও পড়ুন

সব কটি নম্বর মিলিয়ে নাও

নম্বর: ক. ১০ | খ. ৫ | গ. ০

তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে

০–৪৫: ফুটবল তোমার কাছে আর দশটা খেলার মতোই

বিশ্বকাপ এলে হয়তো কিছু ম্যাচ দেখো। বন্ধুদের সঙ্গে একটু আলোচনাও করো। কিন্তু ফুটবল তোমার প্রতিদিনের আগ্রহের বিষয় নয়। প্রিয় দল হারলে তোমার ঘুম নষ্ট হয় না। রাত জেগে খেলা দেখো না। তুমি দর্শক, তবে ফুটবলপাগল নও।

৪৬–৭৫: তুমি ভালোই ফুটবলপ্রেমী

তুমি ফুটবলের খবর রাখো। বিশ্বকাপের বড় ম্যাচগুলো দেখো। নিজের প্রিয় দলকে সমর্থন করো। খেলার নিয়মকানুন ও তারকাদের সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে। তবে ফুটবল তোমার জীবনের একমাত্র প্রিয় জিনিস নয়। তুমি ফুটবলপ্রেমী। তবে মাত্রা ছাড়িয়ে যাও না।

৭৬–১০০: তুমি একেবারে ফুটবলপাগল!

বিশ্বকাপ তোমার কাছে শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়। চার বছর ধরে অপেক্ষার পর আসা এক বিশাল উৎসব। খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান, দলের কৌশল, পুরোনো ম্যাচের স্মৃতি, সবকিছু তোমার নখদর্পণে। রাত জেগে খেলা দেখো তুমি। বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক করো। জার্সি পরে প্রিয় দলকে সমর্থন জানাও। এসব তোমার জন্য একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার।

আরও পড়ুন