টিফিন ব্রেকের রঙিন দিনগুলো

অলংকরণ: এস এম রাকিব

পড়াশোনার হাজারো প্যারার মধে৵ টিফিন টাইমটাই আমাদের জন্য একটুকরা স্বাধীনতার আকাশ। টিফিন টাইমে আমরা বান্ধবীরা সবার টিফিন নিয়ে মিলেমিশে এমনভাবে প্ল্যাটার সাজাতাম, যা যেকোনো রেস্টুরেন্ট প্ল্যাটারকেও হার মানাতে বাধ্য!

আমার বান্ধবী মরিয়ম টিফিনে প্রায়ই নিয়ে আসত চোখ-মুখ লাল করে ফেলা ঝাল-ঝাল নুডলস; আর সুবাইতা? এই মেয়েটার ব্যাপারখানা বেশ আলাদা। বান্ধবী আমার নিজের টিফিন নিজেই বানিয়ে আনত। তার টিফিনবক্সে থাকত একেক দিন একেক রকমের চমক; আর আমি? আমি আবার এসব বিষয় নিয়ে খুব একটা প্যারা নিতাম না। টাকা নিয়ে যেতাম, যা ইচ্ছা হতো ক্যানটিন থেকে কিনে খেতাম। বেশির ভাগই সেই চিরচেনা কফি আর সমুচা খাওয়া হতো আমার টিফিনে। আমার স্কুলের ক্যানটিনে মজার এক খিচুড়ি পাওয়া যেত। খুব ইচ্ছা হলে খিচুড়িও খেতাম মাঝেমধ্যে।

তবে সেদিনটি ছিল অদ্ভুত রকমের সুন্দর! টিফিনের ঘণ্টা বাজার খানিকটা আগে থেকে শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। আমি এক দৌড়ে নিচে গিয়ে ক্যানটিন থেকে ধোঁয়া ওঠা গরম-গরম খিচুড়ি নিয়ে এলাম। অপর দিকে সুবাইতা নিজ হাতে হালিম রান্না করে এনেছে। আর মরিয়ম? মেয়েটি আজ ঝাল নুডলস বাদ দিয়ে প্রথমবার বেশ ব্যতিক্রম কিছু এনেছে—চিকেন স্যান্ডউইচ। আমার বান্ধবীদের মধ্যে মরিয়ম ছিল ঝালপ্রিয়। সে খাবার আনবে আর সেটি হবে ঝালছাড়া, তা অকল্পনীয়। কান দিয়ে আমার আর সুবাইতার ধোঁয়া বেরোচ্ছিল সেই স্যান্ডউইচ খেয়ে। বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি, হালিম ও স্যান্ডউইচের কম্বিনেশনটা আমাদের মধে৵ জমে উঠেছিল বেশ।

আরও পড়ুন

খাওয়ার সময় আমাদের কত কথা! ক্লাস চলাকালে মনের মধ্যে জমে থাকা সব কথা প্রকাশ পায় টিফিন টাইমে। সুবাইতা পড়া না পেরে ক্লাসে দাঁড়িয়ে থাকে, স্যার আমাকে পড়া ধরতে এলে ক্লাসের ঘণ্টা পড়ে যায়, মরিয়ম কথা বললে দোষ আসে আমার আর সুবাইতার ঘাড়ে; আরও যে কত কী!

খাওয়াদাওয়া শেষ হতেই আমরা চলে গেলাম নিচে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল তখন। এই বৃষ্টির মধ্যেই আমরা তিনজন নেমে পড়লাম মাঠে। বৃষ্টিতে ভিজতে। বৃষ্টির মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করলাম, একে অপরকে পানিতে ভিজিয়ে দিলাম। হাত ধরে ঘুরলাম তিনজন মিলে। তারপর যখন একটু ঠান্ডা লাগা শুরু হলো, চট করে তখনই ক্লাসরুমে এসে পড়লাম। ফ্যানের বাতাসে চুল শুকালাম।

এখন হয়তো স্কুলের গণ্ডি বদলেছে, অন্য স্কুলেও আমার নতুন পথচলা শুরু হয়েছে; কিন্তু, বৃষ্টির দিনে টিফিন ব্রেকে বন্ধুদের সঙ্গে ভিজতে ভিজতে চুল শুকানোর সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার মনে গভীর এক ছাপ ফেলে রেখেছে।

লেখক: অষ্টম শ্রেণি, মালখানগর হাইস্কুল, মুন্সিগঞ্জ
আরও পড়ুন