বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচগুলো কেন খেলা হয় বিশেষ বল দিয়ে
বিশ্বকাপে বাকি আছে আর মাত্র চারটি ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সর্বকালের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। ১৯ জুলাইয়ের সেই ফাইনালকে সামনে রেখে স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস নিয়ে এল নতুন বল। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং মেগা ফাইনাল খেলা হবে এই বলে। এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা বলটি উন্মোচন করেছে। নতুন এই অফিশিয়াল ম্যাচ বলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ত্রিওনদা ফাইনাল’।
গত বছরের অক্টোবরে বিশ্বকাপের সাধারণ ম্যাচগুলোর জন্য ‘ত্রিওনদা’ বলটি আনা হয়েছিল। নতুন এ বলটি মূলত আগের বলের একটি বিশেষ ও উন্নত সংস্করণ। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম শুধু বলের রঙের খুব একটা পরিবর্তন না করে করা হয়েছে নতুন ডিজাইন। মূলত, শেষ ম্যাচগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরতে নতুন একটি ডিজাইন তৈরি করেছে অ্যাডিডাস।
অবশ্য ফাইনাল ম্যাচের জন্য নতুন বল আনার ঘটনা কিন্তু এবারই প্রথম নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য একদম আলাদা একটি বল ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০২২ বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো খেলা হয়েছিল ‘আল রিহলা’ (Al Rihla) বল দিয়ে। আর শেষ ম্যাচগুলোর জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল ‘আল হিল্ম’ (Al Hilm) নামের একটি বিশেষ বল। আরবি ভাষায় ‘আল রিহলা’ শব্দের অর্থ ভ্রমণ আর ‘আল হিল্ম’ শব্দের অর্থ স্বপ্ন। কাতারের মরুভূমি আর বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফির রং মিলিয়ে বলটি তৈরি করা হয়েছিল। ঠিক এবারের ‘ত্রিওনদা ফাইনাল’ বলটির মতোই, সেবারও ফাইনাল ম্যাচের গুরুত্ব বোঝাতে বলটির ডিজাইন এমন আলাদা করা হয়েছিল।
ত্রিওনদা ফাইনাল বলটির ডিজাইন করা হয়েছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি থেকে আইডিয়া নিয়ে। সুন্দর সোনালি রং ব্যবহার করা হয়েছে বলটিতে, যা বিশ্বকাপের ট্রফির কথা মনে করিয়ে দেয়। এই সোনালি রংটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কালো রঙের ওপর। তাই বলটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি এর ভেতরে একটা রাজকীয় ভাব আছে। বিশ্বকাপের শেষ খেলার জন্য বলটির এই নতুন রূপ সত্যিই বেশ আকর্ষণীয়। ৬ জুলাই অ্যাডিডাস একটি পোস্টের মাধ্যমে জানায়, বলটি এখন তাদের ওয়েবসাইটে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।
এই বলটির ডিজাইনে একটি বিশেষ ব্যাপার আছে। ২৬ বিশ্বকাপের খেলাগুলো ১৬টি শহরে হচ্ছে, সেই শহরগুলোর নাম এই বলের গায়ে লেখা রয়েছে। যেহেতু সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মতো শেষ চারটি ম্যাচ ডালাস, আটলান্টা, মায়ামি ও নিউইয়র্ক নিউ জার্সিতে হবে, তাই এই চারটি শহরের নাম বলের ওপর সবচেয়ে বড় করে দেখানো হয়েছে। আর বাকি ১২টি শহরের নাম বলের গায়ে ছোট ছোট ত্রিভুজ আকৃতির ডিজাইনের ভেতরে সুন্দর করে লিখে দেওয়া হয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বলটি নিয়ে বলেন, ‘ত্রিওনদা বলটি দিয়ে যখনই গোল হয়েছে, তখনই দর্শকেরা অনেক আনন্দ পেয়েছেন। বলটি আয়োজক তিন দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বকে একসঙ্গে তুলে ধরেছে। শেষ চার ম্যাচে যখন সেরা খেলোয়াড়েরা এই বলটি নিয়ে খেলবেন, তখন প্রতিটি পাস, ড্রিবল আর গোলের মাধ্যমে এই ১৬টি শহরের নাম বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
নান্দনিক ডিজাইনের পাশাপাশি এই বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তি। ‘অ্যাডিডাস কানেক্টেড বল’ নামের এই প্রযুক্তি হলো বলের ভেতরে একটি বিশেষ সেন্সর বা চিপ। খেলা চলাকালীন বলটি কখন কার পায়ে লাগছে বা কোন দিকে যাচ্ছে, সেই তথ্য এই সেন্সরটি সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে অফসাইড বা হ্যান্ডবলের মতো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো রেফারিরা একদম নিখুঁতভাবে ও দ্রুত নিতে পারবেন।
অ্যাডিডাস তাদের নতুন বলটি সবার সামনে আনার জন্য লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহাম এবং লামিনে ইয়ামালের মতো তারকা খেলোয়াড়দের দিয়ে ছবি তুলিয়েছে। এই বল তৈরিতে আগের ‘ত্রিওনদা’ বলের মতোই চারটি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। যার আকার ও উপরিভাগ একদম একই রকম। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়েরা একই রকম সুবিধা পাবেন এবং বলের আচরণ বদলে যাবে না। বলটি যাতে বাতাসে চমৎকারভাবে ভেসে ও সোজা লাইনে ছুটে যেতে পারে, সে জন্য এতে গভীর সেলাই ও বিশেষ এক ধরনের খাঁজকাটা নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের আসল ত্রিওনদা ফাইনাল ম্যাচ বলটির দাম ধরা হয়েছে ১৬০ ইউরো। বাংলাদেশের টাকায় যা প্রায় সাড়ে বাইশ হাজার টাকার মতো। ৭ জুলাই থেকে বলটি অ্যাডিডাসের শোরুম, নির্দিষ্ট কিছু দোকান এবং তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: ফিফা ও অ্যাডিডাস