টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হবে কি পিএসজির
কয়েক বছর আগেও দলবদলের মৌসুমে বড় কোনো অঙ্কের কেনাবেচা হলেই সবার রাগ গিয়ে পড়ত পিএসজির ওপর। এক মৌসুমে ২২২ মিলিয়নে নেইমার আর ১৮০ মিলিয়নে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কিনে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল ফরাসি ক্লাবটি। এর আগে এত দাম দিয়ে খেলোয়াড় কেনার কথা ভাবতেও ভয় পেত ক্লাবগুলো। কিন্তু পিএসজির দেখিয়ে দেওয়া পথের পর, ভয়-ডর যেন সব উবে গিয়েছে সবার। যে পথ দেখিয়ে এসেছিল পিএসজি, লুইস এনরিকে সেই পথ ছেড়েই খুঁজে পেয়েছেন সাফল্য। টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের লড়াইয়ে পিএসজির দলবদলের মৌসুমটা কেমন গেল?
কাদের ছাড়ল পিএসজি
ক্লাবটাকে এককথায় বলতে গেলে নিজের ধাঁচে গড়ছেন লুইস এনরিকে। তাঁকে সর্বেসর্বা বানানোর পর নিজের পছন্দসই খেলোয়াড় আনছেন, যাঁকে দরকার পড়ছে না, সঙ্গে সঙ্গে বিদায় বলে দিচ্ছেন। দাম পেলেও কোনো কার্পণ্য করছেন না। তাই তো গত কয়েক মৌসুম ধরে যাঁদের গড়ে তুলেছেন, তাঁদের ছাড়তে বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়নি পিএসজির। ঝাঁক ধরে বেঞ্চে থাকা পুরো আক্রমণভাগকেই বিদায় বলেছেন তিনি। ১২৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ব্র্যাডলি বারকোলাকে লিভারপুলের কাছে বিক্রি করেছে পিএসজি। এসি মিলানের কাছে ৭৪ মিলিয়নে গনসালো রামোস, অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৫৫ মিলিয়নে ইব্রাহিম এমবায়ে আর কোলো মুয়ানি ৪১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগ দিয়েছেন জুভেন্টাসে। এ ছাড়া দুই ডিফেন্ডার ক্যাং-ইন লি ও নোহাম কামারাকে বিক্রি করেছেন যথাক্রমে আতলেতিকো আর লিঁওর কাছে। সব মিলিয়ে এ মৌসুমেই তারা খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ৩৩৪ মিলিয়ন ইউরো। টাকা নিয়ে তো আর বসে নিশ্চয় নেই, ঝাঁপিয়ে পড়েছে শূন্যস্থান পূরণে।
পিএসজিতে ভিড়লেন যাঁরা
পিএসজিতে যোগ দেওয়া সবচেয়ে বড় নাম বোধ হয় ফেরান তোরেস। বিশ্বকাপ ফাইনালে এক গোল বদলে দিয়েছে তাঁর গল্প। ক্লাব ফুটবলে ধুঁকতে থাকা তোরেসকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে গিয়েছিল দলগুলোর মধ্যে। বার্সেলোনা চাইলেও সেখানে আর থাকতে চাইছিলেন না তিনি। ফলে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পিএসজি তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে দলে। ৫০ মিলিয়নে দলে ভিড়েছেন মোনাকোর ২৪ বছর বয়সী রাইট উইঙ্গার ম্যাগনেস আকিউস। গত মৌসুমে ৪০ ম্যাচ খেলে ৭ গোল ১০ অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়ের প্রতি আগ্রহটা বেশ অস্বাভাবিক। সেটাও এনরিকের জন্য। কিন্তু ফ্রান্সের ভেতর ত্রাস চালানোর জন্য আকিউস হবেন খুবই শাণিত অস্ত্র।
আক্রমণের বাঁ পাশে বেলজিয়ান উইঙ্গার মিকা গডসকে ভিড়িয়েছে পিএসজি। ২১ বছর বয়সী উইঙ্গারকে ভেড়াতে আয়াক্সকে দিতে হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ইউরো। এ ছাড়া ১১ বছর পর ঘরে ফিরেছেন লুকাস ডিনিয়ে। ৭ মিলিয়ন ইউরোতে অ্যাস্টন ভিলা থেকে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। এই কজন খেলোয়াড়কে দলে নিতে মোট ১৫০ মিলিয়নের কাছাকাছি খরচ গিয়েছে তাদের। খেলোয়াড় কেনাবেচার মধ্যেই প্রায় ১৮০ মিলিয়ন লাভের দেখা পেয়েছে তারা।
দেখে খুব বড় বড় নাম মনে না হলেও এনরিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। ফ্রেঞ্চ লিগ জিততে তারকার দরকার নেই। বরং টানা খেলে জয় এনে দিতে পারবে, এমন খেলোয়াড়দের দলে এনেছেন তিনি। এ ছাড়া বাকি দলের মনোযোগ থাকবে ইউরোপ শাসনের। স্কোয়াডের মধ্যেই এমন দুটি একাদশ পেয়ে যাওয়া ভালোই হয়েছে এনরিকের জন্য। আগের মৌসুমের মতো যদি ধরে রাখতে পারে ফর্ম, তবে বিশ্রাম পাওয়া খেলোয়াড়দের দিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউরোপ জয় করা সত্যি করতে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না স্প্যানিশ এই কোচকে।