দলবদলে শেষ দিনে যত নাটক

মোনাকোর দুই খেলোয়াড় বালোগান ও কামারা।ছবি: এক্স

‘ডেডলাইন ডে’কে বলা হয় দলবদলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিন। দলবদলের শেষ দিনে এসে দলগুলোর মধ্যে পড়ে যায় হুড়োহুড়ি। নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড়কে দলে নিতে তৈরি হয় নানা নাটকীয়তা। এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের মৌসুমের শেষটাও ঘটেছে নাটকীয়তা দিয়েই।

দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে তিন দলের টানাটানি

ঘটনার সূত্রপাত মোনাকো থেকে। মাথার ওপর থাকা ঋণের বোঝা কমাতে একজন খেলোয়াড়কে বিক্রি করার প্রয়োজন ছিল ফরাসি ক্লাবটির। শেষ দিন ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এসেছিল ইংলিশ ক্লাব এভারটন। মার্কিন খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানকে কেনার জন্য সব চুক্তি সম্পন্ন করে ইংলিশ দলটি। অন্যদিকে চেলসি ইতিমধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে এনজো ফার্নান্দেজকে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে মাঝমাঠে তৈরি হওয়া জায়গা পূরণের জন্য কেনার চিন্তা করে মোনাকোর লামিন কামারাকে। আনুষ্ঠানিকভাবে কথাবার্তাও শুরু হয়। দুইজন খেলোয়াড়কে বিক্রির কথা যখন চলছে, তখন মেক্সিকোর ক্রুজ আজুল থেকে মেক্সিকান মিডফিল্ডার এরিক লিরাকে কেনার জন্য কাজ শুরু করে মোনাকো।

আরও পড়ুন

এভারটনে মেডিকেল চেকআপে বালোগানের কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। যে কারণে কিছুটা সময় চায় এভারটন। কিন্তু এর মাঝেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জশুয়া জিরকজিকে কেনার প্রস্তাব দেয় এভারটন। ইউনাইটেড তাঁকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় আবারও বালোগানের ব্যাপারে কথা শুরু করে এভারটন।

বালোগান বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন ভেবে লামিন কামারাকে বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নেয় এভারটন। ফলে চেলসির সঙ্গে কথাবার্তাও থেমে যায়। কিন্তু বালোগান ততক্ষণে এভারটনের চুপিসারে খেলোয়াড় কেনার চেষ্টার কথা জেনে গিয়েছেন। ফলে এভারটনের অনুশীলনের মাঠ থেকে তিনি ফিরে আসেন মোনাকোতে। ফিরে এসে অভিযোগও করেছেন, এভারটন তাঁর সঙ্গে যেমন ব্যবহার করেছে, তাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানে খেলবেন না তিনি।

ফলাফল? মোনাকো দেনার দায়ে জর্জরিত। না পারল কাউকে কিনতে, না পারল কাউকে বিক্রি করতে। চেলসির মাঝমাঠও রয়ে গেল ফাঁকা, এভারটনেরও। শেষ দিনে এত কিছু করেও লাভের লাভ শূন্য।

আরও পড়ুন
মায়ের সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে দল ছাড়ছেন পাবলো গার্সিয়া।
ছবি: এক্স

দলে থাকার জন্য

দলবদলের মৌসুম এলেই দল ছাড়ার জন্য উঠে পড়ে লাগেন খেলোয়াড়েরা। হুলিয়ান আলভারেজের ঘটনা তো দেখলেই। নতুন দলে যাওয়ার জন্য অনুশীলন না করা, বাজে আচরণ করা নিত্যদিনের ব্যাপার। কিন্তু উল্টো ঘটনা ঘটেছে রিয়াল বেতিসে। দল বিক্রি করে দিলেও যেতে চাইছিলেন না তিনি। উল্টো দলে থাকার জন্য করেছেন কাকুতি-মিনতি।

২০ বছর বয়সী পাবলো গার্সিয়ার পুরো জীবন কেটেছে বেতিসে। ৫ বছর বয়স থেকে শুরু। গত ১৫ বছরে শুধু বেতিসের জার্সিই গায়ে চড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ খবর এল, দানি সেবায়োস যোগ দিচ্ছেন বেতিসে। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর ফ্রি থাকায় তাঁকে কিনতে কোনো খরচই হবে না বেতিসের। কিন্তু দলে তো আর জায়গা নেই। স্যালারি ক্যাপও পূরণ হয়ে যাচ্ছিল। ফলে সেবায়োসকে আনতে হলে কাউকে বিক্রি করতে হতোই। সেই বলি হলেন পাবলো গার্সিয়া। ৫.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লা লিগারই আরেক ক্লাব রেসিং সান্তান্দারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হলো তাঁকে। গভীর রাতে যখন এই খবর পেলেন, গাড়ি নিয়ে ছুটে এলেন মা। নিজ সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আদর করে তুলে নিলেন গাড়িতে। দুইজনেরই চোখে তখন অশ্রু, কাঁদতে কাঁদতেই বেতিসের মাঠকে চিরবিদায় বললেন তিনি।

আরও পড়ুন
এক খেলোয়াড়কে কিনতে শেষ দিন যুদ্ধ করেছে তিন দল।
ছবি: এক্স

এক খেলোয়াড়ের জন্য তিন ক্লাব

মালিক ফোফানাকে কেনার জন্য সবার আগে আগ্রহ দেখিয়েছিল আর্সেনাল। তাদের প্রস্তাব ছিল ৩০ মিলিয়নের। কিন্তু সেই খুশিতে বাগড়া বাধায় সান্ডারল্যান্ড ও ক্রিস্টাল প্যালেস। প্রথমে সান্ডারল্যান্ড আর্সেনালের সমান প্রস্তাব দেন ফোফানার ক্লাব লিওকে। সঙ্গে প্রস্তাবে যুক্ত করেন ফোফানা এবং তাঁর মা-বাবাকেও। এমন প্রস্তাবে রাজিও হন ফোফানা। তখনই ক্রিস্টাল প্যালেস এসে তাঁর জন্য প্রস্তাব দেয় ৩৩.৫ মিলিয়ন ইউরোর। সান্ডারল্যান্ডও কি কম যায়? তারাও একই প্রস্তাব দেয়। সঙ্গে বাড়িয়ে দেয় ফোফানার এজেন্টের কমিশনও। ফোফানা যখন বিমানে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন, তখনো জানেন না কোন ক্লাবের হয়ে খেলবেন তিনি। সান্ডারল্যান্ড একই প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলো ফোফানার বাসায়। সেখানেই ঠিক হয় লাল-সাদাদের হয়েই খেলবেন তিনি। কিন্তু প্যালেস আবারও উড়ে এসে জুড়ে বসে। আরও বড় প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয় তারা। আপাতদৃষ্টে ক্রিস্টাল প্যালেস এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ান উইঙ্গার ফোফানা যোগ দিয়েছেন সান্ডারল্যান্ডেই। দলবদল চুরি করে এগিয়ে থেকেও কোনো লাভ হলো না ক্রিস্টাল প্যালেসের।

আরও পড়ুন
ব্রাজিল থেকে রাশিয়া গিয়েও স্বাক্ষর করতে পারেননি দুই খেলোয়াড়।
ছবি: এক্স

দলবদল না করতে

ধরো, খেলোয়াড়কে কেনার সব আয়োজন সম্পন্ন। কিন্তু এরপর মনে হলো, ওকে না কেনাই ভালো। এমন মনে হলে কী করবে? মেডিকেল চেকআপে আনফিট বলে দেবে।

রাশিয়ার ক্লাব ডায়নামো মস্কো সেটাই করেছে। ব্রাজিলিয়ান লিগের দুই দল, ফ্লামেঙ্গো ও বোতাফোগো থেকে তারা কিনেছিল গঞ্জালো প্লাতা ও ম্যাথেউস মার্তিনস নামের দুজন খেলোয়াড়। চুক্তি অনুযায়ী সব সম্পন্ন হলেও বাকি ছিল দলবদল। কিন্তু মেডিকেলের দোহাই দিয়ে সেই দলবদল বাতিল করেছে ডায়নামো মস্কো। তবে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাশিয়ায় আর খেলোয়াড় বিক্রি করা যাবে না।

আরও পড়ুন