আলভারেজকে না পেয়েই কি হেসুসকে কিনল বার্সেলোনা?
গুঞ্জন তো আর আজ থেকে নয়, সেই গত মৌসুমের শেষ থেকে হুলিয়ান আলভারেজকে কেনার কথা ভাবছে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ ক্লাবটি যতবারই পা বাড়াচ্ছে, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ যেন ততই বেকে বসছে। এত দাম দিয়ে কেনা খেলোয়াড়কে এত সহজে প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে যেতে দেবে না তারা। আলভারেজকে নিয়ে যখন তিন পক্ষের মন–কষাকষি, তখন চুপিসারে নিজেদের আক্রমণের ধার বাড়াতে গাব্রিয়েল হেসুসকে দলে ভেড়ালো বার্সেলোনা।
২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারকে কেনার ব্যাপারে কোনো গুঞ্জনই ছিল না বাজারে। বরং হেসুসের ক্যারিয়ারের শেষ দেখে নিয়েছিলেন অনেকে। ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার পর থেকে আর ফর্মে দেখা যায়নি তাঁকে। পুরোটা সময় ছিলেন নিজের ছায়া হয়েই। সেই খেলোয়াড়কে কেনার জন্য কেউ আগ্রহ দেখাবে, এমনটা আশা করেননি অনেকেই। কিন্তু বার্সেলোনা যেন ত্রাতা হয়ে গেল আর্সেনালের জন্য। ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আর্সেনালের হাত থেকে হেসুসকে পাকাপাকিভাবে নিয়ে যাচ্ছে তারা।
হেসুসকে কেন বেছে নিল বার্সা
বার্সেলোনার আক্রমণভাগ বলতে গেলে একপ্রকার খালিই হয়ে পড়েছে। একদিকে অভিজ্ঞ রবার্ট লেফান্ডফস্কি পাড়ি দিয়েছেন এমএলএসে। অন্যদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেস যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। ‘পিওর নাম্বার নাইন’ হিসেবে খেলার মতো আর কেউ নেই বার্সেলোনা দলে। করিম আদেমায়ি, ফার্মিন লোপেজদের কেন্দ্র করে জোড়াতালি দিয়ে একাদশ সাজানো যাবে বটে। কিন্তু পিওর নাম্বার নাইনের অভাবটা দলে স্পষ্ট।
সেই অভাব পূরণ করতেই হুলিয়ান আলভারেজের পেছনে উঠেপড়ে লেগেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় ব্যর্থ করে দিয়েছে অ্যাটলেটিকো। ফলে বার্সার নজর গিয়েছে গাব্রিয়েল হেসুসের দিকে।
হেসুস আগে কোথায় ছিলেন?
নাম্বার নাইন হিসেবে হেসুসকে হেলাফেলা করবার কোনো কারণ নেই। আর্লিং হলান্ড আসার আগে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ভরসা ছিলেন তিনিই। আর্সেনালে যোগ দিয়েছেন ৫২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। শুরুটা দুর্দান্তই ছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ মৌসুমে লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়ে এক বছরের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। সেই এসিএল চোট থেকে আর ফিরে আসা হয়নি তাঁর। পুরো এক বছর মাঠের বাইরে থেকে যখন ফিরেছেন, তখন হেসুস যেন নিজের ছায়া। চোট থেকে ফিরে ২৪ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ৬ গোল, ২ অ্যাসিস্ট। আর্সেনালও তাঁর বিকল্প পেয়ে যাওয়ায় মিকেল আর্তেতার দলে একপ্রকার ব্রাত্য হয়ে পড়েন তিনি।
এই মৌসুমের শুরু থেকেই তাই তাঁকে বিক্রির চিন্তা করছিল আর্সেনাল। বাজারে দামের থেকেও বেশি তাঁর বেতনের বোঝাটা কমাতে চেয়েছিল তারা। বার্সেলোনা দুয়ারে আসায় তাই সুবিধেই হয়েছে তাদের। মাত্র ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে হেসুসকে বিক্রি করতে পেরেছে আর্সেনাল। কিন্তু বার্সেলোনার জন্য কি তাতে লাভের লাভ কিছু হয়েছে?
হেসুস কতটা ভূমিকা রাখতে পরবেন?
বার্সার কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের ট্যাক্টিকসে সব সময়ই একজন ‘পিওর নাম্বার নাইন’ দরকার হয়, যিনি ডি-বক্সের ভেতরে থেকেই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারবেন। হেসুসের যেমন সেই অভিজ্ঞতা আছে, তেমনই আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতার ভান্ডারও খুলে দিতে পারবেন। তবে ডি-বক্সে দাঁড়িয়ে থেকেই যে তাঁর কাজ শেষ হয়ে যায়, তা কিন্তু নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী ডি-বক্স থেকে নেমে এসে উইঙ্গে যেমন সাহায্য করতে পারেন, তেমনই প্রথম মিনিট থেকে প্রেসও করতে পারেন। বল পায়ে যেমন ডিফেন্সকে নাচাতে পারেন, তেমনই বল ছাড়াও মুভমেন্ট দিয়েও ডিফেন্সে মারপ্যাঁচ লাগাতে পারেন।
এক কথায় বলতে গেলে হ্যান্সি ফ্লিকের ঠিক যে ধরনের স্ট্রাইকার দরকার, একজন নাম্বার নাইন থেকে তিনি যা যা আশা করেন, হেসুসের সামর্থ্য আছে তার সবটা দেওয়ার। শুধু যদি বেরসিক চোটটা আঘাত না হানে। আলভারেজকে না পেয়ে ‘ডেডলাইন ডে’তে হেসুসকে পাওয়া শাপেবরও হতে পারে বার্সেলোনার জন্য।