বিশ্বকাপ থেকে সেলিব্রিটি

দেশের পতাকা হাতে ভোজিনিয়ারয়টার্স

এবারের বিশ্বকাপে একজন রাতারাতি জনপ্রিয় হয়েছেন কিছু না করেই। সেটাও বিশ্বকাপ শুরুর আগেই। বলছিলাম নিউজিল্যান্ডের টিম পেইনের কথা। তাঁর এই জনপ্রিয়তার কথা তিনি নিজেও জানতেন না। পেইনের জনপ্রিয়তার পুরো কৃতিত্ব আর্জেন্টাইন স্ট্রিমার ভ্যালেন স্কারসিনির। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি খুঁজে বের করেছিলেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘অজনপ্রিয়’ খেলোয়াড়কে। ইনস্টাগ্রামে খুঁজে খুঁজে বের করেছেন প্রতিটি খেলোয়াড়কে। সেখান থেকে খুঁজে পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টিম পেইনকে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার ছিল মাত্র ৫ হাজার।

টিম পেইন
ইনস্টাগ্রাম

খোঁজ পাওয়ার পরই বদলে গিয়েছিল পেইনের জীবন। কয়েক দিনের ব্যবধানেই প্রায় ৬০ লাখ মানুষ তাঁর প্রোফাইলে ফলো দিয়েছিলেন। যার থেকে খোদ নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যা কম। তাঁকে ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডকাপ’ ঘোষণা করেছিল ফিফা। কিন্তু এত কিছুর চাপ পেইন নিতে পারেননি ম্যাচে। ছিলেন না তেমন ভালো ফর্মে। দলও প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। যদিও তাঁর জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি। বরং তিনি আছেন তাঁর মতোই।

আরও পড়ুন

আবার কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আছেন মুদ্রার উল্টো পিঠে। তিনি পাদপ্রদীপে এসেছেন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে। প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিলে স্পেনের। সে ম্যাচ ড্র হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ভোজিনিয়ার। দুই দলের পার্থক্য ঘুচিয়ে দিয়েছিল ভোজিনিয়ার একের পর এক সেভ। সেই ম্যাচের পরই বদলে যায় তাঁর জীবন। ইনস্টাগ্রামে হু হু করে বেড়েছে তাঁর ফলোয়ার। ফলোয়াড়ের মতো পারফম্যান্সের গ্রাফও উঠেছে ওপরের দিকে। উরুগুয়ে আর সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে তারা উঠে আসে শেষ ৩২-এ। আর শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনার। বিশ্বজয়ী দল হলেও কেপ ভার্দে ম্যাচ নিয়ে গিয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। দুর্দান্ত খেলেছেন ভোজিনিয়া।

বেশি বয়সে অভিষেকের রেকর্ড ভোজিনিয়ার
এএফপি

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও মানুষের মনে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন ভোজিনিয়া। আর্জেন্টিনা ম্যাচের পর তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা এখন ২ কোটি। ক্যাসিয়াস, বুফন, নয়্যারকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গোলকিপার এখন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপ যেন নতুন আরেকজন সেলিব্রিটি যোগ করল এই আসরে।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন হচ্ছে, এমন হঠাৎ পাওয়া জনপ্রিয়তা ঠিক কতটা ভালো? নাকি জনপ্রিয়তা চড়ে বসে মাথায়। টিম পেইন তাঁর দলের হয়ে খুব যে একটা ভালো খেলতে পেরেছেন, তা কিন্তু নয়। বরং জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন করেছেন বটে। নিউজিল্যান্ডেও হয়ে উঠেছেন তারকা। একই ঘটনা অবশ্য ভোজিনিয়ার ক্ষেত্রে ঘটেনি। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচে একটু থমকে গিয়েছিল তাঁর হাত। উরুগুয়ের বিপক্ষে ২ গোল হজম করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিকই ফিরেছেন ফর্মে। পরপর দুই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন মাথা উঁচু করে।

বয়সটা ৪০ পেরিয়েছে বলে। নইলে এই পারফরম্যান্স দিয়ে শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো একটিতে সুযোগ পেয়ে যেতেন আরামে। দেশে ফিরে তাঁর জন্য জনপ্রিয়তা অপেক্ষা করছে বৈকি। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপও এসে পড়তে পারে তাঁর কাছে। পুরোটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে এই জনপ্রিয়তাকে কীভাবে ব্যবহার করেন তাঁরা, তার ওপরে।

আরও পড়ুন