স্কালোনির নতুন আবিষ্কার বার্কো এখন চেলসিতে
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের একটা দৃশ্য অনেকেরই হয়তো আবছা মনে আছে। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড দল হতাশায় নিমজ্জিত, আর্জেন্টাইন দল দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলার উদ্যাপনে ব্যস্ত। এমন সময় মাঠের মাঝখানে আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়ের মাথায় চড় বসিয়ে দিলেন জুড বেলিংহাম। সঙ্গে সঙ্গেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরো মাঠ।
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় বেলিংহামের মুখের সামনে এসে যেভাবে উদ্যাপন করছিলেন, তাতে মেজাজটা চড়ে গিয়েছিল বেলিংহামের। মেজাজ হারিয়ে চড় মেরে বসেছিলেন সেই খেলোয়াড়কে। ২২ বছর বয়সী সেই খেলোয়াড়ের নাম ভালেন্তিন বার্কো। আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে হারের স্মৃতি দেওয়া বার্কো এখন চেলসির খেলোয়াড়। এই দলবদলের মৌসুমেই ফরাসি ক্লাব স্ট্রসবুর্গ থেকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে তাঁকে দলে টেনেছে লন্ডনের দলটি।
কে এই বার্কো
আর্জেন্টিনায় বার্কোকে ডাকা হয় ‘কোলো’ নামে। লাল চুলের বার্কো বিশ্বকাপ দলে থাকলেও মাঠে নেমেছিলেন শুধু জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে। তরুণ এই খেলোয়াড়কে লিওনেল স্কালোনির নতুন আবিষ্কার বললে খুব একটা ভুল হবে না। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির লেফট ব্যাককে তিনি খুঁজে এনেছিলেন বোকা জুনিয়র্স থেকে। আর্জেন্টিনার লিগে আলো ছড়ানো লেফট ব্যাক এক মৌসুমের জন্য খেলেছেন ব্রাইটনে। সেখান থেকে সেভিয়া, স্ট্রসবুর্গে ধারে খেলে আবারও ফিরছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। তবে এবার দলটার নাম চেলসি।
আর্জেন্টিনা থেকে যে পরিমাণ সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন বার্কো, তা ধরে রাখতে পারেননি ইংল্যান্ড আর স্পেনে। ফরাসি লিগে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল অনেকটা জোর করেই। চাপের মুখে হারিয়ে যাওয়া তরুণ তারকা হওয়ার সব সম্ভাবনা ছিল তাঁর মধ্যে।
স্ট্রসবুর্গে বদলে যাওয়া
ফরাসি ক্লাব স্ট্রসবুর্গে গিয়েই বার্কো বদলে ফেললেন নিজের খেলার ধরন। লেফট ব্যাক ছেড়ে থিতু হলেন মাঝমাঠে। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচের ছন্দ বদলে ফেলার ধরনটা রপ্ত করলেন সহজেই। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝমাঠ থেকে শুরু করে ডিফেন্স কিংবা ওভারল্যাপ করে আক্রমণ—সব জায়গাতেই প্রতিভার ছাপ রেখে যাচ্ছেন ২২ বছর বয়সী বার্কো।
বার্কোকে কেন দরকার পড়ল চেলসির?
মার্ক কুকুরেয়া ছিলেন চেলসির বাঁ প্রান্তের ভরসা। তাঁকে হারিয়ে ফেলার পর চেলসির অবস্থা একপ্রকার দিশাহারাই বলা চলে। ডাচ লেফট ব্যাক জোরেল হাতো ভরসার পাত্র হয়ে উঠতে পারেননি গত মৌসুমে। কুকুরেয়ার অনুপস্থিতিতে তাঁর পারফরম্যান্স বলার মতো নয়। চেলসির যুবদলের খেলোয়াড়েরা কিংবা ধারে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেও কেউ উঠে আসতে পারেননি। ফলে জাবি আলোনসোকে খুঁজতে হয়েছে নতুন মুখ; আর সেই নতুন মুখটাই ভ্যালেন্টিন বার্কো।
জাবি আলোনসো তাঁকে কোন পজিশনে খেলাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। লাল চুলো বার্কোর ওপর বাঁ পাশে ভরসা করবেন, নাকি এনজো ফার্নান্দেজের সঙ্গে মিলে মাঝমাঠ সামলাবেন, তা জানা যাবে মৌসুম শুরু হলেই; কিন্তু জাবি আলোনসোর নতুন মিশনের নতুন নকশায় বার্কো যে বড় ঘুঁটি হবেন, এখনই বলে দেওয়া যায়।
বলা বাহুল্য চেলসি আর স্ট্রসবুর্গ, ইংলিশ চ্যানেলের দুই প্রান্তের দুই ক্লাবের মালিক; কিন্তু একই কোম্পানি—ব্লুকো। গত মৌসুমে মাঝপথে দলে টেনেছিল কোচকে। এই মৌসুমে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে আসছেন ভ্যালেন্টিন বার্কো। এক মালিকের দুই দলের কেনাবেচাটা তাই শুধু খেলোয়াড়কেন্দ্রিক নয়, টেবিলের নিচে কোনো আঁতাত থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।