দ্বিতীয়বার ফিরে কীভাবে রিয়ালকে সাজাচ্ছেন মরিনহো?

‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’—জোসে মরিনহোকে এই নামটা কেউ দেয়নি। নিজে নিজেই নিয়ে নিয়েছিলেন। কাঠখোট্টা কথাবার্তা আর চালচলনের জন্য তিনি বরাবরই আলোচনার তুঙ্গে। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই আলোচনা ছিল, কথার ধার বাড়লেও ট্যাকটিসের ধার কমে গেছে অভিজ্ঞ এই কোচের। অনেকে বলছেন তাঁর খেলার ধরন আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে আর যায় না। তাই তো শীর্ষ পাঁচ লিগ ছেড়ে ফেনারবাচ, বেনফিকায় ফিরে গিয়েছিলেন মরিনহো।

কিন্তু সংকটের দিন ঘনিয়ে আসতেই রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ডেকে পাঠালেন জোসে মরিনহোকে। ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে মরিনহো যোগ দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। বার্সায় গড়া পেপ গার্দিওলার রাজত্ব চুরমার করে রিয়ালকে তুলেছিলেন শীর্ষে। মরিনহোর ক্যারিয়ারে মাদ্রিদই একমাত্র ক্লাব, যেখান থেকে বিদায় নিয়েছেন পুরো চুক্তি সম্পন্ন করে। তাই তো নতুন করে যখন দলকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন হলো, পেরেজ ফিরলেন নিজের পছন্দের সেনানীর কাছে।

মরিনহো আসবেন আর তাঁর মতো করে দল সাজাবেন না, এমনটা হওয়া সম্ভব না। কিন্তু তাই বলে পেরেজের মাদ্রিদের ওপর ছড়ি ঘোরাবেন, তা-ও চলবে না। রিয়াল মাদ্রিদ এবারের বাজারে যেমন বিক্রি করেছে, তেমনই খরচের খাতায় গড়েছে নতুন রেকর্ড। সেটাও মরিনহোর ইচ্ছেতেই। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের মৌসুম শেষে কেমন হলো রিয়াল মাদ্রিদের কেনাবেচা?

আরও পড়ুন
সন্তানতুল্য গঞ্জালো গার্সিয়াকে রিয়াল থেকে নিয়ে গেছেন আরবেলোয়া।
ছবি: এক্স

কাদের ছাড়ল রিয়াল

বিশ্বকাপের পর থেকেই গুঞ্জন ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামে। চুক্তির মাত্র এক বছর বাকি, এর মধ্যে আর্সেনাল তৈরিও ছিল বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে। ব্যাটে–বলে মিললেই হয়তো একটা রেকর্ড গড়া হয়ে যেত। কিন্তু হয়নি। রিয়ালের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছেন ভিনি। বড় তারকাদের মধ্যে চুক্তি শেষ করে দল ছেড়েছেন সাবেক অধিনায়ক দানি কার্ভাহাল, ডেভিড আলাবা ও দানি সেবায়োস। তবে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা করেছে ফুলহাম। সাবেক কোচ আলভেরো আরবেলোয়া যোগ দিয়েছেন সেখানে। আর যোগ দিয়েই কাস্তিয়ায় গড়ে তোলা খেলোয়াড়দের একে একে ডেকে নিয়ে গেছেন। গঞ্জালো গার্সিয়াকে ৪০ মিলিয়নে, সিজার পালাসিওসকে ১০ মিলিয়নে আর মিগুয়েল অ্যাঞ্জেলকে ৩ মিলিয়নে বিক্রি করেছে ফুলহামের কাছে। তিনজনই আরবেলোয়ার মূল সেনানী হতে চলেছেন প্রিমিয়ার লিগে।

আরও পড়ুন
মরিনহোর কথা মানলে দিওমান্দে হয়ে উঠতে পারেন ত্রাস।
ছবি: এক্স

রিয়ালে ভিড়লেন যাঁরা

কেনার তালিকায় প্রথম নামটাই অবাক করবে সবাইকে। ইয়ান দিওমান্দে। আইভরিকোস্টের ১৯ বছর বয়সী তারকাকে কিনতে রিয়াল মাদ্রিদ খরচ করেছে পাক্কা ১২৫ মিলিয়ন ইউরো। এর আগে এত দাম দিয়ে কাউকে দলে ভেড়ায়নি রিয়াল। শুধু রিয়াল না, আফ্রিকান কোনো খেলোয়াড়ের জন্য এত খরচ করেনি কেউ। কিন্তু মরিনহো করেছেন। কারণ, মরিনহোর দলে প্রতিবারই এমন একজন আফ্রিকান খেলোয়াড়কে নিয়ে আসেন, যাঁকে একেবারে শীর্ষে তোলেন তাঁর ট্যাকটিকস দিয়ে। দ্রগবা, ইতোর মতো মরিনহোর কথা মেনে চলতে পারলে দিওমান্দেও একদিন তাক লাগাবেন, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই।

ডানে-বাঁয়ে ডিফেন্সের দুই পাশে কেনা হয়েছে নতুন সেনানী। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা মার্ক কুকুরেয়াকে ৫৫ মিলিয়নে আর নেদারল্যান্ডসের ডেনজেল ডামফ্রিসকে কিনেছে ২০ মিলিয়নে। চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় বের্নাদো সিলভা আর ইব্রাহিমা কোনাতে রিয়ালে এসেছেন কোনো দাম ছাড়াই। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা চুক্তি ছিল কার্লোস এস্পি। এক দিনের নোটিশে লেভান্তে থেকে তাঁকে কিনে এনেছিল রিয়াল। বেঞ্চ থেকে এসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাটা কাজে লাগাতে চেয়েছে রিয়াল। এস্পি সেই ঝলক দেখিয়েছেন প্রথম ম্যাচেই। পুরো রিয়াল এখন এস্পিতে মুগ্ধ।

গ্রীষ্মে রিয়ালের কেনাবেচাটা বেশ ভালোই হয়েছে। কিন্তু কয়েক মৌসুম ধরে যে মাঝমাঠে শূন্যতা। ক্রুস-মদরিচের রেখে যাওয়া জায়গাটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াল। মরিনহো বুদ্ধিমান কোচ, এই ফাঁকা জায়গাটাকে কাজে লাগাবেন অন্যভাবে। চেয়েছিলেন রদ্রিকে, বার্সায় না গিয়ে রিয়ালে আসলে হয়তো রিয়ালের দলবদলে ষোলোকলা পূর্ণ হতো।

আরও পড়ুন