নিলামে বিক্রি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১০ শিল্পকর্ম

বাজারে গেলে বড়দের মুখে প্রায়ই শোনা যায়, সবকিছুর দাম নাকি বেড়ে গেছে! গাড়ি, বাড়ি, এমনকি সবজির দামও নাকি আকাশছোঁয়া! কিন্তু তুমি কি কখনো ভেবে দেখেছ, মানুষ একটা ছবি বা ভাস্কর্য কিনতে কত টাকা খরচ করতে পারে?

নিলাম হলো এমন একটা জায়গা, যেখানে কোনো জিনিসের দাম হাঁকা হয়। যে সবচেয়ে বেশি দাম বলতে পারে, জিনিসটা তার হয়ে যায়! এ রকম নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি ১০টি শিল্পকর্ম নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করব।

থ্রি স্টাডিজ অব লুসিয়ান ফ্রয়েডফ্রান্সিস বেকন, ১৯৬৯

১০. ওম্যান উইথ আ ওয়াচ

পাবলো পিকাসো, ১৯৩২

২০২৩ সালে সোথবি’স-এর নিলামে এই ছবি বিক্রি হয় ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলারে! বিখ্যাত শিল্পী পাবলো পিকাসো এই ছবিতে তাঁর এক বান্ধবী মেরি-থেরেস ওয়াল্টারকে এঁকেছিলেন। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি ছিল।

৯. টুয়েলভ স্ক্রিনস অব ল্যান্ডস্কেপস

চি বাইশি, ১৯২৫

চীনা শিল্পী চি বাইশির আঁকা শিল্পকর্মটি ২০১৭ সালে বেইজিংয়ের এক নিলামে ১৪ কোটি ৮ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। এতে ১২টি আলাদা প্যানেল বা ক্যানভাস রয়েছে। সেখানে শিল্পীর চীন ভ্রমণের দারুণ সব দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

৮. পয়েন্টং ম্যান

আলবার্তো জিয়াকোমেত্তি, ১৯৪৭

এটি কোনো ক্যানভাসে আঁকা ছবি নয়, একটি ভাস্কর্য! ২০১৫ সালে ক্রিস্টিজ অকশন হাউসে এটি ১৪ কোটি ১৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি, আঙুল উঁচিয়ে থাকা এই লম্বাটে ও ছিপছিপে মূর্তিটি সে সময় বিশ্বের সবচেয়ে দামি ভাস্কর্যের রেকর্ড গড়েছিল।

আরও পড়ুন

৭. থ্রি স্টাডিজ অব লুসিয়ান ফ্রয়েড

ফ্রান্সিস বেকন, ১৯৬৯

২০১৩ সালে এটি ১৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এটি তিনটি আলাদা প্যানেলে আঁকা একটি ছবি। শিল্পের ভাষায় একে ট্রিপটাইক বলে। শিল্পী ফ্রান্সিস বেকন তাঁর বন্ধু ও আরেক শিল্পী লুসিয়ান ফ্রয়েডের তিনটি আলাদা রূপ এখানে এঁকেছিলেন।

৬. মডেলস—স্মল ভার্সন

জর্জেস সুরাট, ১৮৮৮

২০২২ সালে ছবিটি বিক্রি হয় ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। জর্জেস সুরাট এটি এঁকেছিলেন পয়েন্টিলিজম পদ্ধতিতে। মানে তিনি তুলির আঁচড় না দিয়ে ক্যানভাসে ছোট ছোট হাজার হাজার রঙের বিন্দু বসিয়ে এই জাদুকরি ছবিটি তৈরি করেছিলেন!

৫. রিক্লাইনিং নিউড—অন হার লেফট সাইড

আমাদিও মোদিগ্লিয়ানি, ১৯১৭

ছবিটি আঁকার প্রায় ১০০ বছর পর, ২০১৮ সালে সোথবি’স-এর নিলামে ছবিটি ১৫ কোটি ৭২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়!

আরও পড়ুন

৪. নু কুশে

আমাদিও মোদিগ্লিয়ানি, ১৯১৭-১৮

একই শিল্পীর আঁকা আরেকটি ছবি এটি। ২০১৫ সালে এটি বিক্রি হয় ১৭ কোটি ৪ লাখ ডলারে! মজার ব্যাপার হলো, ১৯১৭ সালে যখন মোদিগ্লিয়ানির এই ছবিগুলোর প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল, তখন পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দিয়েছিল! কারণ তখনকার দিনে এসব ছবি মানুষের কাছে একটু বেশিই সাহসী মনে হয়েছিল।

৩. উইমেন অব আলজিয়ার্স—ভার্সন ‘ও’

পাবলো পিকাসো, ১৯৫৫

পিকাসো এই থিমের ওপর মোট ১৫টি ছবি এঁকেছিলেন, যাদের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘A’ থেকে ‘O’ পর্যন্ত। এটি ছিল সেই সিরিজের একদম শেষ এবং সবচেয়ে দুর্দান্ত ছবি। ২০১৫ সালে এটি ১৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

২. শট সেজ ব্লু মেরিলিন

অ্যান্ডি ওয়ারহল, ১৯৬৪

আমাদের তালিকার সবচেয়ে নতুন ছবি এটি, যা ২০২২ সালে ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়! বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর একটি ছবি থেকে সিল্কস্ক্রিন পদ্ধতিতে এটি বানানো। এর নামের শুরুতে ‘শট’ কেন জানো? কারণ, ১৯৬৪ সালে একজন পারফরম্যান্স আর্টিস্ট স্টুডিওতে এসে সত্যি সত্যি এই ছবির ক্যানভাসগুলোতে রিভলবার দিয়ে গুলি করে ফুটো করে দিয়েছিলেন! পরে অবশ্য সেগুলো ঠিক করা হয়।

১. সালভাতর মুন্দি: সেভিয়র অব দ্য ওয়ার্ল্ড

লেওনার্দো দা ভিঞ্চি, ১৫০০ সাল

এবার ১ নম্বর এবং সবচেয়ে বড় চমক! ২০১৭ সালে যিশুখ্রিষ্টের এই ছবিটি অবিশ্বাস্য ৪৫ কোটি ৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সমান! ‘সালভাতর মুন্দি’ কথাটির মানে বিশ্বের ত্রাণকর্তা।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার কি জানো? ২০০৫ সালে এই একই ছবি মাত্র ১ হাজার ১৭৫ ডলারে বিক্রি হয়েছিল! কারণ তখন মানুষ জানতই না, এটা খোদ লেওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা। সবাই ভেবেছিল, এটা হয়তো তাঁর কোনো ছাত্রের কাজ! পরে অনেক গবেষণা করে প্রমাণ করা হয়, এটি ভিঞ্চিরই আঁকা।

আরও কিছু বিখ্যাত নাম

এই তালিকার বাইরে আরও কিছু বিখ্যাত ছবি আছে। যেমন, পিকাসোর ‘ইয়ং গার্ল উইথ বাস্কেট অব ফ্লাওয়ার্স’ ১১ দশমিক ৫ কোটি ডলার, ভ্যান গঘের ‘অরচার্ড উইথ সাইপ্রেসেস’ ১১ দশমিক ৭ কোটি ডলার, এডভার্ড মুঙ্কের সেই বিখ্যাত ‘দ্য স্ক্রিম’ ১১ দশমিক ৯ কোটি ডলার এবং পল সেজানের ‘মন্ট সেন্ট-ভিক্টরি’ ১৩ দশমিক ৭ কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে।

মানুষ শিল্পের জন্য কত টাকা খরচ করে, ভাবতে পারো! এত টাকা দিয়ে তো আর আমাদের পক্ষে ছবি কেনা সম্ভব নয়। তাই ইন্টারনেট বা বইয়ের পাতাতেই এই চমৎকার কাজগুলো দেখে আমাদের আনন্দ পেতে হবে!

সূত্র: মিডিয়াম

আরও পড়ুন