স্ট্রেঞ্জার থিংসের শেষ পর্ব: আপসাইড ডাউন হয়ে গেল ‘রাইটসাইড আপ’

স্ট্রেঞ্জার থিংসের শেষ পর্বনিউইয়র্ক টাইমস
যারা এখনো শেষ পর্ব দেখোনি, তারা সিদ্ধান্ত নাও লেখাটা পড়বে কি না। এই লেখায় এমন কিছু তথ্য থাকবে, যা পুরো গল্পটা হয়তো বলবে না, তবে কিছু দৃশ্য, কিছু বর্ণনার কথা থাকবে। স্ট্রেঞ্জার থিংস যাদের দেখা শেষ, তারা মিলিয়ে দেখো তোমার দেখার সঙ্গে মিলল কি না।

বিশাল ভয়ংকর মাকড়সা-দানব, রহস্যে ভরা একটি ব্রিফকেস আর চোখ ভেজানো বিদায়, সব মিলিয়ে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ শেষ হলো। আশির দশকের গল্প নিয়ে পপ কালচারের এই সিরিজ টানা এক দশক দর্শকদের মন দখল করে রেখেছে। এই নেটফ্লিক্স শোটি শেষ সিজনের শেষ পর্ব বের হয়েছে নতুন বছরের প্রথম দিন। শেষ এপিসোডটি দুই ঘণ্টার বেশি দীর্ঘ।

পর্বটি দেখতে গিয়ে অবাক হলাম। মনে করেছিলাম, কেউ না কেউ মারা যাবে। আসলে কেউ মারা গেল না। শেষ পর্বে বন্ধুত্ব আরও শক্ত হলো। একদল ডানজন্স অ্যান্ড ড্রাগনস পাগল কিশোর, শেষ পর্যন্ত হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন করতে পারল। বয়সের তুলনায় এদেরকে মনে হলো একটু ছোট ক্লাসে পড়ে।

আরও পড়ুন

যারা দীর্ঘদিন ধরে এই সিরিজ দেখছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা দেখা শুরু করেছে ২০১৬ সালে। ১০ বছর ধরে এই সিরিজটি দর্শকের আগ্রহ ধরে রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেষ পর্ব নিয়ে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অনেকে দীর্ঘদিন শেষ পর্বে কী হয় দেখার অপেক্ষা করেছে। অপেক্ষার পর্ব শেষ। এসেছে শেষ পর্ব, ‘চ্যাপ্টার এইট: দ্য রাইটসাইড আপ’।

এ পর্বে জীবিত প্রায় সব চরিত্রই হাজির হয়েছে। মিস্টার ক্লার্ক থেকে শুরু করে সবাই। ভেকনা ওরফে হেনরি ক্রিলের বিরুদ্ধে সবাই মিলে লড়াইয়ে নেমেছে।

শেষ পর্বে এত চরিত্র আনা হয়েছে, সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। সিরিজের সহনির্মাতা রস ডাফার আগেই বলেছিলেন, শেষটা যেহেতু শেষই, তাই সেটাকে যতটা সম্ভব বড় করতে চেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের কাছে মনে হয়েছিল, আর একটি চরিত্র ঢোকালে পুরো জিনিসটাই ভেঙে পড়বে। ফলে অনেক পরিচিত মুখ শেষ পর্বে তেমন কোনো সংলাপই পায়নি। সময় আর সুযোগ ছিল না আসলে।

শেষ পর্বে ইলেভেনকে (মিলি ববি ব্রাউন অভিনীত) একটি ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আপসাইড ডাউন ধ্বংস হলেও তার কারণেই কি নতুন কোনো দরজা কি খুলে যাবে? নতুন কোনো ভেকনার জন্ম হবে? এই দ্বিধা জমিয়ে দিয়েছে শেষ পর্বটাকে।

আরও পড়ুন
আপসাইড ডাউনে স্ট্রেঞ্জার থিংসের অভিনেতারা

শেষ পর্যন্ত ইলেভেন একটি কৌশল নেয়। সে ইচ্ছা করেই সবাইকে, এমনকি সবচেয়ে প্রিয় মানুষদেরও বিশ্বাস করায় যে সে মৃত। আসলে সে পাড়ি দেয় দূর ও অজানা এক পথে। নতুন জগতের খোঁজে সে সবাইকে পেছনে ফেলে চলে যায়।

ভেকনার ধ্বংসের গল্পটাও দারুণ। হেনরির ভেকনা হয়ে ওঠার পেছনে ছিল একটি রহস্যময় ব্রিফকেস। ফিনালেতে সেই জট খুলল। এক নাটকে হেনরির শৈশবের দমিয়ে রাখা স্মৃতির মধ্যে এক রহস্যময় ব্রিফকেসের কথা ছিল। সেই ব্রিফকেস দেখা গেল শেষ পর্বে। ব্রিফকেসে ছিল ডাইমেনশন এক্সের কণার নমুনা। যা হেনরির শরীরে ঢুকে তাকে ভেকনায় পরিণত করে। খুলে দেয় আপসাইড ডাউনের দরজা। আর জন্ম দেয় ইলেভেন ও তার ‘সহোদরদের’।

আরও পড়ুন

শেষ পর্বে চোখে পড়ার মতো জিনিস হলো মাইন্ড ফ্লেয়ার। ভেকনার সঙ্গে যুক্ত এক ভয়ংকর সত্তা। এই পর্বে পূর্ণোদ্যমে সে হাজির ছিল। এক বিশাল মাকড়সার মতো দেখতে এই মাইন্ড ফ্লেয়ার। ডাইমেনশন এক্সে সে হকিন্সের নায়কদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে; কিন্তু সবাই মিলে তাকে শেষমেশ হারিয়ে দেয়। ন্যান্সি হুইলারের (নাটালিয়া ডায়ার অভিনীত) বন্দুক হাতে করা গুলি আর উইল বায়ার্সের (নোয়া শ্ন্যাপ অভিনীত) নতুন জাদুকরি ক্ষমতা শেষ পর্বে বিশেষভাবে চোখে পড়েছে।

ঠিক যখন মনে হয়—সব শেষ, তখনই দেখলাম, এখনো অন্তত ৪০ মিনিট বাকি! এই দীর্ঘ সময়ে চরিত্রগুলোর পরিণতি গুছিয়ে আনা হয়েছে। হপার (ডেভিড হারবার) অবশেষে জয়ের সঙ্গে বহুদিনের না যাওয়া ডেট নাইটে যায়। এক হাঁটু গেড়ে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে বসে। হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনের দৃশ্যে ডাস্টিন (গেটেন মাতারাজ্জো অভিনীত) যা করে, সেটি হাস্যকর।

সত্যিই আপসাইড ডাউন থেকে রাইটসাইড আপ হয়ে গেছে এই পর্ব। দেখলে দেখতে পারো। রিকমেন্ডেড।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন