জাপানের মঞ্চে কিআর গল্প

মুনিয়ার মুখে এ কথা শুনে চোখ থেকে দরদর করে পানি পড়তে শুরু করল দর্শকসারিতে বসে থাকা নানা দেশের দর্শকদেরআয়োজকদের সৌজন্যে

মুনিয়া প্রতিদিন রাতেই মাকে খুঁজে বের করে আকাশে। কখনো তারাদের মধ্যে, কখনো চাঁদের শরীরে। তারপর মাকে দেখে সারা রাত। শুধু যেদিন আকাশে মেঘ করে, অনেক কষ্টেও যখন তারাদের খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন ও চলে যায় বাসার পেছনের শিউলিগাছের কাছে। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে গাছকে ফিসফিস করে বলে, ‘ডু ইউ ওয়ানা নো আ সিক্রেট? বাট ইউ হ্যাভ টু প্রমিস মি ইউ ওন্ট টেল এনিওয়ান। ইটস আ সিক্রেট বিটুইন মি অ্যান্ড মাই মম…অ্যান্ড ইউ। মি অ্যান্ড মাই মম, বোথ আর…’

মুনিয়ার মুখে এ কথা শুনে চোখ থেকে দরদর করে পানি পড়তে শুরু করল দর্শকসারিতে বসে থাকা নানা দেশের দর্শকদের। কেউ কেউ চোখ মুছতে শুরু করল। মঞ্চে তখন বাজছে জ্যাক ব্রায়ানের ‘পিংক স্কাইজ’ গানটি।

কিন্তু মুনিয়াটা কে? একটু একটু পরিচিত নামটা? কিআর পুরোনো পাঠকদের কাছে মুনিয়ার গল্পটা কিছুটা পরিচিত হয়তো। ২০২১ সালে কিআর পাতায় প্রকাশিত গোলাম মমীতের লেখা ‘একটা গোপন কথা’ গল্পের মূল চরিত্র মুনিয়া। কিআয় প্রকাশিত এই গল্পের আলোকে জাপানের রিতসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে (এপিইউ) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ উইক ২০২৬’-এর শেষ দিনে মঞ্চায়িত হয় নাটক ওয়ানা নো আ সিক্রেট?। নাটকের গল্প বলার আগে বাংলাদেশ উইকটা কী, সেটা তোমাদের বলি।

পাহাড় আর সাগরঘেরা বেপ্পু শহরের এক পাহাড়ের ওপরে এই বিশ্ববিদ্যালয়। মেঘের ওপর বিশাল বড় এই ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করতে আসেন ১০০টির বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা। এত এত দেশের মানুষ যেখানে আছেন, সেখানকার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেই সুবাদে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর আয়োজন করেন ‘মাল্টিকালচারাল উইক’। ‘বাংলাদেশ উইক’-এর আয়োজনটাও তারই অংশ। ৬ জুলাই থেকে শুরু করে ১০ জুলাই অবধি পুরো ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছিল ছোট্ট এক বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন
বাংলাদেশের রূপকথা ও পৌরাণিক চরিত্রগুলো ছিল গ্র্যান্ড শোর মূল চরিত্র।
আয়োজকদের সৌজন্যে

সপ্তাহজুড়ে ছিল বাংলাদেশি খাবারের আয়োজন ও মেহেদি উৎসব। ৭ জুলাই বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় নব্বইয়ের দশকের বাংলা ছায়াছবির থিমে মিউজিক্যাল শো। ৯ জুলাই সন্ধ্যায় ছিল ‘দেশি মুভি নাইট’, দেখানো হয় নুহাশ হুমায়ূনের পেট কাটা ষ।

১০ জুলাই ছিল সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘গ্র্যান্ড শো’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে সন্ধ্যাটা শুরু হয় রবীন্দ্রনাথের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ গানে কয়ারের মাধ্যমে। বাংলাদেশের রূপকথা ও পৌরাণিক চরিত্রগুলো ছিল গ্র্যান্ড শোর মূল চরিত্র। ফ্যাশন শোতে দেখা যায় বনবিবি, দক্ষিণ রায়, জলপরি, বেহুলা-লখিন্দর, মনসা, বেদের মেয়ে ও শাঁকচুন্নির মতো রূপকথার চরিত্রদের। ফ্যাশন শো শেষে শুরু হয় মঞ্চনাটক ওয়ানা নো আ সিক্রেট?।

মুনিয়ার গল্পটা তাহলে শোনো। একরাতে হঠাৎ ছোট্ট মুনিয়ার মা অসুস্থ হয়ে পড়ে। মুনিয়াকে বাসায় একা রেখে সবাই মাকে নিয়ে চলে যায় হাসপাতালে। মন খারাপ করে মুনিয়া একাই বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়, মায়ের খোঁজে। একে একে দেখায় হয় কানাভুলা, ডাইনি বুড়ি, কাপ্পা, স্প্রাইট ও খোক্ষসের সঙ্গে। ‘আবার জিগায়’ গানে জাপানিজ ভূত ‘কাপ্পা’দের নাচ কিংবা ‘এ হাওয়া’ গানে যাত্রা, ঘটতে থাকে একের পর ঘটনা। সবাই যাচ্ছে ভালেতে, সঙ্গে যোগ হয় মুনিয়া। তারপর…?

আরও পড়ুন
জাপানের রিতসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে (এপিইউ) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ উইক ২০২৬’
আয়োজকদের সৌজন্যে

কিআর পাতায় থাকা গল্পের চরিত্রগুলো সেই সন্ধ্যায় উঠে এসেছিল দূরদেশের এই মঞ্চে। চরিত্রগুলো সেদিন দেশি-বিদেশি দর্শকদের যেমন হাসিয়েছে, একই সঙ্গে কাঁদিয়েছে। ফ্যান্টাসি এই গল্পের মধ্য দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পরিচিত হয় ‘কানাভুলা’, ‘ডাইনি বুড়ি’ কিংবা খোক্ষসের মতো বাংলাদেশের রূপকথার চরিত্রগুলোর সঙ্গে। দর্শকদের হাসি ও কান্না জানান দিচ্ছিল কতটা উপভোগ্য ছিল পুরো শো।

গল্পের লেখক গোলাম মমীত নিজেই ছিলেন নির্দেশনার দায়িত্বে, সঙ্গে ছিল পুরো গ্র্যান্ড শো টিম। স্ক্রিপ্ট, সাউন্ড, লাইট, প্রপস, মেকআপ, কোরিওগ্রাফি, অভিনয়সহ সবকিছুই সামলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা। পাতায় থাকা এই গল্প মঞ্চে তুলে আনতে দীর্ঘ সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন একদল শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ উইকের আমন্ত্রণে গ্র্যান্ড শোতে উপস্থিত জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দারুণ এই আয়োজনের পেছনে কাজ করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শেষ করার আগে মুনিয়ার গল্পটা তো পুরোপুরি বলতে পারলাম না। এর আগেই পুরো পাতা ভর্তি হয়ে গেল। ‘একটা গোপন কথা’ গল্পের বাকি অংশটা তোমরা চাইলে পড়ে ফেলতে পারো কিশোর আলোর ওয়েবসাইটে। এক্ষুনি এক্ষুনি!

আরও পড়ুন