শিশুদের জন্য ইলেকট্রিক ব্রাশ কেনার আগে যা জানতে হবে

ব্রাশ কেনার সময় দেখতে হবে মজার কিছু আছে কি নামিডজার্নি

আমাদের দাঁতগুলো যেন মুক্তার মতো ঝকঝকে থাকে, এটাই আমাদের সবার চাওয়া। আর দাঁত ভালো রাখার সবচেয়ে মজার উপায় হতে পারে ইলেকট্রিক টুথব্রাশ! সাধারণ ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা অনেক সময় বোরিং লাগতে পারে। কিন্তু ইলেকট্রিক ব্রাশে আসতে পারে নতুনত্ব। তবে ব্রাশ কেনার আগেই কয়েকটি বিষয় দেখে নিতে হবে।

প্রথমেই দেখতে হবে তোমার বয়স কত। কারণ, ৩ বছরের বাচ্চার ব্রাশ আর ১০ বছরের বাচ্চার ব্রাশ এক হবে না। তোমার বয়স যদি তিন থেকে ছয় বছর হয়, তবে তোমার দরকার ছোট্ট মাথার একটা ব্রাশ। ব্রাশের লোমগুলো বা ব্রিসলগুলো হবে খুব নরম। আর সবচেয়ে জরুরি হলো টাইমার। মানে ব্রাশটা তোমাকে বলে দেবে কখন ৩০ সেকেন্ড বা ২ মিনিট শেষ হলো। তখন তুমি মুখের অন্য পাশে ব্রাশ করবে।

আবার বয়স ৬ থেকে ৯ বছর হলে দরকার প্রেসার সেন্সর। মানে তুমি যদি খুব জোরে দাঁত ঘষতে থাকো, ব্রাশটি তখন সংকেত দেবে বা থেমে যাবে। এতে তোমার মাড়ি ব্যথা পাবে না।

আরও পড়ুন

বয়স ১০ বছরের বেশি হলে তোমার ব্রাশে ক্লিনিং মোড বা বিভিন্ন স্টাইল থাকতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ব্রাশটা যেন খুব বেশি জোরে না কাঁপে।

ব্রাশ কেনার সময় দেখতে পারো, তাতে মজার কিছু আছে কি না। অনেক ব্রাশে রঙিন আলো জ্বলে, গান বাজে, এমনকি স্টিকারও থাকে। কোনো কোনো ব্রাশ আবার সুপারহিরোদের ছবিওয়ালা হয়। অ্যাপ দিয়ে মোবাইলের সঙ্গে যুক্ত করা যায় এমন ব্রাশও আছে। এসব ব্রাশ তোমাকে গেমের মতো করে ব্রাশ করতে শেখাবে। ছোটদের ব্রাশ মজার হলে দাঁত মাজার আগ্রহ বাড়তে পারে।

ধরো, তোমার ব্রাশটা খুব সুন্দর, কিন্তু হাতে ধরতে তোমার কষ্ট হচ্ছে কিংবা ওটার যান্ত্রিক শব্দে তুমি ভয় পাচ্ছ। তাহলে কিন্তু বিপদ! তাই কেনার আগে ব্রাশটা হাতে নিয়ে দেখো। ব্রাশের হ্যান্ডেলটা কি তোমার ছোট হাতে ঠিকঠাক আঁটছে? পিচ্ছিল নয় তো? শব্দটা কি খুব জোরে ভনভন করছে, নাকি শান্ত? বেশি শব্দ হলে অনেক সময় ভয় লাগতে পারে। তাই যেটা তোমার হাতে মানাবে এবং শব্দে তুমি আরাম পাবে, সেটাই তোমার জন্য সেরা।

আরও পড়ুন

শুধু ইলেকট্রিক ব্রাশ কিনলেই কিন্তু খরচ শেষ নয়। এর মাথাটা তিন-চার মাস পরপর বদলাতে হয়। তাই কেনার আগে মা-বাবাকে দেখতে হবে ওই ব্রাশের বাড়তি মাথাগুলো বাজারে সহজে পাওয়া যায় কি না এবং সেগুলোর দাম কেমন। আর হ্যাঁ, ব্রাশটা টেকসই কি না, সেটাও দেখতে হবে। কারণ, হাত থেকে পড়ে গেলেই যদি ভেঙে যায়, তবে তো সমস্যা! ভালো মানের ব্রাশ চেনার জন্য প্যাকেটের গায়ে ‘ADA’ সিল বা অনুমোদিত চিহ্ন আছে কি না দেখে নিতে পারো।

সবশেষ কথা হলো দাম। কার্টুন চরিত্র বা সুপারহিরোর ছবি থাকলে অনেক সময় ব্রাশের দাম একটু বেশি হয়। তাই হুট করে না কিনে একটু খোঁজখবর নিয়ে কেনা ভালো। অনেক সময় অনলাইনে বা দোকানে ছাড় থাকে। মা-বাবাকে বলবে একটু যাচাই করে সেরা ব্রাশটা খুঁজে বের করতে।

সঠিক ব্রাশ ব্যবহার করলে তোমার দাঁত থাকবে সুস্থ, আর এই সুন্দর হাসিটা টিকে থাকবে সারা জীবন!

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

আরও পড়ুন