বাজি ধরে পুকুরে ১০০ ডুব দিয়ে মৃত্যু হলো কেন
তোমরা হয়তো এই খবরটা পড়েছ বা ভিডিও দেখেছ। ২৫ ডিসেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুরে ৫০০ টাকা বাজি ধরে ঠান্ডা পানিতে খালে টানা ১০০ বার ডুব দেন বাবুল মোল্লা নামের এক কৃষক। তিনি সব ডুব শেষ করে পানির ওপরে উঠে আসেন। কিন্তু উঠেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটা শুনে অনেকেরই মনে প্রশ্ন এসেছে, পানির ওপরে উঠে এসেও কি মানুষ মারা যেতে পারে? বিশেষ করে শীতে?
উত্তর হলো, হ্যাঁ, পারে। শীতের পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে শরীর হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয় এবং হৃদ্যন্ত্রের ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। একে বলা হয় কোল্ড শক। এই অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস এলোমেলো হয়ে যেতে পারে, হার্টবিট স্বাভাবিক ছন্দ হারাতে পারে। আবার ১০০ বার ডুব দেওয়ার মানে শরীর থেকে প্রচুর শক্তি ও অক্সিজেন বেরিয়ে যাওয়া। ঠান্ডা পানিতে পেশিগুলো দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীর আর ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে পানির ওপরে ওঠার পরও শরীর সেই ধাক্কা সামলাতে ব্যর্থ হতে পারে।
এই ঘটনাটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাহস দেখানোর বাজি কখনোই নিরাপদ নয়। শীতের পানি খেলনা নয়, আর জীবন প্রমাণ করার বিষয়ও নয়। একটু বেপরোয়া সিদ্ধান্ত, সামান্য টাকার লোভ, মুহূর্তের মধ্যে একটা জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।
শীতে তাই কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। খুব ঠান্ডা পানিতে হঠাৎ নামা ঠিক নয়। শরীর গরম না থাকলে পানিতে নামা বিপজ্জনক। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা বা বারবার ডুব দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। শীতে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়, তাই নিজের সীমা বোঝা খুব দরকার। আর কোনো অবস্থাতেই বাজি, চ্যালেঞ্জ বা ভিডিও বানানোর জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক নয়।
শীত মানে শুধু কম্বল আর কুয়াশা না। শীত মানে বাড়তি সতর্কতা। তাই আমাদের জানতে হবে, শীতে কী করব, কী করব না।
যা যা করব
• পানিতে নামার আগে শরীর গরম করব।
• সাঁতার কাটলে অল্প সময় কাটব। পানিতে কাজ করলে কম সময় ধরে করতে হবে।
• অসুস্থ বা খুব ক্লান্ত অবস্থায় পানিতে নামব না।
• শিশু ও কিশোরদের পানিতে নামার সময় নজর রাখব।
যা করব না
• খুব ঠান্ডা পানিতে হঠাৎ ঝাঁপ দেব না।
• বারবার ডুব দেওয়া বা দীর্ঘ সময় পানিতে থাকব না।
• বাজি, চ্যালেঞ্জ বা ভিডিও বানানোর জন্য ঝুঁকি নেব না।
• একা একা গভীর পানিতে নামব না।
শীতকালে আমরা বেড়াতে যেতে পছন্দ করি। লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে শীতে ঘুমানোর মধ্যেও আনন্দ আছে। তাই শীতকালে নিজেকে নিরাপদ রেখে যে আনন্দ করা যায়, সেটুকুই আমরা করব। বেপরোয়া হয়ে এমন কোনো কাজ করব না, যা আমাদের জীবনকে অনিরাপদ করে।
আর সতর্ক থাকলেই জীবন থাকবে নিরাপদ।