ইউএসএআইডির ফান্ড বন্ধ, ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কি বাড়বে

ইউএসএআইডি’র পতাকাছবি: রয়টার্স

ইথিওপিয়া, বুরুন্ডি, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন। আফ্রিকার এই দেশগুলো বছরের পর বছর ধরে ম্যালেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করছে।

আফ্রিকা মহাদেশে ম্যালেরিয়া মানুষের মৃত্যুর প্রধানতম কারণ। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষা করতে বহু গবেষক জীবন উৎসর্গ করেছেন। এমনই একজন বিজ্ঞানী জেনি কার্লসন ডনেলি। আফ্রিকার এই দেশগুলোতে বহু বছর ধরে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। পেশায় তিনি একজন কীটতত্ত্ববিদ। মশা নিয়ে গবেষণা করাই ছিল তাঁর কাজ। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ম্যালেরিয়া ঠেকিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির প্রেসিডেন্টস ম্যালেরিয়া ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। ২৭টি দেশে ছিল তাঁর কাজ। বিজ্ঞানী জেনি কার্লসন ডনেলির মতে, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর দুটি কৌশল আছে। একটি হলো কীটনাশকযুক্ত মশারি, যা মানুষের বিছানার ওপর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আরেকটি হলো মানুষের ঘরের ভেতরে ঢুকে কীটনাশক স্প্রে করা। এই দুই পদ্ধতিই নির্ভর করে সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর। কোথায় কোন ধরনের মশা আছে, এগুলো কেমন আচরণ করছে, আর কোন কীটনাশকে এরা মারা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

ইউএসএআইডি সরাসরি মাঠে কাজ করত না। তারা অর্থ দিত বিভিন্ন অংশীদার সংস্থাকে, যারা স্থানীয় মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে কাজ করাত। জেনির দায়িত্ব ছিল এই পুরো ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেখা। বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা মশার তথ্য বিশ্লেষণ করতেন, নিজের চোখে দেখতেন লার্ভা ঠিকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না। পানিতে থাকা মশার লার্ভা সঠিকভাবে শনাক্ত হচ্ছে কি না, যাচাই করতেন তিনি। পাশাপাশি মশার ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা হতো, ঠিক কোন প্রজাতি ম্যালেরিয়ার পরজীবী ছড়াচ্ছে।

আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল কীটনাশকে মশা এখনো সংবেদনশীল আছে কি না, তা পরীক্ষা করা। কারণ, মশা যদি প্রতিরোধী হয়ে যায়, তাহলে কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। জেনি শুধু ল্যাব আর ডেটার মধ্যেই আটকে ছিলেন না। বিদেশি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে তিনি এসব তথ্য ব্যাখ্যা করতেন, বোঝাতেন কোন সংখ্যার মানে কী, এই তথ্যের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এই কাজের মধ্যেই একদিন সব শেষ হয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাজেট কাটছাঁট করল। ইউএসএআইডি ছিল প্রথম সংস্থাগুলোর একটি, যাদের কাজ গুটিয়ে নিতে হয়েছে। বিজ্ঞানী জেনি জানতেন, তাঁর চাকরি চলে যাবে। কিন্তু কখন, কীভাবে যাবে, তিনি জানতেন না। গত জুলাইয়ে তাঁর চাকরি শেষ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

জেনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছিল, আমার পুরো ক্যারিয়ারটাই শেষ। এই জায়গায় পৌঁছাতে আমি বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছি। আর কখনো আমি ইউএসএআইডিতে কীটতত্ত্ববিদ হিসেবে কাজ করতে পারব না, এটা মেনে নেওয়া আমার জন্য ভয়াবহ কঠিন।’

অনেক বছরের গবেষণা আর বিনিয়োগ হঠাৎ থেমে গেছে। বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। ল্যাবরেটরি আর ইনসেক্টারি তৈরি করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ওই দেশগুলো যেন নিজেরাই ভবিষ্যতে তথ্য সংগ্রহ আর বিশ্লেষণ চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এত দ্রুত সব শেষ হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারগুলোর পক্ষে হঠাৎ করে অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।

ইউএসএআইডির প্রকল্প ছিল এমন দেশগুলোর সামনে হয়তো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। ম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলো ঠেকানোর জন্য বৈজ্ঞানিক প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব কখনো কমবে না। কারণ, এর সঙ্গে মানুষের জীবনের প্রশ্ন জড়িত।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

আরও পড়ুন