মহাকাশে কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ তৈরি করে ভিডিও করেছে দুই নভোযান
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) সম্প্রতি প্রকাশ করেছে একটি টাইম-ল্যাপ্স ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, সূর্যের চারপাশ থেকে একের পর এক তিনটি বিশাল প্লাজমার ফোয়ারা মহাকাশে ছিটকে যাচ্ছে। ভিডিওটি ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মহাকাশ মিশন প্রোবা-৩। এই ভিডিও ধারণ করতে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এক ধরনের ‘কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ’।
প্রোবা-৩ আসলে দুটি আলাদা মহাকাশযানের সমন্বয়ে গঠিত। একটি নভোযানের নাম ‘অক্কাল্টার’, অন্যটির নাম ‘করোনাগ্রাফ’। অক্কাল্টার সূর্যের মাঝখানের খুব উজ্জ্বল অংশটিকে ঢেকে দেয়। আর করোনাগ্রাফ সেই আড়ালের পেছনে থেকে সূর্যের বাইরের আবরণ করোনা অঞ্চলকে খুব স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করে। ঠিক যেমন পৃথিবী থেকে সূর্যগ্রহণের সময় আমরা সূর্যের চারপাশের আলোর বলয় দেখতে পাই।
এই ভিডিওটি আসলে টানা পাঁচ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণের ফল, যা মাত্র চার সেকেন্ডে দেখানো হয়েছে। হলুদ রঙে ফুটে উঠেছে সূর্যের করোনা, আর তার মাঝখানে যুক্ত করা হয়েছে নাসার সোলার ডায়নামিক্স অবজারভেটরি থেকে তোলা সূর্যের পৃষ্ঠের ছবি। দুটি আলাদা উৎসের তথ্য একত্রে ব্যবহারের ফলে বিজ্ঞানীরা সূর্যের ভেতরের কার্যকলাপ আর বাইরের অঞ্চলের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন।
ভিডিওতে যে তিনটি বিস্ফোরণের মতো দৃশ্য দেখা যায়, সেগুলো প্রথম দেখায় সোলার ফ্লেয়ারের মতো মনে হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এগুলো আসলে সোলার প্রমিনেন্স। যেগুলো সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে উঠে আসা এই বিশাল প্লাজমার লুপ। হঠাৎ মহাকাশে ছিটকে পড়ে। প্রমিনেন্সের শক্তি শক্তি সোলার ফ্লেয়ারের চেয়ে তুলনামূলক কম। এই প্রমিনেন্সগুলোর দেখা পাওয়া কঠিন। তাই সূর্য নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এগুলো বিশেষ কাজে লাগছে।
বাইরে থেকে উজ্জ্বল মনে হলেও এই প্রমিনেন্সগুলোর তাপমাত্রা করোনার তুলনায় অনেক কম। প্রায় ১০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ সূর্যের করোনার তাপমাত্রা প্রায় ১০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি। কেন সূর্যের বাইরের এই আবরণ এত বেশি উত্তপ্ত, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এমন ভিডিও বিজ্ঞানীদের কাজে লাগছে।
প্রোবা-৩ মিশন এরই মধ্যে ৫০টিরও বেশি কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছে। সামনে আরও বহু পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূর্য বর্তমানে নিজের সবচেয়ে সক্রিয় সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যাকে বলা হয় ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’। এই সময় সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে সৌরঝড় পৃথিবীর ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স