তারকাদের পছন্দের আইসক্রিম
আইসক্রিম খেতে কার না ভালো লাগে? গরমের দিনে ঠান্ডা ঠান্ডা আইসক্রিম খেয়ে গলা বসিয়ে ফেলা কিংবা শীতকালে ঠান্ডা লাগানোর মতো ঘটনা তো কমবেশি সবার জীবনেই আছে। আইসক্রিম খেতে গিয়ে মা–বাবার বকা শুনতে হয়েছে, তবু আইসক্রিমের প্রতি ভালোবাসা কমেনি বিন্দুমাত্র। অনেক সময় মা-বাবা হয়তো বলেন, আইসক্রিম খেয়ো না। তোমার পছন্দের খেলোয়াড় কিন্তু আইসক্রিম খায় না।
প্রথম প্রথম শুনে সত্যি মনে হতে পারে। কারণ, খেলোয়াড়দের থাকতে হয় কড়া ডায়েটে। সেখানে প্রতিটি খাবারদাবার হিসাব-নিকাশ করে খেতে হয় তাঁদের। সেখানে আইসক্রিম খাওয়া তো বিলাসিতা। তাই বলে তাঁদের জীবনে আইসক্রিমের স্বাদ যে একেবারেই অনুপস্থিত, তা কিন্তু নয়; বরং খেলোয়াড়েরাও আইসক্রিম খান, সেটা লুকিয়ে হোক কিংবা ডায়েট থেকে সামান্য বিরতি নিয়ে ‘চিট ডে’ করে হোক। আইসক্রিমের প্রতি আলাদা ভালোবাসা আছে সবারই।
দুনিয়ার বড় বড় খেলোয়াড়ের পছন্দের খাবারের তালিকায় থাকে আইসক্রিম। কার কোন ধরনের আইসক্রিম পছন্দ, দেখে নাও একনজরে।
লিওনেল মেসি: আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ভীষণ ভালোবাসেন মিষ্টি খেতে। তবে আইসক্রিমের মধ্যে তাঁর পছন্দ দুলচে দে লেচে, যা মূলত দুধ ও চিনি দিয়ে তৈরি একধরনের বিশেষ আর্জেন্টাইন ক্যারামেল ফ্লেভার।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: ফিটনেস নিয়ে অসম্ভব সচেতন হলেও রোনালদো কিন্তু লুকিয়ে আইসক্রিম খান। ছেলের সঙ্গে তাঁকে আইসক্রিম খেতে দেখা যায় মাঝেমধ্যেই। তবে তাঁর পছন্দ পর্তুগিজ চেরি লিকার ‘জিঞ্জা’। এটি মূলত একধরনের পানীয়। তবে সেটাকে জমিয়ে চেরি আইসক্রিম হিসেবেও খাওয়া যায়।
বিরাট কোহলি: ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে কড়া ডায়েট পালন করেন বিরাট কোহলি। তাঁর খাওয়ার পানি পর্যন্ত আসে নির্দিষ্ট একটি উৎস থেকে। তাই আইসক্রিমের বেলায়ও তিনি বেশ শৌখিন। ক্ল্যাসিক কাসাটা আইসক্রিম তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, যা বিভিন্ন লেয়ারের ফ্লেভারে ঠাসা থাকে।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল: মাঠের ভেতরে ম্যাক্সওয়েলের মতো দুর্দান্ত ফিল্ডার খুব কমই আছে। এক হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে ক্যাচ নিতে দেখেছে সবাই। কিন্তু ম্যাক্সওয়েল একবার এক হাতে ক্যাচ ধরে এসেছিলেন শিরোনামে। কারণ, তাঁর আরেক হাতে ধরা ছিল একটি চকলেট ফ্লেভারের কোন আইসক্রিম। এর পাশাপাশি ভ্যানিলা আইসক্রিমও পছন্দ তাঁর।
স্টিভ স্মিথ: সেঞ্চুরি করলে কীভাবে উদ্যাপন করবে? কেউ হয়তো সেদিন রাতে একটু আনন্দ করবে ‘চিট মিল’ দিয়ে। স্টিভ স্মিথ সেটা করেন ক্যাডবেরির মিল্ক চকোলেট বার দিয়ে।
বেন স্টোকস: ইংলিশ ক্রিকেটার বেন স্টোকসের কাছে আইসক্রিম মানেই হলো মিন্ট চকলেট চিপ আইসক্রিম।
কেন উইলিয়ামসন: শান্ত স্বভাবের কিউই অধিনায়ক মাঝেমধ্যেই ব্রেনকে একটু ফ্রিজ করে ফেলেন আইসক্রিম খেতে খেতে। পছন্দের ভ্যানিলা এবং ন্যাচারাল ফ্রুট ফ্লেভারের আইসক্রিম খেয়েই বুঝি মাথা এতটা শান্ত রাখতে পারেন তিনি।
এবি ডি ভিলিয়ার্স: ২২ গজের পিচে ডি ভিলিয়ার্সের শটের অভাব নেই; কিন্তু আইসক্রিমের জগতে তাঁর পছন্দ একেবারেই সাধারণ। তাঁর কাছে চিট মিল মানেই দুই স্কুপ ভ্যানিলা আইসক্রিম।
রজার ফেদেরার: কখনো কোনো খেলোয়াড়কে মাঠের মধ্যে আইসক্রিম খেতে দেখেছ? রজার ফেদেরার খেতেন। টেনিস কোর্টের মধ্যেই তাঁকে দেখা গিয়েছে চকোলেট খেতে, স্ট্রবেরি ফ্লেভারের আইসক্রিম খেতে। এই দুই ধরনের আইসক্রিমই তাঁর বেশি পছন্দ।
রাফায়েল নাদাল: নাদালও ট্রেনিংয়ের মাঝখানে ভরপুর আইসক্রিম খেতেন। তাঁর অবশ্য পছন্দ ভ্যানিলা আইসক্রিম। এ ছাড়া চক আইস নামে একধরনের চকলেটের ঠান্ডা বার পাওয়া যায়। নাদাল সেই চকলেট আইসক্রিম দেখলে ডায়েটের কথা একদম ভুলে যান।
সেরেনা উইলিয়ামস: টেনিস কুইনখ্যাত সেরেনা উইলিয়ামস আইসক্রিমের অনেক বড় ভক্ত। বিভিন্ন ফ্লেভারের আইসক্রিম পছন্দ তাঁর। ক্রাঞ্চি বাটার পেকান, মিষ্টি ক্যারামেল, গ্রিন টি আইস ক্রিম আছে তাঁর পছন্দের তালিকার শীর্ষে।
লেব্রন জেমস: বাস্কেটবল কিং লেব্রন জেমস একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি তাঁর শরীরের এনার্জি ফিরে পান আইসক্রিম খেয়ে। তাঁর সব সময়ের পছন্দ হলো অনেকগুলো বিস্কুটের টুকরা মেশানো কুকিজ অ্যান্ড ক্রিম আইসক্রিম।
উসাইন বোল্ট: বিশ্বের দ্রুততম মানব বোল্ট ফলমূলের ফ্লেভার বেশি পছন্দ করেন। তাঁর পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে থাকে পিস্তাচিও আইসক্রিম। সোজা বাংলায় বললে পেস্তাবাদাম ফ্লেভারের আইসক্রিম।
লুইস হ্যামিল্টন: ফর্মুলা ওয়ান রেসার লুইস হ্যামিল্টন সম্পূর্ণ ভেগান জীবন যাপন করেন। তাই তিনি শুধু উদ্ভিদজাত উপাদান দিয়ে তৈরি ভেগান ভ্যানিলা আইসক্রিম খান। তবে মাঝেমধ্যে তাঁকে ডার্ক চকলেট ও বিভিন্ন ফলের ফ্লেভারের আইসক্রিম খেতেও দেখা গেছে।