একটি নোবেল পুরস্কার সর্বোচ্চ কতজনের মধ্যে ভাগ করা যায়
ধরো, তোমরা পাঁচ বন্ধু মিলে এমন একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করলে, যা সারা পৃথিবীর মানুষের উপকারে আসবে। তোমাদের আবিষ্কারের জন্য যদি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়, তাহলে কি পাঁচজনই পুরস্কার পাবে? শুনতে অবাক লাগলেও উত্তর হলো, না। নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী, একটি নোবেল পুরস্কারের অর্থ সর্বোচ্চ তিনজনের মধ্যে ভাগ করা যায়। গবেষণার পেছনে আরও অনেকে কাজ করলেও পুরস্কার ভাগের ক্ষেত্রে এই সীমা মানতে হয়।
আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি, এই পাঁচ বিভাগে পুরস্কার চালু হয়েছিল। পরে ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিতে আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে একটি পুরস্কার চালু করে। এই পুরস্কারও নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয়।
নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে বলা আছে, কোনো পুরস্কার একাধিক ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করা যেতে পারে, তবে তিনজনের বেশি নয়। অবশ্য সব পুরস্কারই যে তিনজনকে দেওয়া হয়, তা নয়। কেউ একা পান, কখনো দুজন বা তিনজন মিলে পান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি পুরস্কারের অর্থ দুটি কাজের মধ্যে ভাগ করা হয়। সে ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী, একটি কাজের স্বীকৃতি দুই বা তিনজন পেতে পারেন।
এর উদাহরণ দেখা যায় ২০১১ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে। সেবার লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ, লাইবেরিয়ার নারী অধিকারকর্মী লেমাহ গবোয়ি এবং ইয়েমেনের অধিকারকর্মী তাওয়াক্কুল কারমান যৌথভাবে পুরস্কারটি পান। নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি ছিল এই পুরস্কার।
আবার ২০২২ সালের শান্তিতে নোবেলও তিনজনের মধ্যে ভাগ হয়েছিল। বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি, রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনের মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ এই স্বীকৃতি পায়। এখানে একটি বিষয় খেয়াল করো, নোবেল পুরস্কার শুধু ব্যক্তিকে নয়, শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানকেও দেওয়া যায়।
কিন্তু কেন তিনজনের বেশি নয়? নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে সীমাটি স্পষ্ট, তবে এর পেছনে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। আধুনিক বিজ্ঞানে বড় বড় দল একসঙ্গে কাজ করে। তাই পুরস্কার ভাগের এই নিয়ম নিয়ে আলোচনা থাকতেই পারে। তবে নোবেল পুরস্কার না পেলেই যে কাজগুলো ছোট, এমন নয়। বিজ্ঞানের অগ্রগতি বহু মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব হয়।