বারমুডার গভীরে পাওয়া গেছে বিশাল পাথুরে অঞ্চল, পৃথিবীর অন্য কোথাও এমন কিছু নেই
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের নাম শুনলেই অনেকের কৌতূহল জাগে। উত্তর আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে প্রচলিত আছে কিছু রহস্য। বলা হয়, এখানে বিমান গিয়ে আর ফেরে না। বিষয়টি যদিও সত্য না। এখানকার রহস্য লুকিয়ে আছে সমুদ্রের নিচে। পৃথিবীর স্তরের গভীরে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বারমুডার নিচে এমন একটি বিশাল পাথুরে স্তরের সন্ধান পেয়েছেন, যা পৃথিবীর আর কোনো জায়গায় দেখা যায়নি।
এই স্তরটির প্রায় ১২ দশমিক ৪ মাইল বা ২০ কিলোমিটার পুরু। সাধারণত সমুদ্রের নিচে প্রথমে থাকে সমুদ্রভূত্বক, তার ঠিক নিচেই শুরু হয় ম্যান্টল। কিন্তু বারমুডার ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই আলাদা। এখানে সমুদ্রভূত্বকের নিচে টেকটোনিক প্লেটের ভেতরে আছে এই অদ্ভুত অতিরিক্ত স্তর। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক কার্নেগি সায়েন্সের ভূকম্পবিদ উইলিয়াম ফ্রেজার বলেন, ‘এটা এমন এক স্তর, যেটা আমাদের পরিচিত ভূগঠনের নিয়মের সঙ্গে মেলে না।’
এই আবিষ্কার হয়তো বারমুডা দ্বীপ নিয়ে দীর্ঘদিনের এক বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। বারমুডা একটি ‘ওশানিক সয়েল’-এর ওপরে অবস্থিত। এর মানে, আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় এখানে সমুদ্রভূত্বক অস্বাভাবিকভাবে ওপরের দিকে উঠে আছে। সাধারণত এমন উঁচু অংশ তৈরি হয় সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কারণে। যেমন হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে এমন দেখা যায়। কিন্তু বারমুডায় শেষ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল প্রায় ৩১ মিলিয়ন বছর আগে। তার পর থেকে সেখানে কোনো সক্রিয় আগ্নেয় কর্মকাণ্ড নেই। তবু দ্বীপটি আজও যেন সমুদ্রের ওপরে ভেসে আছে।
গবেষকদের ধারণা, মিলিয়ন মিলিয়ন বছর আগে শেষবার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় ম্যান্টলের কিছু পাথর ওপরে উঠে ভূত্বকের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। পরে সেগুলো ঠান্ডা হয়ে শক্ত স্তরে পরিণত হয়। এই কম ঘনত্বের পাথুরে স্তরটি একধরনের ভেলার মতো কাজ করছে, যা সমুদ্রতলকে প্রায় ৫০০ মিটার ওপরে তুলে ধরে রেখেছে। ফলে বারমুডা আজও আশপাশের আটলান্টিক মহাসাগরের তুলনায় উঁচু অবস্থানে রয়েছে।
এই গবেষণার জন্য ফ্রেজার ও তাঁর সহকর্মী ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেফ্রি পার্ক বারমুডায় বসানো একটি সাইসমিক স্টেশনের তথ্য ব্যবহার করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া বড় ভূমিকম্পের তরঙ্গ বারমুডার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় যেসব জায়গায় হঠাৎ আচরণ বদলেছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করেই তাঁরা এই অস্বাভাবিক স্তরের অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। তাঁদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স জার্নালে।
বারমুডা যদি সত্যিই পৃথিবীর অন্যান্য জায়গা থেকে আলাদা হয়, তাহলে পৃথিবীর ভেতরের প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে এটি নতুন পথ দেখাবে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স