আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছেন নতুন চার নভোচারী
পৃথিবী থেকে প্রায় ২৭৭ মাইল ওপরে ঘুরছে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। এই স্টেশনে কাজ করা ক্রুদের মধ্যে একজন গত জানুয়ারি মাসে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হুট করে হওয়া এই স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে চারজন নভোচারীকে তড়িঘড়ি করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছিল নাসা। এখন আবার স্টেশনে পাঠানো হয়েছে নতুন চার নভোচারীকে, যাঁরা মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রম পূর্ণ উদ্যমে শুরু করবেন।
এই চার নতুন নভোচারীকে মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছে স্পেসএক্স। যুক্তরাষ্ট্রের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে উৎক্ষেপণের এক দিন পর তাঁদের বহনকারী ক্যাপসুল আইএসএসে সফলভাবে পৌঁছায়। নতুন এই দলে আছেন নাসার জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথওয়ে। আছেন ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদিয়ায়েভ।
মহাকাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে জেসিকা মেয়ার ও আন্দ্রেই ফেদিয়ায়েভের। ২০১৯ সালে প্রথমবার আইএসএসে অবস্থান করেছিলেন জেসিকা মেয়ার। সেবার বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ নারী নেতৃত্বাধীন স্পেসওয়াকে অংশ নিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন। সোফি আদেনো একজন সামরিক হেলিকপ্টার পাইলট এবং মহাকাশে যাওয়া দ্বিতীয় ফরাসি নারী। জ্যাক হ্যাথওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন।
স্পেস স্টেশনে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর হ্যাচ খোলা হয়। এরপর সাতজন মহাকাশচারী একে অপরকে আলিঙ্গন ও উচ্ছ্বসিত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এখন নতুন গবেষণা ও কাজে ব্যস্ত সময় পার করবেন তাঁরা।
জানুয়ারি ২০২৬-এর চিকিৎসাবিষয়ক জরুরি পরিস্থিতিটি ছিল ৬৫ বছরে প্রথমবারের মতো ঘটা বিশেষ ঘটনা। এবারই মানব মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে নাসা প্রথমবারের মতো নভোচারী ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। অসুস্থ নভোচারীর পরিচয় ও অসুস্থতার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি নাসা। ব্যক্তিগত চিকিৎসা-গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে এই প্রতিষ্ঠান। অসুস্থ নভোচারী ও তাঁর তিন সহকর্মী নির্ধারিত সময়ের এক মাসেরও বেশি আগে পৃথিবীতে ফিরে এসেছিলেন। ফিরে এসে প্রথম রাতটি তাঁরা হাসপাতালে কাটিয়েছিলেন।
জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মহাকাশ স্টেশনে ক্রু সংখ্যা ছিল কম। তাই এই সময় মহাকাশ স্টেশনে স্পেসওয়াক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছিল। এখন নতুন চার সদস্য আট থেকে নয় মাসের জন্য স্টেশনে থাকবেন। স্টেশনের গবেষণা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আবারও গতি পাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান