যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের হামলায় শিশুদের মৃত্যুর মিছিল

ইরানের স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের শেষ বিদায় জানাতে এসেছিল সর্বস্তরের মানুষআল-জাজিরা

ইরানে প্রথম যেদিন হামলা হয়, অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, সেই দিনই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়। এই খবর অবশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসে এক দিন পর। কিন্তু খামেনিকে হত্যার দিনই যুদ্ধের ইতিহাসের একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ইরানের একটি স্কুলে সেদিন বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ১৭৫ জন মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিশু। ওই হামলার ভিডিও ফুটেজ পরবর্তী সময় গণমাধ্যমে আসে। তাতে দেখা যায়, কয়েকবার স্কুলটিতে হামলা হয়েছে।

ইরানে শিশুদের অবস্থা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় কোনো উদাহরণ আর বোধ হয় দরকার নেই। সেখানে বিরতিহীনভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন মানুষ। কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। একই ঘটনা ঘটছে লেবাননেও। সেখানেও প্রতিদিন হামলা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন ইসরায়েলের হামলায়।

এই যুদ্ধ কীভাবে শুরু এবং কেন শুরু হলো—সেদিকে একবার দৃষ্টি দেওয়া দরকার। ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপের দেশগুলোর বড় অভিযোগ হলো দেশটি পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে। এর আগে এমন অভিযোগ তুলে ইরানের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান এখনো অনেক কিছুই কিনতে পারে না। সেটা অস্ত্র হোক আর প্রযুক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো ইরানের কাছে অনেক কিছুই বিক্রি করতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র আছে, এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

যা–ই হোক, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, সে জন্য নানা সময় আলোচনাও হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুনেও ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ওই আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। পরে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা চালায়। ১২ দিন চলে যুদ্ধ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন সরকারের বরাত দিয়ে জানায়, ওই যুদ্ধে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী ও শিশুরা রয়েছে।

গত বছরের জুনের ওই যুদ্ধ আসলে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে এবং সেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা নয়, কিন্তু সেটাই হয়েছে। এরপর সম্প্রতি অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেও ইরানের সঙ্গে আলোচনাই চলছিল। এই আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিল ওমান। তারা বলেছিল, ‍খুব ভালো আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য সরকারের একজন উপদেষ্টা। তিনি এই যুদ্ধ শুরুর পর ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ইরান এবারে আলোচনায় বলেছিল, তারা আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না। অর্থাৎ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর পথে হাঁটবে না। এর জন্য যা করা দরকার, তা–ই করবে দেশটি। কিন্তু এই আলোচনা চলাকালেই ইরানে হামলা ‍শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আবার যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয় ইরানের ওপর।

এবার যুদ্ধের সব ধরনের রীতি ভঙ্গ করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ করলে দেখা যাবে, যুদ্ধে সাধারণত হামলা হয় রাতে। রাতের বেলা হামলা চালানোর কারণ হিসেবে ভারতের গণমাধ্যম নিউজ এইটটিনের এক খবরে বলা হয়েছে, দিনের বেলার আক্রমণ রাডার এবং শত্রুপক্ষের কর্মীদের খালি চোখে—দুভাবেই যুদ্ধবিমান শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে রাতের বেলা হামলা চালালে যুদ্ধবিমান দেখার সম্ভাবনা কমে যায়, ফলে হামলার ঝুঁকি কমে।

কিন্তু ইরানে এবার হামলা শুরু হয়েছে দিনের বেলা। তা–ও কিনা যখন অফিস শুরু হয়, ঠিক তখনই ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে যুদ্ধের রীতি অনুসারে কোনো বেসামরিক অর্থাৎ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী ব্যবহার করে না কিংবা অস্ত্র–গোলাবারুদ নেই, এমন স্থানে হামলা চালানো যায় না। সাধারণ মানুষের ক্ষতি যতটা কমানো যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে সেই চেষ্টাই করা হয়। এই রীতিরও তোয়াক্কা করছে না ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই রীতির তোয়াক্কা করলে ইরানের মিনাব শহরের ওই শিশুদের ওপর হামলা হওয়ার কথা নয়। আবার দিনের বেলা হামলা না চালিয়ে রাতের বেলা হামলা চালালেও কিন্তু শিশুরা মারা যেত না।

মিনাবের ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—কেউই এ ঘটনার দায় নিচ্ছিল না। কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোয় যখন এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়, তখন এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সেখানে হামলা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, শুধু একবার নয়, কয়েক দফায় সেখানে হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই হামলার কথা প্রথমে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এই হামলা অন্য কেউ করেছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র অনেকের কাছে আছে, তারাও হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। এমনকি তিনি এটাও বলেন, ‘আমি যা দেখেছি, তার ওপর ভিত্তি করে আমার মনে হচ্ছে, এটি ইরানই করেছে।’

আরও পড়ুন
নিহত শিশুর জন্য শোক
আল-জাজিরা

তবে চাপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র এর তদন্ত শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, সেখানে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এই হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক তদন্তেই এটা উঠে এসেছে।

মিনাবের ওই স্কুলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ক্লাস করতে গিয়েছিল শিশুরা। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, শহরের শাজারাহ তাইয়েবেহ নামের ওই স্কুলে ‘ভুলবশত হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী’। মূলত ওই স্কুলের পাশে ইরানের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ওই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে সেন্ট্রাল কমান্ড এই হামলা চালানোর জন্য তথ্য নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির কাছ থেকে। যে তথ্য এই এজেন্সি দিয়েছিল, তা হালনাগাদ ছিল না, ফলে এই হামলা হয়েছে।

কিন্তু ইরানে এখন দিনরাত হামলা হচ্ছে। জান বাঁচাতে শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে পালাচ্ছেন লোকজন। অনেকেই বলছেন, এখন তাঁরা সব সময় হামলার আতঙ্কে থাকেন। তেহরানের বাসিন্দা সালার বলেন, লোকজন যেন বাইরে কোনো জমায়েত করতে না পারেন, তাই তাঁদের মুঠোফোনে মেসেজ পাঠিয়ে নিষেধ করা হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি আরও শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জন্য।

সালার বলেন, একেকটা বিমান হামলার শব্দ এত বিকট যে তাতে পুরো বাড়ি যেন কাঁপতে থাকে। ঝনঝন করতে থাকে জানালাগুলোর কাচ।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কোনো সংবাদপত্র নেই, নেই ইন্টারনেট সংযোগ। পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এখন তেহরানবাসী। এমনকি নিজ দেশের ভেতরে কী হচ্ছে, তা-ও জানেন না তাঁরা। সবাই এক রকম গৃহবন্দী।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে তেহরানসহ ইরানের বড় শহরগুলো এখন এক ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। সেখানকার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হিসাব অনুসারে, প্রায় ৭০ হাজার বাড়িঘর, দোকানপাট, অফিস–আদালতে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র রয়েছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা হয়েছে। মারা গেছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ, আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি।

আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত শিশুর স্বজনেরা ভেঙে পড়েছেন কান্নায়
আল-জাজিরা

লেবাননের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। খামেনিকে হত্যার পর ইরানের মিত্র সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এ ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এখানে একটি তথ্য তুলে ধরা দরকার, ইরান দেশের বাইরে বেশকিছু সশস্ত্র সংগঠনকে সাহায্য–সহযোগিতা করে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের হামাস যেমন রয়েছে, তেমনি আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। এ ছাড়া ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদেরও সাহায্য করে ইরান। যা–ই হোক, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এ হামলায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি ইসরায়েলের। কিন্তু এর যে জবাব ইসরায়েল দেওয়া শুরু করেছে, তা ভয়াবহ।

লেবাননে ২ মার্চ প্রথম ইসরায়েলের সঙ্গে লাগোয়া এলাকায় হামলা শুরু করে প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। কিন্তু পরে হামলার লক্ষ্যবস্তু বদলে যায়। রাজধানী বৈরুতে হামলা শুরু করে তারা। হোটেল, শপিং মল, এমনকি আবাসিক এলাকাতেও শুরু হয় হামলা। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলার সঙ্গে সঙ্গে স্থল অভিযানও শুরু করেছে আইডিএফ। এখন এই এলাকা দখল করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল সরকার।

সম্প্রতি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন বিবিসির সাংবাদিকেরা। সেখানকার ইউনাইন নামে একটি এলাকার চিত্র তুলে ধরেন তাঁরা। বিবিসির খবরে বলা হয়, এই এলাকায় হামলা চালানোর কারণ জানতে চাইলে আইডিএফ তাদের কাছে দাবি করে, সেখানে হিজবুল্লাহর শক্ত অবস্থান ছিল। তাই সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

বিবিসি বলছে, ওই এলাকায় পবিত্র রমজান মাসের আগে বিমান হামলায় এক পরিবারের আট সদস্য নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন শিশুও ছিল। ওই বাড়িতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশুদের খেলনা ও মিষ্টির প্যাকেট পড়ে রয়েছে। আইডিএফের হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁরা কেউ হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এবং ওই পরিবারের আত্মীয়স্বজন বলছেন, পরিবারটির কেউ হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিবিসি বলছে, সেখানে হামলা হয়েছিল ইফতারের সময়। ওই হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যে ৩টি শিশু ছিল, তাদের বয়স ৫, ৯ ও ১৪ বছর। বিবিসি বলছে, শুধু ওই বাড়িটিতেই নয়, এমন শত শত বাড়িতে ইসরায়েলের বিমান হামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ইউনাইনের যে এলাকায় হামলা হয়েছে, সেই এলাকার এক রাখালের সঙ্গে বিবিসির সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। রাখাল বলেন, ওই বাড়িতে গিয়ে শিশুদের ছিন্নভিন্ন দেহ দেখতে পান তিনি।

ওই বাড়ির এক শিশু ওই রাখালের মেয়ের বন্ধু ছিল। রাখাল বলেন, ‘আমি ও আমার মেয়ে ভয়ংকর আতঙ্কের মধ্যে পড়েছিলাম, যা আমরা দেখেছি, তা বলার ভাষা আসলে নেই।’

হামলার শিকার বাড়িটির পাশে সিরিয়ার এক নারী তাঁবু পেতে থাকেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘সবকিছু আকস্মিকভাবে ঘটে গেল। আমার কোনো ধারণা নেই, তাদের ওপর কেন হামলা করা হলো।’

আসলে কেন হামলা হচ্ছে, সেটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। এই দেশগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের কাছে তো আসলে পারমাণবিক অস্ত্রের মূল্য নেই। যে শিশু মারা পড়ছে, যারা আহত হচ্ছে, দেশের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা না–থাকার সঙ্গে তাদের তো কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বাস্তবতা হলো যুদ্ধে সবচেয়ে সংকটে পড়ে শিশুরা। জাতিসংঘ বলছে, ইরানে ৩০ লাখের বেশি মানুষ ইতিমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। লেবাননে ১০ লাখ মানুষের একই অবস্থা। হতাশার বিষয় হলো এর বড় অংশ শিশু।

আরও পড়ুন