চিনি যদি দাঁতের জন্য খারাপ হয়, তাহলে টুথপেস্ট মিষ্টি কেন

টুথপেস্ট মিষ্টি করা হয় মূলত এর স্বাদ ও গন্ধ ভালো করার জন্যছবি: আনস্প্ল্যাশ

ছোটবেলায় চকলেট কিংবা মিষ্টি খেতে দেখলেই বড়রা বলতেন, ‘বেশি খেয়ো না, দাঁতে পোকা হবে।’ সেই পোকা বা দাঁতের ক্ষয় আটকাতেই প্রতিদিন নিয়ম করে দাঁত ব্রাশ করতে হতো। সেখান থেকে হয়তো দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে।

টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনে দেখি, টুথপেস্ট দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে দাঁতকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু একটু ভেবে দেখলে ব্যাপারটি বেশ অদ্ভুত লাগে। চিনি যদি দাঁতের জন্য এতই ক্ষতিকর হয়, তবে টুথপেস্টের স্বাদ কেন মিষ্টি হয়? টুথপেস্টে কি আসলেই চিনি থাকে, নাকি অন্য কিছু?

চিনি খেতে খুব সুস্বাদু হলেও এটি আমাদের শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। বিশেষ করে এটি দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। ফলে দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটি তৈরি হয়। এ কারণেই মিষ্টি কিছু খাওয়ার পর দ্রুত ব্রাশ করার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা।

আরও পড়ুন
দাঁতের সুরক্ষার পাশাপাশি জাইলিটল ওজন কমাতেও সাহায্য করে। কারণ, সাধারণ চিনির তুলনায় এতে ক্যালরি অনেক কম থাকে।

টুথপেস্ট মিষ্টি করা হয় মূলত এর স্বাদ ও গন্ধ ভালো করার জন্য। তবে এতে কিন্তু আমাদের চেনা সাধারণ চিনি থাকে না। চিনির বদলে এতে মেশানো হয় এমন কিছু উপাদান, যা স্বাদে মিষ্টি কিন্তু দাঁতের ক্ষতি করে না। সোডিয়াম স্যাকারিন বা সরবিটল নামের উপাদান ব্যবহার হয় চিনির বিকল্প হিসেবে।

তবে বেশির ভাগ টুথপেস্টে মিষ্টি হিসেবে ‘জাইলিটল’ (Xylitol) নামের একটি উপাদান ব্যবহার করা হয়। এটি কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদান নয়। এটা মূলত স্ট্রবেরি, ফুলকপি বা মাশরুমের মতো ফল আর সবজিতে পাওয়া যায় এমন এক প্রাকৃতিক মিষ্টি। তুমি তোমার টুথপেস্টের প্যাকেটে লেখা উপাদানের তালিকায় তাকালেই ‘জাইলিটল’ নামটা দেখতে পাবে।

টুথপেস্টে থাকা জাইলিটল কেবল এর স্বাদই বাড়ায় না, এটি দাঁতের গর্ত বা ক্যাভিটি রোধেও দারুণ কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, জাইলিটল দাঁতে প্লাক জমতে বাধা দেয় এবং এনামেলকে ক্ষতিকর অ্যাসিডের হাত থেকে রক্ষা করে।

আরও পড়ুন
ছবি: পেক্সেলস

এখন প্রশ্ন হলো, জাইলিটল কেন চিনির মতো দাঁত নষ্ট করে না? এর কারণ হলো, জাইলিটল সহজে পচে বা ফার্মেন্টেশন হয়ে যায় না। আমাদের মুখের ব্যাকটেরিয়া সাধারণত চিনি খেয়ে সেটাকে পচিয়ে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁত ক্ষয় করে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া জাইলিটলকে হজম বা পচাতে পারে না। ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো আর বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং দাঁতও সুরক্ষিত থাকে।

দাঁতের সুরক্ষার পাশাপাশি জাইলিটল ওজন কমাতেও সাহায্য করে। কারণ, সাধারণ চিনির তুলনায় এতে ক্যালরি অনেক কম থাকে। এ কারণেই জ্যাম, পিনাট বাটার, দই, চুইংগাম ও ক্যান্ডির মতো খাবারে চিনির বদলে এখন জাইলিটল ব্যবহার করা হচ্ছে।

একটি ভালো টুথপেস্ট মূলত দুই ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। প্রথমটি ফ্লোরাইড, যা সরাসরি দাঁত ক্ষয় হওয়া থেকে বাঁচায়। আর দ্বিতীয়টি হলো বিভিন্ন মিষ্টি ও সুগন্ধি। টুথপেস্টের অন্য উপাদানগুলো কিছুটা বাজে স্বাদের হয়। সেই বাজে স্বাদ ঢাকতেই টুথপেস্টকে সুস্বাদু ও ব্যবহারের উপযোগী করার জন্যই এতে জাইলিটল মিষ্টি মেশানো হয়।

আরও পড়ুন
সঠিক টুথপেস্ট কেনার সময় খেয়াল রাখা উচিত সেটি কোনো ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা স্বীকৃত কি না। সবচেয়ে জরুরি বিষয় টুথপেস্টে ফ্লোরাইড থাকা।

সঠিক টুথপেস্ট চিনবে কীভাবে? বাজারে পুদিনা থেকে শুরু করে তরমুজ নানা স্বাদের টুথপেস্ট পাওয়া যায়। তবে কেবল স্বাদের ওপর ভিত্তি করে টুথপেস্ট বেছে নেওয়া ঠিক নয়। দাঁতের সুরক্ষায় কতটা কার্যকর, সেটিই আসল কথা।

সঠিক টুথপেস্ট কেনার সময় খেয়াল রাখা উচিত সেটি কোনো ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা স্বীকৃত কি না। সবচেয়ে জরুরি বিষয় টুথপেস্টে ফ্লোরাইড থাকা। কারণ, এটি দাঁত শক্ত করে ও ক্ষয় রোধ করে। এ ছাড়া উপাদানের তালিকায় যদি ‘জাইলিটল’ নামটা শুরুর দিকে থাকে, তবে বুঝবে সেই টুথপেস্টটি তোমার দাঁতের জন্য বেশ উন্নত ও কার্যকর।

তবে মনে রাখবে, প্রত্যেকের দাঁতের গঠন ও প্রয়োজন আলাদা। তাই দাঁতের জন্য ঠিক কোনটি সবচেয়ে ভালো, তা জানতে একজন বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টটের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: সিটিডেন্টিস্টস, হেলথ হার্ভার্ড

আরও পড়ুন