আগামী ১০ বছরে বিশ্ব যে ঝুঁকির কারণে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে
২০২৬ সাল কি খুব একটা ভালো যাবে না? প্রশ্নটি এখন অনেকের মনে। কারণ, কিছুদিন আগে সুইজারল্যান্ডে হয়ে গেল ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলন। সেখানে প্রকাশিত গ্লোবাল রিস্কস প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এক দুশ্চিন্তার খবর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিশ্ব এখন এক অস্থির প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞেরা এ সময়কে দেশগুলোর মধ্যে এক চরম লড়াইয়ের যুগ হিসেবে দেখছেন। যেখানে সবাই একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত।
সামনের অল্প কয়েক বছরের জন্য বিশ্বনেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তিনটি বিষয়। দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের লড়াই, ইন্টারনেটে মিথ্যা খবরের ছড়াছড়ি আর মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা ভেদাভেদ। তবে দীর্ঘ মেয়াদে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে আছে আবহাওয়া পরিবর্তন, প্রযুক্তির অপব্যবহার আর প্রকৃতির বড় কোনো বিপর্যয়। আমাদের চারপাশেই তাকালে এর প্রভাব দেখা যায়। দিন দিন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে, কাজের ধরন পাল্টাচ্ছে আর চারদিকে একটা অস্থিরতা কাজ করছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বড় বড় নেতা আলোচনায় বসলেও সমস্যাগুলো মেটানো যে খুব কঠিন, তা সবাই বুঝতে পারছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জনে ৬৮ জন নেতা মনে করেন যে পৃথিবীটা সামনের দিনগুলোয় আরও ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যাবে।
তাই এখন সবাই সাবধানতার খোঁজ করছে। প্রতিটি দেশ যেকোনো বড় ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যবসাগুলোর পুরোনো নিয়ম বদলাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষও এই অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিপদকে মূলত দুই ভাগে দেখা হচ্ছে। আগামী ২ বছরের ছোট ছোট বিপদ আর আগামী ১০ বছরের বড় বিপদ।
ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বড় বড় বিজ্ঞানী আর বিশ্বনেতারা ইদানীং বেশ চিন্তিত। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নতুন এক গবেষণায় ১ হাজার ৩ শতাধিক বিশেষজ্ঞ তাঁদের মতামত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি যেটাকে বলা যায়, একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই। আগে দেশগুলো মিলেমিশে কাজ করার যে চেষ্টা করত, সেই বন্ধুত্বের টান এখন অনেকটাই আলগা হয়ে গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জনে ৬৮ জন নেতা মনে করেন যে পৃথিবীটা সামনের দিনগুলোয় আরও ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যাবে। আগের অনেক নিয়মই হয়তো আর কাজে আসবে না। এমনকি খুব অল্প কয়েকজন মানুষ আশা করছেন যে বড় বড় বিশ্ব সংস্থা আগের মতো শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারবে।
আগামী ১০ বছরে আমাদের পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে পরিবেশ ও প্রকৃতির বিপর্যয়। তালিকার শীর্ষে আছে তীব্র গরম, আকস্মিক বন্যা ও জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাওয়ার মতো বড় বিপদগুলো।
আসলে আগামী দিনগুলো নিয়ে আনন্দের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি ধরা পড়েছে এই প্রতিবেদনে। অর্ধেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন যে ২০২৬ ও তার পরের কয়েকটা বছর বেশ অস্থির কাটবে। আর আগামী ১০ বছরের কথা ভাবলে তো এই ভয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ এমন সব মহাবিপদ দেখছেন, যা পুরো পৃথিবীর জন্যই খুব ঝুঁকির হতে পারে। এককথায়, সামনের দিনগুলো যে বেশ অনিশ্চয়তায় ভরা, সেটা নিয়ে মোটামুটি সবাই নিশ্চিত।
আগামী দুই বছর আমাদের পৃথিবী বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। শুরুটা হতে পারে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের লড়াই আর অর্থনৈতিক রেষারেষি দিয়ে। এর ফলে বন্দরে জাহাজ আটকে পড়া বা পণ্য রপ্তানিতে বাধা আসার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এতে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাবে।
পাশাপাশি ইন্টারনেটে ডিপফেক বা ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সরকারের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। সমাজে মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা ভেদাভেদ আর একে অন্যকে সহ্য না করার প্রবণতাও বড় দুশ্চিন্তার কারণ। এসবের সঙ্গে হুটহাট জিনিসের দাম বাড়া আর ছোটখাটো সংঘাতের ভয় মিলে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আগামী দুই বছর আমাদের পৃথিবী বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। শুরুটা হতে পারে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের লড়াই আর অর্থনৈতিক রেষারেষি দিয়ে।
আগামী ১০ বছরে আমাদের পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে পরিবেশ ও প্রকৃতির বিপর্যয়। তালিকার শীর্ষে আছে তীব্র গরম, আকস্মিক বন্যা ও জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাওয়ার মতো বড় বিপদগুলো। আজ হয়তো আমরা এগুলো নিয়ে অতটা ভাবছি না। কিন্তু ২০৩০ সালের পর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর সম্পদের অভাবই সবচেয়ে বেশি দেখা দেবে।
পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভুল ব্যবহার বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রযুক্তির কারণে অনেকের চাকরি চলে যেতে পারে কিংবা সমাজে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ আর বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণের বোঝা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। যদিও দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি লড়াই কিছুটা কমতে পারে। তবু পুরো পৃথিবী ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে।