সময়ের ধারণা বাতিল করেছে যে দ্বীপের মানুষ

সোমারয় দ্বীপে সময় যেন নির্দিষ্ট কিছু নাছবি: দ্য গার্ডিয়ান

নরওয়ের ছোট্ট এক দ্বীপ সোমারয়। গ্রীষ্মকালে এখানে রাত বলে কিছু থাকে না। ২৪ ঘণ্টা উজ্জ্বল আলো থাকে। শীতে আবার পুরো ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার থাকে। এই দ্বীপে বেশি লোক বাস করে না। এখানকার বাসিন্দা মাত্র ৩৫০ জন। সারাক্ষণ আলো থাকে বা সারাক্ষণ অন্ধকার থাকে বলে এখানে জীবন সহজ সাধারণ না। সময়টা এই দ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে একটা ঝামেলা। আকাশের দিকে তাকিয়েই কেউ বলে দিতে পারে না, এখন সন্ধ্যা।

তাই এই দ্বীপের বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঘড়ির কাঁটার এই অত্যাচার থেকে নিজেদের বাঁচাবে। তারা নিজেরা দ্বীপটিকে বিশ্বের প্রথম ‘সময়-মুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ অবশ্য ছয় বছর আগের কথা।

সোমারয়ের বাসিন্দাদের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন এবং মাছ ধরা। তাঁরা চান, দোকানে কেনাকাটার নির্দিষ্ট সময়সীমা তুলে দেওয়া হোক। সবাই যেন ‘যখন যা ইচ্ছা, তখন তাই’ করতে পারে। অবশ্য বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বাদে। যেমন শিশুদের স্কুলে যাওয়া থেকে মাফ নেই। স্কুলে নির্দিষ্ট সময়ে যেতেই হবে।

আরও পড়ুন

সোমারয় দ্বীপটি নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত অন্ধকারে ডুবে থাকে। কিন্তু মে মাসের ১৮ তারিখে সূর্য উঠলে তা আবার ২৬ জুলাইয়ের আগে অস্ত যায় না। পুরো সময়টা দিন দিন থাকে। এ সময় কেউ যদি রাত ২টায় বাড়ি রং করতে চায়, তা সূর্যের আলোতেই করতে পারবে। আলাদা করে বাতি জ্বালাতে হবে না। কেউ যদি ভোর ৪টায় সাঁতার কাটতে চায়, তবে তাই সই।

দ্বীপের বাসিন্দারা বলেছেন, ‘এখানে আমরা মধ্যরাতের সূর্যের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করি। রাত ২টায় সমুদ্রের তীরে বন্ধুদের সঙ্গে কফি খাওয়া এখানে একটি স্বাভাবিক ঘটনা।’

পর্যটন কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করেন, এই পুরো ব্যাপারটি পর্যটক আকর্ষণের জন্য একটি কৌশল। তবে একজন দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক এই ধারণাটিকে বেশ প্রশংসা করেছেন। নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ট্রুলস এগিল উইলার বলেছেন, ‘মাত্র গত দুইশ বছর ধরে সমাজ ঘড়ির দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এর আগে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করত। খিদে পেলে খেত। ক্লান্ত হলে ঘুমিয়ে পড়ত।’

আরও পড়ুন

আধুনিক সমাজে ঘুম থেকে ওঠা থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সবকিছু ঘড়ির ধরে নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে এই অধ্যাপক মনে করেন, ‘ঘড়ি ছাড়া জীবনযাপন করা সোমারয়ের বাসিন্দাদের জন্য খুব সহজ হবে না। তবে একটি পুরো দ্বীপকে বৈশ্বিক ঘড়ির বাইরে নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব।’

জানা গেছে, সোমারয়ে আসা পর্যটকরাও এই ধারণাটি আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। অনেকে নিজেদের ঘড়ি খুলে দ্বীপের দিকে যেতে পথের একটি সেতুর সঙ্গে ঘড়ি ঝুলিয়ে দিয়ে যান।

তবে দ্বীপের সবাই এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। যেমন সোমারয় আর্কটিক হোটেলের একজন রিসেপশনিস্ট মালিন নর্ডহেইম। তিনি বলেছেন, ‘অতিথিদের চেক-ইন এবং চেক-আউটের সময়, বারের ও রেস্তোরাঁ খোলার সময় নিয়ে আমি কিছু সমস্যা দেখতে পাচ্ছি। আমি একটু সন্দিহান।’

জানা গেছে, সোমারয় দ্বীপের এই প্রস্তাবটি মূলত পর্যটন প্রচারণার জন্য একটি কৌশল ছিল।

আরও পড়ুন