ইতিহাসের সবচেয়ে সস্তা ম্যাকবুক বাজারে এনেছে অ্যাপল, দাম কত
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল নিজেদের সবচেয়ে সস্তা ল্যাপটপ ‘ম্যাকবুক নিও’ বাজারে এনেছে। মার্চ মাসের শুরুতে অ্যাপল জানিয়েছিল, ম্যাকবুক নিও হচ্ছে অ্যাপলের প্রথম ল্যাপটপ, যেখানে আইফোনের একটি চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। এর শুরুর দাম ধরা হয়েছে ৫৯৯ ডলার। এমন দামে ল্যাপটপ বাজারে আনার কারণ, অ্যাপল নতুনভাবে উইন্ডোজ ও ক্রোমবুক ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। বিশেষ করে এখন বিশ্বজুড়ে চিপ বা কম্পিউটার যন্ত্রাংশের বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টারনাস নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ম্যাকবুক নিও ‘পুরোপুরি নতুন’।
অ্যাপলের সবচেয়ে সফল পণ্য হলো আইফোন। আইফোন বিক্রি করে অ্যাপল সবচেয়ে বেশি আয় করে। এরপর আছে তাদের সার্ভিস ব্যবসা এবং ওয়্যারেবলস বিভাগ। তবে ম্যাক কম্পিউটারগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলো আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের অ্যাপলের নিজস্ব ইকোসিস্টেমের মধ্যে ধরে রাখতে সাহায্য করে। এবার অ্যাপল নিজেদের প্রচলিত কৌশল থেকে কিছুটা সরে এসে কম বাজেটের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করছে। এই বাজার এত দিন পিসি ও ক্রোমবুক নির্মাতাদের দখলে ছিল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে চলমান মেমোরি–সংকট কম দামের ল্যাপটপ বাজারকে বড় আকারে ক্ষতি করতে পারে।
অ্যাপলের অন্যান্য ম্যাকবুকের তুলনায় নিও মডেলের স্ক্রিন ছোট, মেমোরি কম। এই মডেলে উজ্জ্বল রঙের ল্যাপটপও পাওয়া যাচ্ছে। যার মধ্যে নতুন ‘সিট্রাস’ হলুদ রংও আছে। তবে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো এটি চলবে অ্যাপলের এ১৮প্রো প্রসেসরে, যা আইফোন ১৬ প্রোতে ব্যবহার করা চিপের মতো। এই প্রথম অ্যাপল মোবাইল চিপ দিয়ে একটি ল্যাপটপ চালাচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার বিক্রেতা কিন্তু অ্যাপল নয়। এই জায়গা দখল করে আছে লেনোভো। ২০২৫ সালের শেষে তাদের বাজারের অংশ ছিল ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে অ্যাপলের ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
অ্যাপলের বাজার ধরার কৌশল সব সময়ই আলাদা। ম্যাকবুকগুলো সাধারণত বেশি দামি হয়। অধিকাংশ ল্যাপটপের মতো এগুলোতে টাচস্ক্রিন থাকে না। ম্যাকবুক নিও এই অসুবিধার অন্তত একটি দিক দূর করার চেষ্টা করেছে। এতে টাচস্ক্রিন নেই। তবু যাঁরা ১ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে চান না, কিন্তু আইপ্যাড না চেয়ে ল্যাপটপের মতো কিছু চান, তাঁদের জন্য এটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
এআই ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত মেমোরির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে মেমোরি চিপের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিসির দাম ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন বলছে, এ বছর পিসি বিক্রি ১১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সস্তা ম্যাকবুক আগেই বাজারে আনা অ্যাপলের জন্য লাভজনক হতে পারে।
এ ছাড়া অ্যাপল এই সপ্তাহে নতুন ম্যাকবুক এয়ার ও ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করেছে। সঙ্গে এনেছে নতুন ল্যাপটপ চিপ। ম্যাকবুক নিও বাজারে আছে ১১ মার্চ থেকে।
সূত্র: সিএনএন