এশিয়ার আমাজনে গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ল ৯ বিরল প্রাণী

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গহিন অরণ্যে লুকিয়ে আছে এক অজানা জগৎ। লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াজুড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত আন্নামাইট পর্বতমালা। ঘন ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই বনভূমিকে ডাকা হয় এশিয়ার আমাজন নামে। ২০২৫ সালজুড়ে এই বনের আনাচকানাচে বসানো হয়েছিল গোপন ক্যামেরা। আর তাতেই ধরা পড়েছে প্রকৃতির দারুণ সব চমক!

প্রকৃতি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা এবং তাদের সহযোগীদের এই উদ্যোগে এমন কিছু বিরল ও বিপন্ন প্রাণীর ছবি এবং ভিডিও পাওয়া গেছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার গ্যারেথ গোল্ডথর্প জানালেন, এই বনের প্রতিটি প্রাণীই আমাদের পৃথিবীর ইকোসিস্টেম টিকিয়ে রাখতে বিশাল ভূমিকা রাখে। ক্যামেরার এই ডেটাগুলো থেকে শুধু প্রাণীগুলোর খোঁজই মেলেনি, জানা গেছে তাদের স্বভাব, পছন্দের জায়গা ও বিপদের কথাও।

চলো, একনজরে দেখে নিই আন্নামাইট পর্বতমালার গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই ৯টি চমৎকার প্রাণী।

এশীয় হাতি
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

১. এশীয় হাতি

হাতির প্রজাতিগুলোর মধ্যে এরা সবচেয়ে ছোট হলেও ঘুরে বেড়ানোর জন্য এদের বিশাল জায়গা লাগে। জঙ্গল কেটে টুকরো করে ফেলাই এদের সবচেয়ে বড় বিপদ। জঙ্গল ছোট হয়ে আসায় চোরা শিকারি ও মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত বাড়ছে। এদের বাঁচাতে হলে বনের এই খণ্ডিত অংশগুলো জোড়া লাগানো খুব জরুরি।

মধু ভালুক
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

২. সান বিয়ার বা মধু ভালুক

বুকের কাছে কমলা-হলুদ রঙের সুন্দর একটা দাগ থাকে বলেই এদের এমন নাম। এদের দৃষ্টিশক্তি ও শোনার ক্ষমতা বেশ দুর্বল। তবে সেই ঘাটতি এরা পুষিয়ে নেয় প্রখর ঘ্রাণশক্তি ও গায়ের জোর দিয়ে। এদের নখ এতই ধারালো যে কংক্রিটের মতো শক্ত উইপোকার ঢিবি বা মৌচাক নিমেষেই ভেঙে ফেলতে পারে। চোরা শিকারিদের কুনজর এখন এদের থাবা ও পিত্তথলির দিকে।

ক্লাউডেড লেপার্ড
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

৩. ক্লাউডেড লেপার্ড

গায়ের জাদুকরি সুন্দর নকশাই এই প্রাণীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পোষা প্রাণী হিসেবে পাচার করার জন্য এদের ধরে নিয়ে যায় পাচারকারীরা। বিলাসবহুল পোশাক বানাতে এদের চামড়া বিক্রি হয়। এমনকি এদের দাঁত, নখ ও হাড়কে বাঘের হাড় বলে ধোঁকা দিয়েও বিক্রি করা হয়!

আরও পড়ুন
রাজধনেশ
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

৪. রাজধনেশ

বনের মগডালে বসে ফল খায় আর উড়ে উড়ে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে এরা নতুন গাছ জন্মায়। বিশাল এই পাখিদের বলা হয় জীববৈচিত্র্যের ব্যারোমিটার। কারণ, একটা বনে এই ধনেশ পাখির উপস্থিতি মানেই সেই বনটা গাছপালায় ভরা!

বনরুই
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

৫. বনরুই

প্যাঙ্গোলিনের ছানাদের আদর করে ডাকা হয় প্যাঙ্গোপাপ। এরা মায়ের লেজের ওপর চেপে বনের ভেতর ঘুরে বেড়ায়। মাংস ও আঁশের লোভে এই নিরীহ প্রাণীটিকে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাচার করা হয়। বর্তমানে এরা চরম বিপন্ন।

আরও পড়ুন

৬. এশিয়ান লেপার্ড ক্যাট

বন্য প্রাণী পাচারের ক্ষেত্রে এই বনবিড়ালগুলো অনেকটা সতর্কবার্তার মতো কাজ করে। এদের প্রচুর পাচার করা হয়। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, জঙ্গল থেকে এদের ধরে এনে সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের সঙ্গে সংকর করে বেঙ্গল ক্যাট বানানো হচ্ছে। গত বছর থাইল্যান্ডে দীর্ঘ ৩০ বছর পর এদের আবার দেখা মিলেছে।

আরও পড়ুন
সেরো
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

৭. সেরো

লাজুক স্বভাবের এই প্রাণীটিকে দেখলে মনে হবে অর্ধেক ছাগল ও অর্ধেক হরিণ। মাঝারি আকারের কালো লোমওয়ালা এই স্তন্যপায়ী প্রাণী পাহাড়ি ও পাথুরে এলাকায় থাকতে পছন্দ করে। মাংস ও ছোট একজোড়া শিংয়ের জন্য এরা প্রায়ই শিকারিদের নিশানায় পরিণত হয়।

স্টাম্প-টেইলড ম্যাকাক
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

৮. স্টাম্প-টেইলড ম্যাকাক

এরা একধরনের বানর। এদের লেজ খুব ছোট ও লোমহীন। বনের মাটিতে পড়ে থাকা ফলমূল কুড়িয়ে খেয়েই এদের দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে। ক্যামেরায় এমন এক মা ও ছানা ম্যাকাককে পড়ে থাকা গাছের গুঁড়ির ওপর বসে থাকতে দেখা গেছে।

গ্রে পিকক-ফিজেন্ট
ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা

৯. গ্রে পিকক-ফিজেন্ট

ময়ূরের মতো দেখতে এই পুরুষ ফিজেন্ট বা মথুরা পাখিটা মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতার ওপর ডান্স ফ্লোর বানিয়েছে। আর সেখানে নিজের পালকের উজ্জ্বল চোখের মতো নকশাগুলো মেলে ধরে সে মেয়ে পাখিদের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে!

সূত্র: পপুলার সায়েন্স

আরও পড়ুন