নিউইয়র্কে এবার হাড় কাঁপানো শীত
নিউইয়র্কে এ বছরের জানুয়ারিতে যেন হুট করেই ফিরে এসেছিল বরফযুগ। নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এই শীতে ভালোই ভুগেছেন। থার্মোমিটারের পারদ নেমেছে শূন্যের অনেক নিচে। নিউইয়র্কের বহু বাসিন্দা বলেছেন, ‘এমন শীত জীবনে দেখিনি।’ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে আবহাওয়াবিদদের তথ্য বলছে, এটি রেকর্ড ভাঙা ঠান্ডা নয়। আগের শীতের স্মৃতি মানুষের মনে নেই।
এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীতকাল তুলনামূলক উষ্ণ ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে। শূন্যের নিচে তাপমাত্রা নামা দিনের সংখ্যা কমেছে। দীর্ঘস্থায়ী তীব্র শীত এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানিয়েল সোয়াইন মনে করেন, ৩০ বছরের কম বয়সী মানুষদের জন্য এ ধরনের শীত হয়তো জীবনের সবচেয়ে ঠান্ডা সময়। কারণ, তাঁরা বড় হয়েছেন তুলনামূলক উষ্ণ শীতের মধ্যে। ম্যাসাচুসেটসের উডওয়েল ক্লাইমেট রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী জেনিফার ফ্রান্সিস বলেন, মানুষ খুব দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। শহরের শব্দ, গরমের তাপদাহ কিংবা নরম শীত, সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তাই হঠাৎ ‘স্বাভাবিক’ ঠান্ডা ফিরে এলে সেটিই অসহনীয় মনে হয়।
আচরণবিজ্ঞানও একই কথা বলছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের গবেষক হ্যানা পারফেকটো মনে করেন, শীতের প্রথম ধাক্কাটাই সবচেয়ে কষ্টকর। দিন পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে শরীর ও মন ঠান্ডা সহ্য করতে শেখে। এর মানে, এখন যে ঠান্ডাকে ‘হাড়কাঁপানো’ মনে হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ পর সেটিই তুলনামূলক সহনীয় হয়ে উঠবে।
রেকর্ড থেকে জানা গেছে, এই শীতকালের ঠান্ডা অস্বাভাবিক দীর্ঘ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব আঞ্চলিক জলবায়ু কেন্দ্রের শতবর্ষী রেকর্ড অনুযায়ী, এবারের জানুয়ারির শূন্যের নিচে নামা তাপমাত্রা ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মধ্যে পড়েছে। ঘটনাটি বিরল। তবে আগেও এমন শীত নেমেছিল।
মানুষের অনুভূতিতে এবার শীত এত তীব্র কেন? এর একটি কারণ অবকাঠামোগত অপ্রস্তুতি। আলাস্কার মতো অঞ্চলে মানুষ ও সড়কব্যবস্থা দীর্ঘ শীতের সঙ্গে অভ্যস্ত। কিন্তু ডালাস বা মিয়ামির মতো শহরে বিদ্যুৎব্যবস্থা, রাস্তা কিংবা পাইপলাইন এত ঠান্ডার জন্য তৈরি করা হয়নি। নিউইয়র্ক তুলনামূলক প্রস্তুত হলেও টানা বরফঝড়, বরফে ঢাকা রাস্তা ও বিদ্যুৎবিভ্রাট মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। জানুয়ারি থেকে শীতসম্পর্কিত দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আবার মানসিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা বলছে, মাত্র দুই থেকে আট বছর মৃদু শীতে বাস করলেই মানুষ আগের তীব্র ঠান্ডার অনুভূতি ভুলে যায়। গত ৩০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গড় দৈনিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে ৪০ বার। অথচ এর আগের ৩০ বছরে সেই সংখ্যা ছিল ১২৪ বার। মানে, বিংশ শতকের শীত ছিল আরও বেশি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের স্মৃতিতে সেই শীত নেই।
সূত্র: এপি