কিছু মানুষের নখ থেকে এখনো ভোটের কালি ওঠেনি কেন

ভোটারের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হয়ছবি: প্রথম আলো

ভোট দিতে গিয়ে আঙুলে যে কালি লাগানো হয়, সেটা নিশ্চয়ই তুমি দেখেছো। আমাদের দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হলো ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ। তখন যারা ভোট দিয়েছে, তাদের কিছু মানুষের নখে এখনো কালি লেগে আছে। কারও কারও ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ পেরিয়ে কালি মুছে গেছে। কারও এখনো হালকা হচ্ছে না! তাই অনেকেই ভাবছে, এই কালি এত শক্তিশালী কেন? এটা কি সাধারণ কালি নয়?

চলো, আজ আমরা সহজভাবে জেনে নিই ভোটের কালি নিয়ে এই মজার রহস্য।

কালি নয়, এটা আসলে ‘স্পেশাল কেমিক্যাল’

প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার—ভোটের কালি সাধারণ কলমের কালি নয়। এতে থাকে একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ, যার নাম সিলভার নাইট্রেট।

এই কেমিক্যাল ত্বকের ওপর শুধু বসে থাকে না, বরং ত্বকের ওপরের স্তরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। ফলে কালি শুধু বাইরে নয়, একটু ভেতরেও ঢুকে যায়। এ জন্যই তুমি যতই ধোও না কেন, সহজে ওঠে না।

আরও পড়ুন

সূর্যের আলোয় কেন আরও গাঢ় হয়

আরেকটা মজার ব্যাপার হলো, এই কালি সূর্যের আলোতে আরও গাঢ় হয়ে যায়।

যখন সিলভার নাইট্রেট আলো পায়, তখন এটি ত্বকের সঙ্গে এমনভাবে প্রতিক্রিয়া করে যে দাগটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই যারা ভোট দেওয়ার পর বাইরে বেশি সময় থাকে, তাদের কালি সাধারণত বেশি দিন দেখা যায়।

সবার আঙুলে এক রকম থাকে না কেন

তুমি হয়তো খেয়াল করেছো, একজনের কালি দ্রুত উঠে যায়, আরেকজনেরটা থাকে অনেক দিন। কেন এমন হয়?

এর কারণ হলো আমাদের ত্বক একেকজনের একেক রকম: কারও ত্বক দ্রুত নতুন কোষ তৈরি করে, কারও ত্বক ধীরে ধীরে বদলে যায়।

যাদের ত্বক দ্রুত নতুন হয়, তাদের কালি দ্রুত ফেড বা হালকা হয়ে যায়। আর যাদের ত্বক ধীরে ধীরে নতুন করে তৈরি হয়, তাদের কালি বেশি দিন থাকে।

আরও পড়ুন

ধুলে কি কালি ওঠে

অনেকেই ভাবো, ‘জোরে সাবান দিয়ে ধুলে তো উঠে যাবে!’ কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ নয়।

যদি কালি লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে ধোয়া যায়, তাহলে একটু হালকা হতে পারে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলে কালি ত্বকের সঙ্গে মিশে যায়। তখন যতই ধোও, পুরোপুরি উঠবে না।

বেশি কালি লাগলে কী হয়

ভোটকেন্দ্রে কখনো কখনো একটু বেশি কালি লাগানো হয়। তখন দাগটা গভীর হয়। ফলে সেটা উঠতেও সময় বেশি লাগে।

তাই দেখবে, কারও আঙুলে কালি খুব গাঢ়, আবার কারওটা তুলনামূলক হালকা।

আরও পড়ুন

কেন এত শক্ত কালি ব্যবহার করা হয়

এবার আসল প্রশ্ন, এত ঝামেলা করে এমন কালি বানানোর দরকার কী?

এর কারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভোটের কালি ব্যবহার করা হয় যাতে কেউ একাধিকবার ভোট দিতে না পারে। একবার ভোট দিলে আঙুলে কালি লাগানো হয়। এই কালি কয়েক দিন থাকে, ফলে বোঝা যায় সে ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছে।

এটা নির্বাচনকে সঠিক ও স্বচ্ছ রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

তাহলে কি একেবারেই উঠানো যায় না

পুরোপুরি না উঠলেও কিছু উপায়ে কালি একটু দ্রুত হালকা করা যায়:

• সাবান ও কুসুম গরম পানি দিয়ে বারবার ধোয়া

• লেবুর রস ব্যবহার করা

• হালকা স্ক্রাব করা

তবে খুব জোরে ঘষাঘষি করলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সাবধান থাকতে হবে।

কতদিনে পুরোপুরি উঠে যায়

ভোটের কালি সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই উঠে যায়।

কারণ, আমাদের ত্বকের ওপরের স্তর ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে এবং নতুন ত্বক তৈরি হয়। তখন কালিসহ পুরোনো স্তরটাও চলে যায়।

আরও পড়ুন

ছোট্ট একটি বিষয়, বড় একটি কাজ

ভোটের কালি হয়তো দেখতে ছোট একটা দাগ। কিন্তু এর কাজটা অনেক বড়। এটা নিশ্চিত করে যে প্রতিটি মানুষ একবারই ভোট দিতে পারে।

তাই পরেরবার যখন কারও আঙুলে এই কালি দেখবে, ভাববে—এটা শুধু একটা দাগ নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার একটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন