বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট: ৪০টি তথ্য

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানি সাজেক। এখানে রাত–দিন সারাক্ষণ প্রকৃতির নানা রূপ উপভোগ করেন পর্যটকেরা। সবুজ গাছপালায় ঢাকা বনের ভেতরে জুমঘরের আদলে তৈরি মাচাং কটেজ থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগও পান ভ্রমণপিপাসুরা। সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি, ২৬ সেপ্টেম্বর। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি আয়তনে দেশের বৃহত্তম উপজেলা হিসেবে পরিচিত।ছবি: সুপ্রিয় চাকমা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা কোনটি? সবচেয়ে ছোট উপজেলা কোনটি? দেশের দীর্ঘতম নদী, বৃহত্তম বন কিংবা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার জেলা—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে মজার সব তথ্য। কোনোটি আয়তনে বড়, কোনোটি জনসংখ্যায়; আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সবচেয়ে ছোটটি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। চলো, বাংলাদেশের বড়-ছোট নিয়ে ৪০টি তথ্য জেনে নিই।

সবচেয়ে বড়

১. সবচেয়ে বড় জেলা: আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি। এর আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটার।

২. সবচেয়ে বড় উপজেলা: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি আয়তনে দেশের বৃহত্তম উপজেলা হিসেবে পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ১ হাজার ৯৩১ বর্গকিলোমিটার।

৩. সবচেয়ে উঁচু পাহাড়চূড়া: বান্দরবানের থানচিতে অবস্থিত সাকা হাফংকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন পরিমাপে এর উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৫২ থেকে ১ হাজার ৬৪ মিটার পাওয়া গেছে। তবে উচ্চতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

৪. সবচেয়ে বড় হাওর: হাকালুকি হাওর। মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওরের আয়তন বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টরে পৌঁছায়।

৫. বড় দীঘি: বরিশালের বাবুগঞ্জে অবস্থিত দুর্গাসাগর, যা মাধবপাশা দীঘি নামেও পরিচিত। এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক দীঘি।

৬. সবচেয়ে বড় বিল: চলনবিল বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল হিসেবে পরিচিত। রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এর অবস্থান।

৭. সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ: কাপ্তাই হ্রদ। রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত এই হ্রদ কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

৮. সবচেয়ে বড় বন: সুন্দরবন বাংলাদেশের বৃহত্তম বন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনও।

৯. সবচেয়ে বড় দ্বীপ: ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত।

১০. দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার বলে বহুল প্রচলিত।

আরও পড়ুন

১১. দীর্ঘতম নদী: বাংলাদেশের নদীগুলোর দৈর্ঘ্য নির্ধারণে উৎস ও পরিমাপের পদ্ধতিভেদে পার্থক্য দেখা যায়। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা দেশের দীর্ঘতম নদীপথগুলোর অন্যতম। পদ্মা প্রশস্ততার জন্য পরিচিত, আর মেঘনা বিপুল জলপ্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

১২. সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার জেলা: ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ।

১৩. সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা: ঢাকা দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর অন্যতম। নারায়ণগঞ্জেও জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি।

১৪. সর্বোচ্চ দারিদ্র্যের হার: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, জেলাগুলোর মধ্যে মাদারীপুরে দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ—৫৪.৪ শতাংশ। উপজেলাগুলোর মধ্যে ডাসারে এই হার ৬৩.২ শতাংশ।

১৫. সর্বোচ্চ সাক্ষরতার হার: সাক্ষরতার হার দিয়ে বিভিন্ন জেলার শিক্ষার অবস্থা তুলনা করা যায়। তবে কোন জেলা বা এলাকায় এই হার সর্বোচ্চ, তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট জনশুমারির তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

১৬. সবচেয়ে বড় বিভাগ: আয়তনে চট্টগ্রাম বিভাগ বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ। জনসংখ্যায় ঢাকা বিভাগ সবার ওপরে; এর জনসংখ্যা ৪ কোটির বেশি।

১৭. জনসংখ্যায় বড় উপজেলা: গাজীপুর সদর বাংলাদেশের জনবহুল উপজেলাগুলোর অন্যতম। তবে জনসংখ্যার হিসাবে একে বৃহত্তম বলতে হলে নির্দিষ্ট জনশুমারির তথ্য যাচাই করা দরকার।

১৮. বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর: চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান ও বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর।

১৯. দীর্ঘতম সেতু: পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। এর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার।

২০. বৃহত্তম শহর: জনসংখ্যার হিসাবে ঢাকা বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর।

আরও পড়ুন

সবচেয়ে ছোট

২১. সবচেয়ে ছোট জেলা: আয়তনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম জেলা নারায়ণগঞ্জ। এর আয়তন প্রায় ৬৮৪ বর্গকিলোমিটার।

২২. সবচেয়ে ছোট উপজেলা: আয়তনের হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট উপজেলা কোনটি, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা দেশের ক্ষুদ্রতম উপজেলাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ১২১ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাকেও ছোট উপজেলার তালিকায় উল্লেখ করা হয়। তবে সব উপজেলার আয়তন একই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই না করে কোনো একটিকে নিশ্চিতভাবে দেশের সবচেয়ে ছোট বলা ঠিক হবে না।

২৩. সবচেয়ে কম জনসংখ্যার জেলা: বান্দরবান দেশের কম জনসংখ্যার জেলাগুলোর একটি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, জেলাটির জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার।

২৪. সবচেয়ে কম জনঘনত্ব: পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানে জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম। বান্দরবানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০৭ জন বসবাস করে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৫. সর্বনিম্ন দারিদ্র্যের হার: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের দারিদ্র্য মানচিত্রে নোয়াখালী জেলায় দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম—৬.১ শতাংশ। মহানগর থানার হিসাবে ঢাকার পল্টনেও হার খুব কম, প্রায় ১ শতাংশ।

২৬. কম সাক্ষরতার হার: বান্দরবানসহ কয়েকটি পার্বত্য ও হাওরাঞ্চলের জেলায় সাক্ষরতার হার তুলনামূলকভাবে কম। বান্দরবানে এই হার প্রায় ৬৪ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সর্বনিম্ন হার নির্ধারণে একই জনশুমারির তথ্য দিয়ে সব জেলার সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন।

২৭. সবচেয়ে ছোট বিভাগ: আয়তনে ময়মনসিংহ বিভাগ বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম বিভাগ। জনসংখ্যার হিসাবেও বরিশাল বিভাগ সবচেয়ে ছোট বিভাগগুলোর একটি।

২৮. ছোট দ্বীপ: টেকনাফের কাছে ছেঁড়াদ্বীপ ছোট একটি দ্বীপাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ৩ বর্গকিলোমিটার বলে কিছু সূত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম দ্বীপ হিসেবে এর অবস্থান নিশ্চিত নয়।

২৯. সবচেয়ে ছোট নদী: গোবরা নদীকে কোনো কোনো তালিকায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার বলে দাবি করা হলেও, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনস্বীকৃত তালিকা ছাড়া একে নিশ্চিতভাবে ক্ষুদ্রতম বলা কঠিন।

৩০. সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন: আয়তনের হিসাবে সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নকে দেশের ক্ষুদ্রতম ইউনিয়নগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে নিশ্চিত অবস্থান জানতে সব ইউনিয়নের আয়তন তুলনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

৩১. সবচেয়ে ছোট পৌরসভা: বরিশালের বানারীপাড়াকে আয়তনে ছোট পৌরসভাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে দেশের ক্ষুদ্রতম পৌরসভা হিসেবে এর অবস্থান নিশ্চিত করতে হালনাগাদ তথ্য দরকার।

৩২. সবচেয়ে ছোট থানা: ঢাকার সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানা আয়তনে ছোট থানাগুলোর মধ্যে পড়ে। এগুলোর আয়তন প্রায় ২.৬ বর্গকিলোমিটার বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

৩৩. সবচেয়ে নিচু পাহাড়: বাংলাদেশের সবচেয়ে নিচু পাহাড়ের স্বীকৃত কোনো একক তালিকা নেই। পাহাড়ের উচ্চতা, ভৌগোলিক সংজ্ঞা ও পরিমাপের পদ্ধতির ওপর উত্তর নির্ভর করে।

৩৪. সবচেয়ে ছোট হাওর: বাংলাদেশে চার শতাধিক হাওর রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে সবচেয়ে ছোট হাওর কোনটি, তার নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনস্বীকৃত তালিকা নেই।

৩৫. সবচেয়ে ছোট পুকুর: দেশের সবচেয়ে ছোট পুকুরের কোনো জাতীয় তালিকা নেই। গ্রাম ও শহরের অসংখ্য পুকুরের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ছোট, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

৩৬. সবচেয়ে ছোট বন: বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম বনের কোনো সর্বজনস্বীকৃত তালিকা নেই। সুন্দরবনের মতো বৃহৎ বন ছাড়াও দেশে নানা আকারের শালবন, পাহাড়ি বন ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে।

৩৭. সবচেয়ে ছোট সমুদ্রসৈকত: দেশের ক্ষুদ্রতম সমুদ্রসৈকতের কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় তালিকা নেই। কক্সবাজারের বাইরে কুয়াকাটা, সেন্ট মার্টিনসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সৈকত রয়েছে। তাই পরিচিতির ভিত্তিতে কোনো একটিকে ক্ষুদ্রতম বলা যায় না।

৩৮. সবচেয়ে ছোট বন্দর: চট্টগ্রাম দেশের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হলেও ক্ষুদ্রতম নৌবন্দর বা নদীবন্দরের একটি নির্দিষ্ট নাম বলা কঠিন। বন্দরভেদে আকার ও কার্যক্রমের পার্থক্য রয়েছে।

৩৯. সবচেয়ে ছোট সেতু: গ্রামাঞ্চলের খাল, ছড়া ও ছোট নদীর ওপর অসংখ্য ছোট সেতু রয়েছে। এগুলোর দৈর্ঘ্য নিয়ে দেশব্যাপী কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা না থাকায় সবচেয়ে ছোট সেতুটি নির্দিষ্ট করা কঠিন।

৪০. সবচেয়ে ছোট শহর: শহরের আয়তন, জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ক্ষুদ্রতম শহর নির্ধারণ করা যায়। বানারীপাড়ার মতো ছোট পৌরশহর রয়েছে, তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট শহর হিসেবে কোনো একটিকে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করতে তুলনামূলক তথ্য দরকার।

আরও পড়ুন

তথ্যের উৎস

দারিদ্র্যের হারসংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ থেকে নেওয়া। মানচিত্রে ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ ও জনশুমারির তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিস্তারিত দেখো এখানে: https://nsds.bbs.gov.bd/en/topic/52/Poverty

মনে রাখবে: আয়তন, জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ‘সবচেয়ে ছোট’ হিসেবে পরিচিত স্থানগুলোর ক্ষেত্রে সব তথ্য একই মানদণ্ডে যাচাই করা জরুরি। যেখানে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে একক উত্তর নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন