ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে চুরি হয়েছে প্রায় ৬০০ ঐতিহাসিক নিদর্শন
হাতির দাঁত খোদাই করে বানানো একটি হাতি, ব্রিস্টলের মতো বড় জাদুঘরের জন্য খুব সাধারণ একটি শিল্পকর্ম। অথচ এটি এখন নিখোঁজ। যুক্তরাজ্যের এই জাদুঘর থেকে হাতির ভাস্কর্যটি হারিয়ে গেছে। শুধু এই হাতি নয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও কমনওয়েলথের ইতিহাসবিষয়ক ৬০০টির বেশি নিদর্শন চুরি গেছে জাদুঘরটির সংগ্রহশালা থেকে। ৮ জানুয়ারি ২০২৫, বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাভন অ্যান্ড সামারসেট পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে জাদুঘরের একটি স্টোরেজ ভবন থেকে এসব নিদর্শন চুরি করা হয়। চুরি যাওয়া বস্তুগুলোর সাংস্কৃতিক মূল্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে অপরাধের দুই মাসের বেশি সময় পর কেন এ আবেদন করা হলো, তা স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।
ডিটেকটিভ কনস্টেবল ড্যান বার্গান বলেছেন, ‘এতসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নিদর্শন চুরি যাওয়া শহরের জন্য বড় ক্ষতি। এর অনেকগুলোই দান হিসেবে পাওয়া বস্তু। যেগুলো ব্রিটিশ ইতিহাসের অনেক অধ্যায় বুঝতে সাহায্য করে। আমরা আশা করছি, সাধারণ মানুষ আমাদের দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সাহায্য করবেন।’
ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে লন্ডন থেকে প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বন্দরনগরী ব্রিস্টল। একসময় ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসার বড় কেন্দ্র ছিল এই শহর। ১৮০৭ সালে ব্রিটেন দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ করার আগে এই শহরে ব্যবসা করা জাহাজগুলো অন্তত পাঁচ লাখ আফ্রিকান মানুষকে দাস হিসেবে আটলান্টিক পাড় করিয়েছে। ১৮০০ শতকে ব্রিস্টলের বহু প্রভাবশালী পরিবার এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এই ইতিহাসই ২০২০ সালে আবার বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসে। তখন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা ১৭০০ শতকের কুখ্যাত দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কোলস্টনের মূর্তি ভেঙে অ্যাভন নদীতে ফেলে দেন। পরে সেই ভাঙা মূর্তিই তুলে এনে জাদুঘরে প্রদর্শন করা হয়, একটি বিতর্কিত অতীতকে নতুনভাবে দেখার প্রতীক হিসেবে।
এখন এই জাদুঘর আবার আলোচনায় এসেছে। তবে বর্ণবাদের জন্য নয়, চুরির কারণে।