এআই মতে যে তিন পেশাকে এআই সহজে বিলুপ্ত করতে পারবে না
প্রযুক্তিজগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিল গেটস। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কম্পিউটারকে বদলে দেওয়ার পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল। এখন বিল গেটস মনোযোগ দিচ্ছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দিকে। এআইয়ের কারণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে চাকরি বা কাজ। এখন অনেকেই ভাবছেন, এআই কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে?
গেটসের মতে, অনেক পেশাই এআইয়ের কারণে বদলে যেতে পারে। কিছু কাজ হারিয়েও যেতে পারে। তবে এমন কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে মানুষের দক্ষতা সব সময়ই প্রয়োজন হবে। কারণ, এসব কাজে দরকার হয় গভীর চিন্তা, সৃজনশীলতা ও জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা। বর্তমান এআই এখনো পুরোপুরি এগুলোর বিকল্প হতে পারেনি।
একবার বিল গেটস এসব পেশার মধ্যে খেলাধুলার কথাও বলেছেন। টেলিভিশন অনুষ্ঠান দ্য টুনাইট শো উইথ জিমি ফ্যালন–এ তিনি বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চয়ই কম্পিউটারকে বেসবল খেলতে দেখতে চাইব না।’ তাঁর মতে, কিছু কাজ মানুষ নিজেরাই করতে চাইবে। তবে জিনিস তৈরি করা, পরিবহন করা বা খাদ্য উৎপাদনের মতো অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এআই ও প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে। নিচে এমন কিছু ক্ষেত্রের কথা বলা হলো, যেগুলো এআই সহজে বিলুপ্ত করতে পারবে না।
জীববিজ্ঞান
বিল গেটসের মতে, জীববিজ্ঞানীদের কাজ সহজে এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। জীববিজ্ঞানীরা জীবনের মৌলিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন। নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এআই তথ্য বিশ্লেষণে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু নতুন ধারণা তৈরি করা, প্রশ্ন তোলা বা হঠাৎ নতুন কোনো সম্ভাবনা কল্পনা করা এখনো মানুষের শক্তি।
জ্বালানি খাত
গেটস জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের কথাও উল্লেখ করেছেন। বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি ব্যবস্থা নানা জটিলতা ও চ্যালেঞ্জের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতিগত পরিবর্তনের মতো বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এআই তথ্য বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য পরিস্থিতির মডেলও তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও নতুন কৌশল তৈরি করতে এখনো মানুষের প্রয়োজন।
প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার উন্নয়ন
প্রোগ্রামারদের কাজও গেটসের তালিকায় আছে। এখন এআই কোড লিখতে ও ভুল খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে পারে। তবু নতুন সফটওয়্যার তৈরি, জটিল নকশা করা ও উদ্ভাবনী সমাধান বের করার ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা সব সময়ই থাকবে। গেটস মনে করেন, ভবিষ্যতেও প্রোগ্রামারদের দরকার হবে। কারণ, এআই ব্যবস্থাগুলো তৈরি করা, উন্নত বা নিয়ন্ত্রণ করতেও দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে।
তবে এআই নিয়ে বিতর্ক চলছেই। অনেকে মনে করেন, এআই উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং বড় বড় সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে। আবার কেউ কেউ উদ্বিগ্ন। অনেকে মনে করেন, অনেক মানুষের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া এআই নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন আছে।