ইরানজুড়ে অ্যাসিড–বৃষ্টির পূর্বাভাস

বিপজ্জনক এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তেহরানের তেল স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের হামলার পর

তেহরানে দ্রুতই বিষাক্ত বৃষ্টি বা অ্যাসিড–বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, গত ৮ মার্চ রোববার স্থানীয়ভাবে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিষাক্ত বৃষ্টি শরীরে লাগলে রাসায়নিকভাবে ত্বক পুড়ে যেতে পারে ও নিশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিপজ্জনক এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তেহরানের তেল শোধনাগার বা তেল স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের হামলার পর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার পর থেকেই বাতাসে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি সূর্য ওঠার পরও কালো মেঘে শহর অন্ধকার হয়ে ছিল এবং বৃষ্টিও হচ্ছিল। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরও আকাশ থেকে পড়া বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে চিটচিটে তেল মেশানো পানি পড়ার খবর জানিয়েছেন অনেক আতঙ্কিত বাসিন্দা। কালো এই মেঘ আর তেলের মিশ্রণই মূলত অ্যাসিড–বৃষ্টির বড় কারণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এই হামলায় একটি তেল উৎপাদনকেন্দ্রসহ মোট চারটি তেল সংরক্ষণাগার বা ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, এই ঘটনায় অন্তত চারজন ট্যাংকারচালক প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অ্যাসিড–বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও যেন মানুষ ঘর থেকে বের না হন। কারণ, বৃষ্টির পর যখন গরম মাটি বা রাস্তার উপরিভাগ থেকে পানি বাষ্প হয়ে উড়তে শুরু করে, তখন বাতাসে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ নিশ্বাসের বাতাসের সঙ্গে এই বিষাক্ত বাষ্প শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, তেল ডিপো বিস্ফোরণের ফলে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন
মূলত বৃষ্টির পানির সঙ্গে যখন ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অ্যাসিড মিশে থাকে, তখন তাকে অ্যাসিড–বৃষ্টি বলে

গত ৭ মার্চ শনিবার রাতে ইসরায়েল তেহরান ও আলবোর্জ এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের তথ্যমতে, এই হামলায় একটি তেল উৎপাদনকেন্দ্রসহ মোট চারটি তেল সংরক্ষণাগার বা ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, এই ঘটনায় অন্তত চারজন ট্যাংকারচালক প্রাণ হারিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর রাতের আকাশে বিশাল আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো শহরকে উজ্জ্বল আলোয় ভরিয়ে দিয়েছিল। এই যুদ্ধ চলাকালে এবারই প্রথম কোনো বেসামরিক শিল্প এলাকা বা সাধারণ মানুষের কাজের জায়গাকে লক্ষ্য করে এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হলো।

বৃষ্টির এই পানি সরাসরি ত্বকে লাগলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ত্বক পুড়ে যেতে পারে। এমনকি শরীরে মারাত্মক জ্বালাপোড়া বা র‍্যাশ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সেই ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পর মানবিক সাহায্যকারী রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সংস্থাটি বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে এই বিষাক্ত পরিবেশের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ ও ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে। তারা ইরানি নাগরিকদের সুরক্ষায় বেশ কিছু পরামর্শ মেনে চলতে বলছে।

মূলত বৃষ্টির পানির সঙ্গে যখন ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অ্যাসিড মিশে থাকে, তখন তাকে অ্যাসিড–বৃষ্টি বলে। কলকারখানা, যানবাহন কিংবা তেল শোধনাগারের বিষাক্ত ধোঁয়া যখন বাতাসে জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে যায়, তখন একধরনের হালকা অ্যাসিড তৈরি হয়। এই অ্যাসিড বৃষ্টির পানির সঙ্গে নিচে নেমে আসে। তেহরানে তেল স্থাপনায় হামলার পর বাতাসে প্রচুর পরিমাণে তেলের কণা ও রাসায়নিক ধোঁয়া মিশে যাওয়ায় সেখানে এই বিষাক্ত বৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন
এই বিষাক্ত বৃষ্টি শরীরে লাগলে রাসায়নিকভাবে ত্বক পুড়ে যেতে পারে ও নিশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে

অ্যাসিড–বৃষ্টি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপজ্জনক। বৃষ্টির এই পানি সরাসরি ত্বকে লাগলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ত্বক পুড়ে যেতে পারে। এমনকি শরীরে মারাত্মক জ্বালাপোড়া বা র‍্যাশ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিষাক্ত এই পানি চোখে লাগলে তীব্র জ্বালাপোড়া ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে।

নিশ্বাসের সঙ্গে এই বৃষ্টির বিষাক্ত গ্যাস শরীরে প্রবেশ করলে তা সরাসরি ফুসফুসে ক্ষতি করে। ফলে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের মতো কঠিন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

তেহরানে তেল স্থাপনায় হামলার পর বাতাসে প্রচুর পরিমাণে তেলের কণা ও রাসায়নিক ধোঁয়া মিশে যাওয়ায় সেখানে এই বিষাক্ত বৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যাঁরা অ্যাসিড–বৃষ্টির কবলে পড়া অঞ্চলে আছেন, তাঁদের প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রেও সাবধান হতে হবে। খাবার সিল করা থাকলেও প্যাকেট খোলার আগে এর বাইরের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। কারণ, প্যাকেটের গায়ে লেগে থাকা অদৃশ্য অ্যাসিড–কণা খাবারকে বিষাক্ত করে দিতে পারে।

এ ছাড়া বাড়ির পানির ফিল্টার বা পরিশোধনব্যবস্থা বদলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দূষিত পানি পুরোনো ফিল্টারগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে সেই ফিল্টারের পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সূত্র: মিন্ট, নিউইয়র্ক পোস্ট, জিবিনিউজ

আরও পড়ুন