মৃত্যুর তিন দিন পরে যিনি নোবেল পেয়েছিলেন

বিজ্ঞানী র‍্যালফ স্টেইনম্যান

সাধারণত জীবিত ব্যক্তিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। কোনো মৃত ব্যক্তির নোবেল পাওয়ার নিয়ম নেই। যিনি পুরস্কার পাবেন, তাঁকেই সম্মাননা দেওয়া হবে। যদি পুরস্কার পাওয়ার খবরটাই জানতে না পারেন, তবে এর আর মূল্য কী?

এমন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছিল বিজ্ঞানী র‍্যালফ স্টেইনম্যানের ক্ষেত্রে। ২০১১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। অথচ তার তিন দিন আগেই মারা গিয়েছিলেন তিনি!

র‍্যালফ স্টেইনম্যান ছিলেন কানাডায় জন্ম নেওয়া একজন বিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ক্ষতিকর জীবাণু শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো ডেনড্রাইটিক কোষ। ১৯৭৩ সালে স্টেইনম্যান এই বিশেষ ধরনের কোষ আবিষ্কার করেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, ডেনড্রাইটিক কোষ টি-কোষকে সক্রিয় করতে পারে। টি-কোষ হলো রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার এমন একধরনের কোষ, যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন
স্টেইনম্যানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর খবর না জেনেই

স্টেইনম্যানের এই আবিষ্কার রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা বদলে দেয়। তাঁর গবেষণা সংক্রমণ ও ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা বোঝার নতুন পথ খুলে দিয়েছিল। দীর্ঘদিন অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে ভুগছিলেন এই বিজ্ঞানী। ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, ৬৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

এরপর আসে ৩ অক্টোবর। সেদিন সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০১১ সালের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। স্টেইনম্যানের নামও ছিল তালিকায়। তাঁর মৃত্যুর খবর তখনো নোবেল কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না। পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

আরও পড়ুন

এবার দেখা দিল এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া যায় না। তবে পুরস্কার ঘোষণার পর কেউ মারা গেলে তাঁর পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। স্টেইনম্যানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর খবর না জেনেই। তাই নোবেল ফাউন্ডেশন সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁর পুরস্কার বহাল থাকবে।

সেই বছর স্টেইনম্যানের সঙ্গে ব্রুস বয়েটলার ও জুলস হফম্যানও চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন। পুরস্কারের অর্ধেক পেয়েছিলেন স্টেইনম্যান, বাকি অর্ধেক ভাগ করে নেন অন্য দুই বিজ্ঞানী।

ভাবো তো, যে সম্মানের জন্য একজন বিজ্ঞানী সারা জীবন গবেষণা করলেন, সেই সম্মানের খবর আর নিজে জেনে যেতে পারলেন না! বিষয়টা অদ্ভুতই বটে।

সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডট অর্গ
আরও পড়ুন