৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল কীভাবে এল
ভাবো তো, তোমার বাসায় এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৫০৬ কোটি টাকা! শুনতে গল্পের মতো লাগছে, তা–ই না? কিন্তু মাগুরায় এমনই একটি বিদ্যুৎ বিল তৈরি হয়েছিল। অবশ্য এই টাকা গ্রাহককে দিতে হয়নি। কারণ, পুরো ঘটনাটিই ঘটেছিল একটি বড় ধরনের ভুল থেকে।
মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া খাতুনের বাড়িতে কিছুদিন আগে নতুন বিদ্যুৎ মিটার লাগানো হয়। এরপর সেই মিটারের তথ্য দিয়ে মাসের বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা হচ্ছিল।
এখানেই ঘটে বিপত্তি।
বিল তৈরির সময় কম্পিউটারে তথ্য লেখার সময় একটি ঘরে ভুল করে মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো বসে যায়। অথচ ওই ঘরে থাকার কথা ছিল ডিমান্ড চার্জের হিসাব। ফলে অল্প কিছু সংখ্যার জায়গায় ঢুকে যায় অনেক বড় একটি সংখ্যা।
এর ফলেই ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা!
এর সঙ্গে যোগ হয় ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া। সব মিলিয়ে বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। বিলম্ব মাশুল ধরলে সেটি ৫৩০ কোটি টাকারও বেশি হয়ে যায়।
কিন্তু আসলে আলেয়া খাতুন কত টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছিলেন?
মাত্র ২৩৫ ইউনিট।
সরকার নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে তাঁর প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ছিল প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। পরে ভুলটি ধরা পড়লে বিল সংশোধন করে ১ হাজার ৯৩৮ টাকা করা হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অবাক হন। কারণ, একটি সাধারণ পরিবারের বিদ্যুৎ বিল কীভাবে কয়েক শ কোটি টাকা হতে পারে?
এটি কোনো জাদুর ঘটনা নয়। বিদ্যুৎও হঠাৎ এত বেশি ব্যবহার হয়নি। আসল ঘটনা হলো, কম্পিউটারে তথ্য লেখার সময় ভুল জায়গায় ভুল সংখ্যা বসে গিয়েছিল।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট জেনারেল ম্যানেজার, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অন্য কয়েকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীও গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনা থেকে একটি মজার কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। কম্পিউটার খুব দ্রুত হিসাব করতে পারে, কিন্তু কম্পিউটারকে যে তথ্য দেওয়া হয়, সেটি ভুল হলে ফলও ভুল হবে। তাই শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেই হবে না। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঠিক আছে কি না, সেটিও মানুষকে যাচাই করতে হয়।
আর ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৫০৬ কোটি টাকার বিল পাওয়ার ঘটনাটি আমাদের সেটাই মনে করিয়ে দিল।