বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দাঁতের মানুষ

আমরা প্রথাব মুনিয়ান্ডিগিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ঝকঝকে দাঁতগুলো কখনো গুনে দেখেছ? তুমি যদি প্রতিদিন ঠিকভাবে দাঁতের যত্ন নাও, তাহলে বড় হওয়ার পর তোমার মুখে সুন্দর ৩২টি দাঁত থাকবে! কিন্তু যদি বলি পৃথিবীতে এমন মানুষও আছে, যার মুখে ৩২টির চেয়ে অনেক বেশি দাঁত আছে? একটা বা দুইটা দাঁত বেশি নয়, আরও অনেক বেশি দাঁতের মানুষও পৃথিবীতে আছে। চলো, আজ তেমন একজন মানুষের গল্প শুনি! সঙ্গে জেনে নিই, কেন তার দাঁত বেশি হলো।

আমরা প্রথাব মুনিয়ান্ডি নামের একজন মানুষের কথা বলছি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী, তিনিই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দাঁতের মানুষ! সবচেয়ে মজার ব্যাপার কি জানো? প্রথাব নিজেই জানতেন না যে তাঁর মুখে এতগুলো দাঁত আছে! ২০২১ সালে একদিন পরিবারের সবার সঙ্গে বসে মজা করে খাওয়ার সময় তিনি প্রথম খেয়াল করেন, তাঁর মুখে দাঁত একটু বেশি। সবাই মিলে গুনে দেখা গেল, তাঁর মুখে ৩৮টি দাঁত! এরপর ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে এক্স-রে করালে দেখা যায়, মাড়ির ভেতর আরও ৪টি দাঁত লুকিয়ে আছে। ২০২৩ সালের দিকে সেই দাঁতগুলোও বেরিয়ে আসে এবং তাঁর মোট দাঁতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২টিতে!

আরও পড়ুন
যদি এগুলোর কারণে দাঁত ব্রাশ করতে সমস্যা না হয়, মাড়িতে কোনো রোগ না হয় বা খাবার চাবাতে কষ্ট না হয়, তবে এগুলো দিব্যি রেখে দেওয়া যায়।
ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে এক্স-রে করালে দেখা যায়, মাড়ির ভেতর আরও ৪টি দাঁত লুকিয়ে আছে
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

বেশি দাঁত থাকলে কি কোনো সমস্যা হয়

বিজ্ঞানের ভাষায় এই বেশি দাঁত থাকাকে বলা হয় হাইপারডনশিয়া। মানুষের জিন বা দাঁত তৈরির কোষগুলোর একটু খামখেয়ালির কারণেই এমনটা হয়।

এই বাড়তি দাঁতগুলোতে সাধারণত ভয়ের কিছু নেই। যদি এগুলোর কারণে দাঁত ব্রাশ করতে সমস্যা না হয়, মাড়িতে কোনো রোগ না হয় বা খাবার চাবাতে কষ্ট না হয়, তবে এগুলো দিব্যি রেখে দেওয়া যায়। প্রথাবের ভাগ্য বেশ ভালো, তাঁর দাঁতগুলো একদম সোজা হয়েই উঠেছে। তবে সাধারণ মানুষের চেয়ে তাঁর দাঁত ব্রাশ করতে একটু বেশি সময় ও কষ্ট লাগে, এই যা! তিনি নিজে থেকে না বললে কেউ টেরও পায় না যে তাঁর মুখে এতগুলো দাঁত আছে।

আরও পড়ুন

ছোট্ট মেয়ের ৮১টি দাঁত!

প্রথাব তো শুধু পুরুষদের মধ্যে রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু ২০১১ সালের একটা সত্যি ঘটনা শুনলে তুমি চমকে উঠবে! ১১ বছরের এক ছোট্ট মেয়ের মুখে পাওয়া গিয়েছিল গুনে গুনে ৮১টি দাঁত! সে-ও ঘুণাক্ষরেও জানত না তার মুখে এত দাঁত লুকিয়ে আছে। একটি দুধদাঁত পড়ার পর একটু সমস্যা হওয়ায় সে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল। তখনই এক্স-রে করে ধরা পড়ে এই বিশাল দাঁতের বহর! ডাক্তাররা খুব সাবধানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তার চোয়ালের কোনো ক্ষতি না হয়।

আরও পড়ুন
এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দাঁতের মানুষ আমরা প্রথাব মুনিয়ান্ডি
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

কিন্তু কেন বেশি দাঁত ওঠে

তুমি হয়তো ভাবছ, মানুষের মাড়ির ভেতর হঠাৎ করে এতগুলো বাড়তি দাঁত কোথা থেকে আসে? বিষয়টা হলো, মায়ের পেটে থাকার সময় থেকেই আমাদের মাড়ির নিচে ডেন্টাল ল্যামিনা নামে একটি বিশেষ টিস্যু তৈরি হয়। এটিই হলো আমাদের দাঁত তৈরির মূল কারখানা। এই কারখানায় সাধারণত ২০টি দুধদাঁত ও ৩২টি স্থায়ী দাঁত তৈরির নির্দিষ্ট নির্দেশ থাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে এই কারখানার কোষগুলো একটু বেশিই চঞ্চল হয়ে ওঠে। তখন তারা ওই নির্দিষ্ট নির্দেশের বাইরে গিয়ে মনের আনন্দে আরও কিছু বাড়তি দাঁতের কুঁড়ি তৈরি করে ফেলে! আর এভাবেই জন্ম নেয় বাড়তি দাঁত।

এর পেছনে বিজ্ঞানীদের আরও কিছু মজার ব্যাখ্যা আছে। অনেক সময় এই ব্যাপারটি জিনের মাধ্যমে পরিবার থেকে বংশপরম্পরায় ছড়িয়ে পড়ে। তোমার দাদা-দাদি বা মা-বাবার যদি এমন বাড়তি দাঁত থেকে থাকে, তবে তোমার ডিএনএতেও সেই বাড়তি দাঁত তৈরির নির্দেশ চলে আসতে পারে।

প্রথাব তো শুধু পুরুষদের মধ্যে রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু ২০১১ সালের একটা সত্যি ঘটনা শুনলে তুমি চমকে উঠবে! ১১ বছরের এক ছোট্ট মেয়ের মুখে পাওয়া গিয়েছিল গুনে গুনে ৮১টি দাঁত!

কখনো কখনো মাড়ির ভেতর তৈরি হওয়া একটা দাঁতের কুঁড়ি কোনো কারণে মাঝখান থেকে দুই ভাগ হয়ে যায়। তখন একটা দাঁতের বদলে সেখানে দুটো যমজ দাঁত গজিয়ে ওঠে! আবার মাঝেমধ্যে কিছু বিশেষ জিনগত রোগের কারণেও মুখে এমন অসংখ্য দাঁত গজাতে পারে। ওই যে ১১ বছরের ছোট্ট মেয়েটির কথা বললাম, তার ৮১টি দাঁত হওয়ার পেছনেও মূলত এমন একটি জেনেটিক সিনড্রোমই দায়ী ছিল।

তাহলে বুঝতেই পারছ, বেশি দাঁত হওয়াটা কোনো জাদুর ব্যাপার নয়, বরং এটি তোমার শরীরের ভেতরের ছোট্ট কোষগুলোর একটু বেশি কাজ করে ফেলার ফল!

সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

আরও পড়ুন