পারমাণবিক বিস্ফোরণেও কি তেলাপোকা বেঁচে থাকে

পারমাণবিক বিস্ফোরণেও তেলাপোকা বেঁচে থাকে, এ কথাটি মিথমিডজার্নি

অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে, কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে—শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই উক্তি বিজ্ঞানের অন্যতম বড় বাস্তবতা। যোগ্যরাই টিকে থাকবে বলে জীববিজ্ঞানের একটা তত্ত্ব আছে। সেই তত্ত্ব বলে, অভিযোজনক্ষমতার দিক থেকে অতিকায় হাতি বা ম্যামথের চেয়ে তেলাপোকার যোগ্যতা অনেক বেশি। তাই তেলাপোকা টিকে আছে, ধ্বংস হয়ে গেছে ম্যামথ, এমনকি ডাইনোসরের মতো বিশাল প্রাণীরা।

তেলাপোকার টিকে থাকার ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই কোটি কোটি বছর ধরে এরা টিকে আছে সুদৃঢ়ভাবে। এদের সবচেয়ে অপছন্দ করে মানুষ। আর সেই মানুষের নাকের ডগাতেই এরা বসবাস করে। তেলাপোকা মারতে কত কী ওষুধ, অ্যারোসল ব্যবহার করে মানুষ, তবু পেরে ওঠে না।

তাই হয়তো প্রবাদ আছে, তেলাপোকা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ সহ্য করেও টিকে থাকে। এই কথাটা কতটা সত্যি? নাকি মিথ? সামান্য একটু আঘাতেই যে পোকা অক্কা যায়, পারমাণবিক বোমার আঘাত সে কীভাবে সহ্য করবে?

আরও পড়ুন

পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতা পৃথিবীবাসী দেখেছে ১৯৪৫ সালে, জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে। সে বছর ৬ আগস্ট হিরোশিমায় ও ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দুটি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র। ধ্বংসলীলায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার মানুষ মারা যায়।

তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে পরে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ৮০ বছর পেরিয়ে এসে এখনো এই দুই শহরে অনেক শিশু পঙ্গুত্ব নিয়ে জন্মায়।

এহেন ধ্বংসক্ষমতা যে বোমার, তার আঘাতে কি তেলাপোকার মতো খুদে প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে?

এটা এক অর্থে সত্যি, আরেক অর্থে মিথ। মিথ বলছি, কারণ পারমাণবিক বোমার আঘাতে তেলাপোকা বেঁচে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। যেখানে বিশাল বিশাল সব বিল্ডিং, পাহাড়-পর্বত পর্যন্ত ধসে পড়তে পারে এই বোমার আঘাতে, সেখানে সামান্য তেলাপোকা নিমেষে ছাই হয়ে যাবে—এটাই বাস্তবতা। সুতরাং, “তেলাপোকা পারমাণবিক বোমার আঘাত সহ্য করতে পারে”—এ কথাটি মিথ।

তাহলে অন্য অর্থে সত্যি কেন?

এখানেই আসলে কিছুটা বোঝার ভুল আছে।

আরও পড়ুন

তেলাপোকার অভিযোজন ক্ষমতা আশ্চর্যজনক। অনেক বড় বড় বিপর্যয়ে মানুষ তো বটেই, অনেক শক্তিশালী প্রাণীও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তেলাপোকা দিব্যি সেই ধ্বংসযজ্ঞ সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। টিকে তখনই থাকতে পারবে, যদি তেলাপোকা সরাসরি আক্রান্ত না হয়।

ধরা যাক, এমন কিছুর আড়ালে তেলাপোকা টিকে আছে, যেখানে পারমাণবিক বোমার আঘাত সরাসরি লাগেনি। তবে তেজস্ক্রিয়তা হয়তো কিছুটা পৌঁছেছে। এমন একটা জায়গায় মানুষ বা অন্য প্রাণী লুকিয়ে থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে মারা যেত না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। এমনকি এসব প্রাণী সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়ে। তাই ওই এলাকা থেকে মানুষ বা অন্য প্রাণীর বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা খুব কম।

কিন্তু টিকে থাকা তেলাপোকার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সহ্য করার ক্ষমতা অনেক বেশি। এমনকি তেজস্ক্রিয়তাজনিত রোগবালাই অন্য প্রাণীর চেয়ে তেলাপোকার কম হয়। তার মানে এই নয়, পারমাণবিক বোমার আঘাত সরাসরি সহ্য করতে পারে তেলাপোকা।

আরও পড়ুন