চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়েছে নেকড়ে, উদ্ধার অভিযান চলছে
দক্ষিণ কোরিয়ার দেজন শহরে প্রায় পনেরো লাখ মানুষ বাস করে। হুট করে এই শহরের বাসিন্দারা এক অদ্ভুত আতঙ্কের মুখে পড়েছেন। একটি নেকড়ে শহরের একটি চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে গেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান। মাঠে নেমেছে শত শত উদ্ধারকর্মী, পুলিশ আর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা।
৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার শহরের ও-ওয়ার্ল্ড থিম পার্কের ভেতরের চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যায় নেকড়েটি। ২০২৪ সালে জন্ম নেওয়া প্রায় ৩০ কেজি ওজনের এই পুরুষ নেকড়ে হুট করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। এরপর চারপাশের এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি ধরা পড়েনি। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিন শতাধিক মানুষ এই সার্চ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। আকাশে ওড়ানো হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ড্রোন নামিয়ে ফেলতে হয়েছে। ফলে অনুসন্ধান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে, নেকড়েটি শহরের একটি সড়কের মাঝখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে থিম পার্কের কাছের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেজন মেট্রোপলিটন শিক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেকড়ের পালানোর ঘটনার কারণে স্কুলটি এক দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন খোলার আগে প্রতিটি খাঁচা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সেদিন একটি নেকড়েকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা যায়, সেটি খাঁচার নিচের মাটি খুঁড়ে পালিয়ে গেছে।
চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালে সিউল শহরে একটি জেব্রা চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে গিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তখন জেব্রাটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ‘সেরো’ নামের সেই জেব্রাটিকে শেষ পর্যন্ত একটি সরু গলিতে ঘিরে ফেলে শান্ত করা হয় এবং নিরাপদে চিড়িয়াখানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
দেজনের এই নেকড়েটি এখনো শহরের কোথাও লুকিয়ে আছে। এই ভাবনাই এই শহরের মানুষের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে। একদিকে উদ্ধারকর্মীরা চেষ্টা করছেন নেকড়েটিকে খুঁজে পাওয়ার, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। সব মিলিয়ে শহরটি এখন এক টানটান উত্তেজনার ভেতর দিয়ে সময় পার করছে। কখন ধরা পড়বে নেকড়েটি, আর কখন স্বাভাবিক হবে শহরের জীবন, সেই অপেক্ষাতে সবাই তাকিয়ে আছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান