লাশের ব্যাগে চোখ খুলেছিলেন টিমশা, পরিবার পেল ৩.২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ

প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর টিমশা বোচাম্প মারা যানএপি

মৃত ঘোষণা হওয়ার পর একজন মানুষের গল্প সাধারণত সেখানেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ২০ বছর বয়সী টিমশা বোচাম্পের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তাঁর গল্প শুরুই হয়েছে মৃত ঘোষণার পর।

২০২০ সালে একদিন হঠাৎ শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন টিমশা। পরিবার ভয় পেয়ে জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে। প্যারামেডিকরা এসে সিপিআর দেন, অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চললেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত একজন চিকিৎসক ফোনেই টিমশাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে রাখা হয় একটি লাশের ব্যাগে এবং পাঠানো হয় একটি ফিউনারেল হোমে।

পরিবার তখনো বিশ্বাস করতে পারছিল না। কিছুক্ষণ আগেও যে মেয়েটি শ্বাস নিতে লড়াই করছিল, হঠাৎ সে কীভাবে মারা গেল? কিন্তু চিকিৎসকের ঘোষণার পর আর কিছু করার থাকে না। এমনটাই সবাই ধরে নেয়।

আরও পড়ুন

ফিউনারেল হোমে পৌঁছানোর পর ঘটে বিচিত্র ঘটনা। কর্মীরা যখন লাশের ব্যাগ খুললেন, তখন টিমশা চোখ খুললেন। তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন। যাকে মৃত ধরে আনা হয়েছিল, তিনি তখনো জীবিত।

ফিউনারেল হোমের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগে ফোন করেন। দ্রুত টিমশাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় অক্সিজেন না পাওয়ায় তাঁর মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেননি। প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর টিমশা বোচাম্প মারা যান।

আরও পড়ুন

এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্ন ওঠে, ফোনে কাউকে মৃত ঘোষণা করা কতটা নিরাপদ? পরিবার যখন বলছিল জীবনচিহ্ন আছে, তখন সেই কথাকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আরও সতর্ক হলে কি এই তরুণীর জীবন বাঁচানো যেত?

টিমশার পরিবার পরে মিশিগানের সাউথফিল্ড শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, যথাযথভাবে পরীক্ষা না করে এবং হাসপাতালে না নিয়ে তাড়াহুড়ো করে মৃত ঘোষণা করায় টিমশার জীবন বাঁচানোর সুযোগ নষ্ট হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সাউথফিল্ড শহর কর্তৃপক্ষ পরিবারকে ৩ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়।

সূত্র: এপি

আরও পড়ুন