জীবনরক্ষায় স্মার্টফোনের যে ফিচারগুলো চালু রাখতে হবে
হয়তো বিষয়টি নিয়ে তুমি আগে কখনো ভাবোনি, তবে তোমার হাতের ফোনটিই বিপদের সময় জীবন বাঁচাতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোন দুই ধরনের ফোনেই বেশ কিছু জরুরি নিরাপত্তা ফিচার থাকে। কোনো বিপদে পড়ার আগেই এসব সুবিধার কথা জেনে রাখা দরকার।
ফোনে কী কী জরুরি সুবিধা রয়েছে আর সেগুলো কীভাবে খুঁজে পাবে, তা জানব। এখানে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ ফোন এবং আইওএস ২৭ আইফোনের নিয়মগুলো বলা হচ্ছে। তবে যদি অন্য কোনো ব্যান্ডের ফোন, পুরোনো মডেল বা আগের সফটওয়্যার ব্যবহার করো, তবে ফিচারের নাম বা সেটিংসের জায়গা একটু আলাদা হতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তা ফিচার
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের লক স্ক্রিনে রক্তের গ্রুপ, অ্যালার্জি ও ওষুধের তালিকা যোগ করে রাখা যায়। এতে বিপদের সময়ে কেউ ফোন আনলক না করেই এসব মেডিক্যাল তথ্য দেখতে পারবে। পাশাপাশি জরুরি যোগাযোগের নম্বরও (Emergency contacts) যুক্ত করা সম্ভব। এটি সেট করতে সেটিংসে (Settings) গিয়ে সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি (Safety and emergency) অপশনে গিয়ে মেডিক্যাল ইনফরমেশন (Medical information) ও ইমার্জেন্সি কনট্যাক্টস (Emergency contacts)-এ ট্যাপ করো।
গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ
একই সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি মেনুতে এই ফিচার রয়েছে। ফোনে থাকা সেন্সর দুর্ঘটনার কথা বুঝতে পারলে স্ক্রিনে আলো জ্বলে উঠবে এবং বিকট শব্দ করে ঠিক আছো কি না জানতে চাইবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই অ্যালার্টটি বন্ধ বা বাতিল না করলে ফোন নিজে থেকেই জরুরি সেবা ও তোমার প্রিয়জনদের কাছে বার্তা পাঠাবে।
দুর্যোগ ও ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা
স্ক্রিনের নিচের দিকে থাকা ক্রাইসিস অ্যালার্টস (Crisis alerts) সুবিধাটি এলাকাভিত্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি জননিরাপত্তার খবর নোটিফিকেশনে জানিয়ে দেয়। আর ওয়্যারলেস ইমার্জেন্সি অ্যালার্টস (Wireless emergency alerts) ফিচারটি একইভাবে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠায়। এ ছাড়া আর্থকোয়েক অ্যালার্টস (Earthquake alerts) ফিচারটি ভূকম্পন শুরুর কয়েক সেকেন্ড আগেই সতর্ক করে দিতে পারে। এটা মূলত পুরো অ্যান্ড্রয়েড নেটওয়ার্ককে গুগল এখানে একটি বিশাল ভূকম্পন-মাপক যন্ত্র বা সিসমোমিটার হিসেবে ব্যবহার করে।
স্যাটেলাইট এসওএস
পিক্সেল ৯ ও পরবর্তী মডেলগুলোতে ওয়াই–ফাই বা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও জরুরি কলের জন্য স্যাটেলাইট ব্যবহারের সুযোগ থাকে। এর সাহায্যে বিপদের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য জরুরি সেবা ও পরিচিতদের কাছে পাঠানো যায়। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ ও এস২৬ সহ অন্য ফোনেও এই সুবিধা আছে। তবে তা মিলবে কি না, তা নির্ভর করে মোবাইল অপারেটরের ওপর।
পিক্সেল সেফটি চেক
পার্সোনাল সেফটি (Personal Safety) অ্যাপ থেকে এই ফিচার চালু করতে পারো। একা হাঁটা বা বাসে চড়ার আগে একটি নির্দিষ্ট সময় সেট করে রাখা যায়। নির্ধারিত সময়ের পর তুমি নিজে নিশ্চিত না করলে ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তোমার বেছে নেওয়া পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ পাঠাবে।
আইফোনে নিরাপত্তা ফিচার
অ্যান্ড্রয়েডের মতো আইফোনেও বন্যা, ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিপদে সতর্কবার্তা পেতে সেটিংসের নোটিফিকেশনসে গিয়ে গভর্নমেন্ট অ্যালার্টস (Government Alerts) চালু রাখা যায়। আর লক স্ক্রিনে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও জরুরি পরিচিতদের নম্বর যোগ করতে হেলথ (Health) অ্যাপের প্রোফাইল ছবি থেকে মেডিক্যাল আইডি (Medical ID)-তে তথ্য রাখা যায়। এতে দুর্ঘটনার পর ফোন আনলক না করেই কেউ তা দেখতে পাবে।
এ ছাড়া বিপদের সময়ে স্বাভাবিকভাবে জরুরি কল করা সম্ভব না হলে ফোনের পাশের বাটনও যেকোনো একটি ভলিউম বাটন একসঙ্গে চেপে ধরে রাখলে ইমার্জেন্সি এসওএস (Emergency SOS) চালু হবে। এটি নির্দিষ্ট কাউন্টডাউন শেষে নিজে থেকেই জরুরি সেবা ও পরিচিতদের কাছে কল দেবে। আর লোকেশন পাঠিয়ে দেবে। এটি ঠিক করতে সেটিংসে গিয়ে ইমার্জেন্সি এসওএসে যেতে হয়।
আইফোন ১৪ বা এর পরবর্তী মডেলগুলোতে ফোন তীব্র আঘাত টের পেলে কল আফটার সিভিয়ার ক্র্যাশ (Call After Severe Crash) ফিচারটি স্ক্রিনে অ্যালার্ট দেখায়। দ্রুত সেটি বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি নম্বরে কল চলে যাবে। এসব মডেলে ওয়াই–ফাই বা কোনো নেটওয়ার্ক না থাকলেও কল করার চেষ্টা করলে নিজে থেকেই স্যাটেলাইট ব্যবহারের অপশন দেখায়, যার জন্য আলাদা কোনো সেটিংসের দরকার হয় না।