কোচ এনরিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, দোন্নারুম্মা যাবেন কোথায়
মৌসুম শুরু হতে বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিন। এর মধ্যেই পিএসজি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। ফুটবল দুনিয়ায় এমন ঘোষণা বেশ স্বাভাবিকই। কিন্তু দোন্নারুম্মার সেই টুইট দেখে রীতিমত চক্ষু চড়কগাছ হয়ে উঠেছিল ফুটবল বিশ্বের।
সাধারণত বিদায়ী বার্তায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা, দর্শকদের ভালোবাসার কথা বলেই ইতি টানেন খেলোয়াড়েরা। কিন্তু দোন্নারুম্মা সে পথে হাঁটেননি। আবেগঘন এক পোস্টে সরাসরি আক্রমণই করে বসলেন কোনো একজনকে। ‘প্রথম দিন থেকেই দলে জায়গা পেতে এবং প্যারিসের গোলপোস্ট রক্ষায় মাঠে ও মাঠের বাইরে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ একজন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি আর দলের অংশ হতে পারব না এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখতে পারব না। এতে আমি হতাশ ও বেদনাহত।’
নাম না উল্লেখ করলেও সকলে ধারণা করতে পারছিলেন, দোনারুম্মার পোস্টে থাকা ব্যক্তি আর কেউ নন। কোচ লুইস এনরিকে নিজে। উয়েফা সুপার কাপের স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া, দলের মধ্যে খেলার ধরণ নিয়ে মনোমালিন্য — সব মিলিয়ে দুইজনের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সুপার কাপে মাঠে নামার আগে এনরিকে কোনো রাখঢাক রাখলেন না। সরাসরি সাংবাদিকদের জানিয়েই দিলেন, দোন্নারুম্মাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তের জন্য তিনিই শতভাগ দায়ী।
কোচ-খেলোয়াড়ের দ্বন্দ্ব ফুটবল দুনিয়ায় নতুন নয়। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত সেই দ্বন্দ্ব ঠাই পেত ট্যাবলয়েড পত্রিকায়। ভেতরে ভেতরে যত কিছুই হোক, ওপরে ওপরে সবটা ঠিক রাখার চেষ্টা করতো দুই পক্ষ। এনরিকে আর দোন্নারুমা সেই ধার ধারেননি। দল থেকে সরাসরি বাদ দিয়েছেন তো বটেই, সংবাদ সম্মেলনেও জানিয়ে দিয়েছেন পিএসজিতে দোন্নারুমার আর জায়গা নেই।
মূলত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল হারার পর থেকেই দোন্নারুম্মার সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে এনরিকের। এনরিকে চাইছিলেন তার দলের জন্য একজন প্লেমেকিং গোলরক্ষক। যিনি শুধু বল থামাবেন না, নিচ থেকে বিল্ড আপেও সাহায্য করবেন। সে জায়গাতে দোন্নারুম্মা পিছিয়ে আছেন অনেকখানি। যে কারণে গত শনিবার ৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লিল থেকে গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়েকে দলে ভিড়িয়েছে পিএসজি। তাঁকে আনার পর থেকেই দোন্নারুম্মার ওপর থেকে সকল আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন এনরিকে। ফলে ইতালিয়ান গোলরক্ষক হয়ে পরেছেন ব্রাত্য।
টাকার বস্তা নিয়ে দলবদলে লিভারপুলএখন প্রশ্ন হলো, দলবদলের ১৫ দিন বাকি থাকতে দোন্নারুম্মা যাবেন কোথায়? ২৬ বছর বয়সী ইতালিয়ানকে দলে ভেড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে ইদুর-বিড়াল দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়েছে দলগুলোর মাঝে। সবার আগে রয়েছে ইংলিশ লিগের দলগুলো। গত মৌসুম থেকেই আন্দ্রে ওনানার উপর ত্যক্ত-বিরক্ত ইউনাইটেড সমর্থকেরা। এমনকি কোচ রুবেন আমোরিমের কন্ঠেও ঝড়েছে হতাশা। মূল গোলরক্ষক হিসেবে জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা বদলে দিতে পারে ইউনাইটেডের চেহারা। তবে তাঁকে পাওয়া এতটাও সহজ হচ্ছে না ইউনাইটেডের জন্য। কারণ ইউনাইটেডকে লড়তে হবে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যান সিটির সঙ্গে।
গুঞ্জন আছে, ম্যান সিটির মূল গোলরক্ষক এদেরসনের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বোর্ডের। এই মৌসুমেই নতুন দলে যোগ দিতে পারেন তিনি। গ্যালাতেসারের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিও নাকি শেষ। তেমনটা হলে সিটিও নজর রাখবে দোন্নারুম্মার দিকে।
এছাড়াও চেলসিও খোজ খবর রাখছে ইতালিয়ানের প্রতি। যদিও রবার্তো সানচেজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে কনফারেন্স লিগ আর ক্লাব বিশ্বকাপ— দুটোই নিজেদের করে নিয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি। তবনুও দোন্নারুম্মাকে দলে ভেড়ানোর সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায় না তারা।
দোন্নারুম্মাকে ছাড়াই উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে পিএসজি। নতুন গোলরক্ষক শেভালিয়ে দুই গোল হজম করলেও পেনাল্টি থামিয়ে হয়ে উঠেছেন হিরো। এখন দেখার বিষয়, বর্তমান সময়ের সেরা গোলরক্ষক কোন দলে যোগ দেন।