ইউরোপ জয়ের জন্য কি প্রস্তুত ফ্লিকের বার্সেলোনা

হান্সি ফ্লিককে বার্সেলোনা কোচ হিসেবে পেয়েছিল ভাগ্যক্রমে। ফ্লিক বসে ছিলেন বেকার, পছন্দের কোচকে না পেয়ে তাঁর দিকে হাত বাড়িয়েছিল কাতালোনিয়ার দলটি। সেই ফ্লিক এসে বদলে দিয়েছেন বার্সেলোনার গতিপথ। টানা দুই মৌসুম লা লিগা জিতে ফ্লিকের নজরটা এবার ইউরোপিয়ান সাফল্যের দিকে। গত মৌসুমেই ভক্তদের কথা দিয়েছিলেন। পরবর্তী মৌসুমে ইউরোপে রাজত্ব করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

দলবদলের মৌসুম শুরু হতেই তাই ফ্লিক খুঁজে এনেছেন ইউরোপে ভরসা করা যায় এমন খেলোয়াড়দের। লা লিগায় দলকে নিয়ে চিন্তার তেমন বেশি কিছু নেই। লা মাসিয়ার তারকাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিশেলে সহজেই টেক্কা দিতে পারবে তারা। কিন্তু ইউরোপে জেতার জন্য যে ‘এক্স’ ফ্যাক্টরের খোঁজ করছিল বার্সা, সেটার একটা অভাব ছিলই।

আরও পড়ুন
লেফানডফস্কির ওপর ভরসা করার আর সুযোগ নেই ফ্লিকের।
ছবি: এক্স

কাদের ছাড়ল বার্সা

সফল একটা লিগ মৌসুম শেষে আশা থাকে পুরোনো দলটাকে একসঙ্গে পাবেন কোচ। হান্সি ফ্লিকের ক্ষেত্রে সেটা একেবারেই হয়নি। অভিজ্ঞ থেকে তরুণ, তারকা খেলোয়াড়েরা বার্সেলোনা ছেড়ে খুঁজে নিয়েছেন অন্য গন্তব্য। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে আক্রমণভাগে। গত দুই মৌসুম ধরে ভরসার পাত্র হয়ে থাকা রবার্ট লেফানডফস্কি ফ্রিতে পাড়ি দিয়েছেন আমেরিকায়। ধারে আসা মার্কাস রাশফোর্ডও ফেরত গিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। অন্যদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন বার্সার সঙ্গে। ৫০ মিলিয়নে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। একসময়ের ‘ভবিষ্যৎ মেসি’ আনসু ফাতি ১১ মিলিয়নে যোগ দিয়েছেন মোনাকোতে। মেসির পর বার্সার ১০ নম্বর জার্সি পাওয়া তারকার এমন বিদায় হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কিন্তু সেটাই সত্য হয়ে গেল এবারের দলবদলের মৌসুমে। সেই সঙ্গে রোনাল্ড আরাউহো ও মার্ক টের স্টেগানকে ধারে পাঠিয়ে বেতনের বোঝাও কমিয়েছে বার্সা।

আরও পড়ুন
অ্যান্থনি গর্ডনের আগমন বদলে দিয়েছে বার্সেলোনাকে।
ছবি: এক্স

বার্সায় ভিড়লেন যাঁরা

দলবদলের মৌসুমে সবার আগে কেনাকাটা শুরু করেছিল বার্সেলোনা। বাজার খুলতেই নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে অ্যান্থনি গর্ডনকে দলে ভেড়ায় বার্সা। কারণটা স্পষ্ট, প্রিমিয়ার লিগে ২৬ ম্যাচে ৬ গোল করা গর্ডন চ্যাম্পিয়নস লিগে ১২ ম্যাচে করেছিলেন ১০ গোল। লিগের থেকে বেশি ইউরোপে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন তিনি। যে কারণে ফ্লিকের নজরে পরেছিলেন আলাদা করে।

শুধু গর্ডন নন, ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রদ্রিকে ভেড়ানোর পেছনেও একই ঘটনা। প্রথমে রদ্রির দিকে হাত বাড়িয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় যোগ দিতে চেয়েছিলেন বার্সেলোনাতেই। ফলে সিটির সঙ্গে দরদাম করে ৬০ মিলিয়ন ইউরোতে কাতালোনিয়ায় পাড়ি দিয়েছেন রদ্রি। ২৪ বছর বয়সী করিম আদেমায়িকে কেনা হয়েছে ডান পাশে লামিনে ইয়ামালের ওপর থেকে কষ্ট কমাতে। তাঁকে ২২ মিলিয়নে কেনা বার্সেলোনার জন্য শাপে বর হতে চলেছে সামনের দিনগুলোতে।

কিন্তু গত মৌসুমের শুরু থেকে যাঁকে কেনার জন্য আটঘাট বেঁধে নেমেছে বার্সেলোনা, সেই হুলিয়ান আলভারেজকেই কেনা হয়নি তাঁদের। প্রথমে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর পসরা সাজিয়ে গিয়েছিল আতলেতিকোর কাছে। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ পাল্টা ১৫০ মিলিয়নের অফার দিয়েছে আলভারেজের জন্য। ফলে বার্সেলোনাকে টেক্কা দিতে হতো সেই দামের সঙ্গে। সেই দাম দেওয়া প্রায় অসম্ভব। আর যদি সম্ভব হতোও, আতলেতিকো ছাড়তে নারাজ। দরকার হলে বসে বসে বেতন নেবেন আলভারেজ, কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলে তাঁকে যেতে দেওয়া হবে না। ফলে অনেক আশা করেও তাঁকে দলে ভেড়ানো হয়ে ওঠেনি বার্সেলোনার। তবে আলভারেজকে না পেয়ে গ্যাব্রিয়েল হেসুসকে দলবদলের শেষ দিনে দলে টেনেছে বার্সেলোনা। সেটাও মাত্র ১০ মিলিয়ন ইউরোতে। চোটের কারণে ফর্ম হারিয়ে সাইডলাইনে চলে যাওয়া হেসুস বদলে দিতে পারেন বার্সেলোনার চিত্র।

আরও পড়ুন

শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ মিসর ও তুরস্ক থেকে দুই খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়েছে বার্সা। টার্কিশ লিগ থেকে ক্রোয়েশিয়ার দুর্দান্ত গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ আর আল আহলি থেকে মিসরের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে ট্যাফ পাওয়া হামজা আবদেলকরিম। ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে বার্সেলোনার পাইপলাইনে বেশ উপকারে আসবেন দুজন। এ ছাড়া গত মৌসুমে ধারে থাকা হোয়াও ক্যানসেলোকে পাকাপাকিভাবে দলে ভিড়িয়েছে বার্সেলোনা। এতে অবশ্য কোনো টাকাই লাগেনি। কারণ, আগের ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে থাকা চুক্তি ছিন্ন করে বার্সায় এসেছেন ক্যানসেলো।

সব মিলিয়ে কেনাবেচায় বেশ ভালোই করেছে বার্সেলোনা। ১৮৪ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে বিক্রি করেছে ৯০ মিলিয়ন ইউরোর খেলোয়াড়। হান্সি ফ্লিকও আস্তে আস্তে দলকে গুছিয়ে এনেছেন অনেকটা। কিন্তু আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজের মতো খেলোয়াড় না পাওয়া ভোগাবে তাদের। কারণ, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে যেমন দল লাগে, তেমনই একটা ‘এক্স’ ফ্যাক্টরও লাগে। সেই ‘এক্স ফ্যাক্টর’টাই যেন বার্সেলোনা এখনো হাতড়ে বেড়াচ্ছে। দেখা যাক, সেই খোঁজ মেলে কি না।

আরও পড়ুন