কার্লোস এস্পি: আক্রমণে রিয়াল মাদ্রিদের ভরসা

দলবদলে সাধারণত একজন খেলোয়াড়কে কেনার পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় দর্শকদের সামনে। বড় আয়োজন করে আমন্ত্রণ জানানো হয় দলে। তুলে দেওয়া হয় জার্সি। আর সেটা পরেই নতুন দলে মাঠে নামার সুযোগ হয় খেলোয়াড়দের। ২৩ বছর বয়সী কার্লোস এস্পির জন্য গল্পটা একেবারেই উল্টো। এক ম্যাচ খেলে ফেলার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জার্সি তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে।

রিয়াল মাদ্রিদের কেনা খেলোয়াড়দের মধ্যে এই নামটা বেশ অপরিচিতই ছিল। খেলতেন লেভেন্তের মতো দলে, যারা গত মৌসুমে কোনোমতে নিজেদের অবনমন থামিয়েছে। সেটাও অবশ্য এস্পির কল্যাণেই। ১১ গোল করে লেভেন্তেকে লা লিগায় বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। গুঞ্জন ছিল তাঁকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাবে বিক্রির বন্দোবস্ত করছে লেভেন্তে। হুট করেই কোথা থেকে এসে রিয়াল মাদ্রিদ যেন ছোঁ মেরে কেড়ে নিলো তাঁকে। কোনো কানাঘুষা ছাড়াই সম্পন্ন হয়ে গেল দলবদল। এক দিনের মধ্যেই কার্লোস এস্পি যোগ দিলেন রিয়াল মাদ্রিদে।

আরও পড়ুন

এস্পি কেন রিয়াল মাদ্রিদে

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই দলে এস্পির প্রয়োজনীয়তাটা কী? যে দলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো বাঘা বাঘা খেলোয়াড়দের আনাগোনা, সেখানে ২৩ বছর বয়সী এস্পি কী করতে পারবেন? কী করতে পারবেন প্রশ্নের উত্তর এস্পি দিয়েছেন অভিষেকেই। এস্পানিয়োলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই লিগে যাত্রা শুরু হয়েছিল রিয়ালের। কিন্তু পারফরম্যান্স ছিল না জুতসই। এস্পানিয়োলের লো-ব্লক ডিফেন্সের কাছে বারবার পরাস্ত হচ্ছিলেন বাঘা বাঘা স্ট্রাইকার। এস্পি নামলেন ৭৯ মিনিটে, জুড বেলিংহামের জায়গায়। পুরো ম্যাচে একটাই শট, একটাই গোল। ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটায় রিয়াল মাদ্রিদকে এনে দিলেন জয়। অভিষেকটা এস্পি স্মরণীয় করে রাখলেন গোল দিয়ে।

মোরিনহোর শেষ মুহূর্তের ভরসা এখন কার্লোস এস্পি।
ছবি: এক্স

যারা এত দিন প্রশ্ন করছিলেন, কেন তারকা স্ট্রাইকার থাকতেও এস্পিকে কেনা হলো ২৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে, তাঁরা সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গিয়েছেন প্রথম ম্যাচেই। ম্যাচের শুরু থেকে ৮০ মিনিট পর্যন্ত ভিনি-এমবাপ্পে-বেলিংহাম মিলে খাবি খাচ্ছিলেন নিজেদের খুঁজে পেতে। এস্পানিওলের মতো দলগুলো বড় ম্যাচে এসে লো ব্লক আর বাস পার্কেই বেশি মনোযোগ দেয়। যে কারণে তাদের বিপক্ষে নিয়মিত ট্যাক্টিসে গোল করা বেশ কঠিন। সেই জায়গাতে যদি একজন লম্বা ও ক্ষুরধার স্ট্রাইকার থাকেন, যাঁর কাজই হবে ডি-বক্সের ভেতর বসে থেকে শুধু গোল আদায় করে নেওয়া, তাহলে সেই ডেডলক ভাঙা হয়ে ওঠে আরও সহজ। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির কার্লোস এস্পি সেই কাজই করবেন রিয়ালে। শেষ ১০ মিনিটে যখন গোলের বড্ড প্রয়োজন, এস্পি ত্রাতা হয়ে হাজির হবেন। হাজির করবেন নিজের সক্ষমতা।

আরও পড়ুন

রিয়াল মাদ্রিদে এমন স্ট্রাইকাররা আজীবনই পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। এক মৌসুমের জন্য ধারে আসা হোসেলু, আলভেরো মোরাতার মতো খেলোয়াড়েরা সাহায্য করেছেন লিগ জিততে, চ্যাম্পিয়নস লিগেও গড়ে তুলেছেন পার্থক্য। কার্লোস এস্পিকেও কেনা হয়েছে সেই কারণেই। আর সেটাই যথাযথভাবে পালন করছেন একেবারে প্রথম দিন থেকেই।

দাদি-নানির সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি হাতে কার্লোস এস্পি।
ছবি: এক্স

মজার ব্যাপার হলো কার্লোস এস্পি যত দিনে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন, তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হিসেবে। সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ জার্সি তুলে দেওয়ার কাজটা করলেন ম্যাচের পরদিন। নানি ও দাদিকে দুই পাশে রেখে রিয়াল মাদ্রিদের ‘১৯’ নম্বর জার্সিটা তুলে ধরলেন এস্পি। তত দিনে অবশ্য পুরো পৃথিবী জেনে গিয়েছে, এস্পি রিয়াল মাদ্রিদে এসেছেন নতুন এক সমাধান হতে।

আরও পড়ুন