কত রেকর্ড ভাঙলেন আলকারাজ

ট্রফি হাতে আলকারাজ

‘দু-দুজন স্প্যানিশ কিংবদন্তি উপস্থিত এক কোর্টে। আমার জেতার কোনো সুযোগই ছিল না।’ সার্বিয়ান কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ নিজের হার মেনে নিলেন এক সহজ স্বীকারোক্তিতে। সেটাও এমন এক মঞ্চে, যেখানে শুধু তাঁরই রাজত্ব চলে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এর আগে ১০ বার ফাইনাল খেলেছেন, ১০ বারই শিরোপা বাগিয়ে নিয়েছেন নোভাক। রাফায়েল নাদাল, অ্যান্ডি মারে পারেননি তাঁকে থামাতে। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন কার্লোস আলকারাজ। আর সেই দৃশ্য সামনের সারিতে বসে দেখেছেন খোদ রাফায়েল নাদাল।

আলকারাজ-জোকোভিচ ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই হাজারও জল্পনাকল্পনা চলছিল। দুজনই দাঁড়িয়ে আছেন রেকর্ডের সারি নিয়ে। জোকোভিচ তো অনেক আগে থেকেই ২৪ গ্র্যান্ড স্লামের মালিক। ওপেন এরায় পুরুষ টেনিসের ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বেশি অর্জন নেই কারও। শেষ গ্র্যান্ড স্লামটাও এসেছিল বছর তিনেক আগে, ফলে নিজের পরিচিত কোর্টে রেকর্ডটাকে আরেকটু শাণিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল তাঁর। জিতলেও সবচেয়ে বেশি বছরের ব্যবধানে গ্র্যান্ড স্লাম জেতা খেলোয়াড় হতেন তিনি। হতেন সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা খেলোয়াড়।

আরও পড়ুন
মাঠে উপস্থিত থেকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন রাফায়েল নাদাল।
ছবি: এক্স

আর কার্লোস আলকারাজ দাঁড়িয়ে ছিলেন নিজের ক্যারিয়ার স্লামের সামনে। বয়সটা মাত্র ২২, এর মধ্যেই ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম আছে তাঁর ঝুলিতে। বাকি তিনটি গ্র্যান্ড স্লামই দুবার করে জেতা শেষ। শুধু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এলেই যেন কোনো এক অদৃশ্য শক্তিতে কাটা পড়েন আলকারাজ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাটা যদি নিজের করতে পারেন, তাহলে সবচেয়ে কম বয়সে ক্যারিয়ার স্লাম জেতার রেকর্ডটাও হয়ে যাবে তাঁর।

আলকারাজ-জোকোভিচের লড়াইকে আরেক ধাপ উঁচুতে নিতে হাজির হয়েছিলেন রাফায়েল নাদাল। ম্যাচের আগে রড লেভার অ্যারেনায় উপস্থিত হয়ে যেন সবাইকে এক দফা চমকে দিলেন। মাঠের সামনের সারিতে বসে উপভোগ করতে চাইলেন কার্লোস আলকারাজের অস্ট্রেলিয়া–জয়।

ক্যারিয়ার স্লাম জয়ের উদ্‌যাপন।
ছবি: এক্স

ম্যাচের শুরুতে ঠিকই আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। মাত্র ৩৩ মিনিটেই ৬-২ গেমে প্রথম সেট জিতে সবাইকে একটু চমকই লাগিয়ে দেন। অভিজ্ঞতারও তো একটা দাম আছে, আলকারাজ না সেই জায়গায় পা ফসকে ফেলেন। তার ওপর আলকারাজকে নিয়ে বাড়তি চিন্তাও ছিল। গত ম্যাচে বেশ বড় একটা সময়ের জন্য মেডিক্যাল টাইমআউট নিয়েছিলেন। আলেক্সান্দার জভেরেভ এ নিয়ে অভিযোগও করছিলেন বটে। ক্র্যাম্পের কারণে ঠিক নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন না সেমিতে। সেই চোট আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জেতা কঠিন হয়ে যেত তাঁর জন্য।

কিন্তু না, আলকারাজ আর কোনো সুযোগই দেননি জোকোভিচকে। পরের সেট জিততে তিনি সময় নিয়েছেন ৩৬ মিনিট, ব্যবধানটা একই, ৬-২।

আরও পড়ুন
জোকোভিচের কাছ থেকেই ‘লিজেন্ড’ উপাধি পেয়েছেন আলকারাজ।
ছবি: এক্স

এরপর আর জোকোভিচ ঠিকমতো ম্যাচে ফিরতে পারেননি। আলকারাজ বেশ সহজেই জিতে নেন তৃতীয় সেট, ৬-৩ গেমে। টানা দুই সেট হেরে অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন জোকোভিচ। সামনে বসে থাকা নাদালকে দেখে তাই মজা করার লোভ সামলাতে পারেননি। একটি পয়েন্ট হারিয়ে র‍্যাকেট বাড়িয়ে দেন নাদালের দিকে, প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘কী, খেলবে নাকি?’ হাসির রোল বয়ে যায় পুরো কোর্টজুড়ে।

চতুর্থ সেটে আস্তে আস্তে ম্যাচে ফিরছিলেন জোকোভিচ; কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। ১ ঘণ্টা ২ মিনিটের লড়াইয়ে আলকারাজ সেট জিতে নেন ৭-৫ গেমে। সেই সঙ্গে ‘ভামোস’ চিৎকার দিয়ে লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। প্রথমবারের মতো নরমান ব্রুকস কাপ জেতার আনন্দ উদ্‌যাপন করলেন কোর্টে শুয়ে। আলকারাজের চেয়েও বেশি উপভোগ্য ছিল নাদালের উদ্‌যাপন। শেষ শটে শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর যে চিৎকার দিয়েছেন স্ট্যান্ড থেকে, মনে হচ্ছিল আলকারাজের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার আনন্দের কিছুটা ভাগীদার তিনিও।

‘জব ফিনিশড’!
ছবি: এক্স

পুরুষ টেনিস ইতিহাসের নবম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম জেতার কীর্তি গড়লেন আলকারাজ। তাঁর ক্যাবিনেটে এখন শোভা পাচ্ছে চারটি গ্র্যান্ড স্লামই, সেটাও মাত্র ২২ বছর বয়সে। ভেঙে গেল প্রায় ৮৭ বছরের পুরোনো যুক্তরাষ্ট্রে ডন বাজের রেকর্ড। ২২ বছর বয়সে সাত গ্র্যান্ড স্লাম জেতা আলকারাজ কোথায় গিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শেষ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন