কুকুর-বিড়াল ছাড়াও পোষার জন্য জনপ্রিয় ১০ প্রাণী
পোষা প্রাণীর কথা বললেই সবার আগে মনে আসে কুকুর বা বিড়ালের কথা। যুগ যুগ ধরে মানুষ এই দুটি প্রাণীকেই লালন-পালন করছে। তবে বর্তমানে আমাদের দেশেও অনেকের পছন্দের তালিকাটা বেশ বদলে যাচ্ছে। অনেকেই এখন বাড়িতে এমন সব অদ্ভুত ও সুন্দর প্রাণীদের পোষেন, যারা বুদ্ধিতে আমাদের দেশি বিড়াল-কুকুরের চেয়ে কোনো অংশে কম না। তবে বাংলাদেশে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার আইন অনুযায়ী সব প্রাণী কিন্তু বাড়িতে পালা যায় না। চলো তাহলে জেনে নেওয়া যাক আইন মেনে ও দেশের আবহাওয়ায় মানিয়ে নিয়ে পোষা যায় এমন ১০টি প্রাণীর কথা।
১. বাজরিগার
পাখিপ্রেমীদের কাছে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম বাজরিগার। ছোট এই পাখিটি এর গায়ের উজ্জ্বল রং আর চনমনে স্বভাবের জন্য বিখ্যাত। এরা বেশ বুদ্ধিমান ও মানুষের কথা বা শিস নকল করতে পারে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বাজরিগার, লাভবার্ড পোষা বেশ সহজ। বন্য প্রাণী আইন অনুযায়ী বিদেশি প্রজাতির এই পাখিগুলো খাঁচায় লালন-পালন ও বংশবৃদ্ধি করা পুরোপুরি বৈধ।
২. খরগোশ
পোষা প্রাণীর তালিকায় খরগোশ বেশ জনপ্রিয়। এদের লম্বা কান আর নরম তুলতুলে চেহারা নিমেষেই যে কারও মন ভালো করে দিতে পারে। অনেকে মনে করেন, খরগোশ শুধু গাজর খেয়েই বেঁচে থাকে, কিন্তু এটি ভুল ধারণা। আমাদের দেশি ঘাস, শাকসবজি আর টাটকা পানিই এদের প্রধান খাদ্য। এরা খুব একটা শব্দ করে না, তাই ফ্ল্যাট বাড়িতেও সহজে পোষা যায়।
৩. গিনিপিগ
যদি ছোট আর লোমশ প্রাণী পছন্দ করো, তবে গিনিপিগ হতে পারে তোমার জন্য সেরা পছন্দ। এরা খরগোশের মতোই শান্ত আর এদের দেখাশোনা করাও বেশ সহজ। তবে এদের সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন একটু মানুষের সঙ্গ প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে অনেক শৌখিন মানুষ এখন গিনিপিগ পুষছেন। তবে এদের খাবারের তালিকায় টক ফল বা ভিটামিন সি রাখা খুব জরুরি।
৪. রঙিন মাছ
যারা খুব বেশি দৌড়ঝাঁপ পছন্দ করো না, তারা ঘরে রঙিন মাছের অ্যাকুয়ারিয়াম রাখতে পারো। ঘরের কোণে একটি সুন্দর অ্যাকুয়ারিয়াম মানুষের মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ কমাতেও দারুণ সাহায্য করে। গোল্ডফিশ, ফাইটার ফিশ বা গাপ্পি মাছ আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয়। তবে সমুদ্রের রঙিন মাছ বা প্রবাল সংগ্রহ করা কিন্তু আইনত দণ্ডনীয়।
৫. বিদেশি কচ্ছপ
আমাদের দেশে দেশি কচ্ছপ বা কড়ি কাইট্টা কচ্ছপ পালা দণ্ডনীয় অপরাধ। কেননা এগুলো মহাবিপন্নপ্রায়। তবে বাজারে যেসব বিদেশি ‘রেড ইয়ার স্লাইডার’ কচ্ছপ পাওয়া যায়, সেগুলো অনেকে শখ করে পোষেন। সঠিকভাবে যত্ন নিলে এরা ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। তবে কচ্ছপকে শুধু ছোট পাত্রে না রেখে রোদযুক্ত কোনো জায়গায় পানির ব্যবস্থা করে দিলে এরা ভালো থাকে।
৬. হ্যামস্টার
ইঁদুরের মতো দেখতে এই ছোট প্রাণীগুলো বিদেশে দারুণ জনপ্রিয় হলেও এখন বাংলাদেশেও এদের দেখা মেলে। হ্যামস্টাররা খুব চনমনে স্বভাবের হয় ও খাঁচার ভেতর চাকা ঘুরিয়ে খেলতে ভালোবাসে। এরা সাধারণত নিশাচর, তাই রাতে এরা বেশি সক্রিয় থাকে। ছোটদের জন্য এটি একটি চমৎকার পোষা প্রাণী হতে পারে।
৭. বিয়ার্ডেড ড্রাগন
নাম শুনে ভয় লাগতে পারে, কিন্তু এরা আসলে অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। এটি একটি বিদেশি সরীসৃপ, যা ইদানীং আমাদের দেশের সরীসৃপপ্রেমীদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। এদের গলার নিচে দাড়ির মতো অংশ থাকে বলেই এদের এমন নাম। এরা জ্যান্ত পোকা আর তাজা শাকসবজি খেতে পছন্দ করে। তবে মনে রাখা ভালো, দেশি যেকোনো গুইসাপ বা তক্ষক ধরা বা পালা বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৮. ফেন্সি কবুতর
বাংলাদেশে কবুতর পালার ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। সাধারণ জালালি কবুতর ছাড়াও সিরাজি, গিরিবাজ বা লোটন কবুতরের মতো বিদেশি জাতের শৌখিন কবুতর এখন অনেকের ছাদে দেখা যায়। এদের যত্ন নেওয়া সহজ এবং আমাদের আবহাওয়ার সঙ্গে এরা খুব ভালোভাবে মানিয়ে নেয়।
৯. লাভবার্ডস
টিয়াজাতীয় পাখির সবারই বেশ প্রিয়। তবে দেশি টিয়া পোষা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেকেই এখন বিদেশি লাভবার্ডস পোষেন। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকতে ভালোবাসে ও এদের রঙের বৈচিত্র্য যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।
১০. শৌখিন মুরগি
মুরগি শুধু খাওয়ার জন্য, এই ধারণা এখন বদলে গেছে। আমাদের দেশে এখন অনেকেই শৌখিন জাতের বিদেশি মুরগি পুষছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘সিল্কি’। এদের গায়ের পালকগুলো দেখতে অনেকটা রেশমি সুতোর মতো তুলতুলে। আবার আছে রাজকীয় চেহারার ‘ব্রাহমা’, যা আকারে অনেক বড় হয়। এই মুরগিগুলো খুব শান্ত স্বভাবের হয় এবং সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যায়। বাড়ির ছাদে বা বারান্দার কোণে এদের ছোট্ট সুন্দর একটি ঘরে পালন করা সম্ভব। বাংলাদেশের আবহাওয়া এদের জন্য বেশ অনুকূল, আর দেখতে সুন্দর হওয়ায় এরা বাচ্চাদেরও খুব প্রিয়।
শেষ কথা
পোষা প্রাণী আমাদের একাকিত্ব দূর করে জীবনের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। তবে মনে রাখা জরুরি, সব প্রাণী খাঁচায় বন্দী থাকার জন্য জন্মায়নি। তাই শখের বশে কোনো প্রাণী পালনের আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি সেটি আইনে অনুমোদিত কি না। পাশাপাশি, কেবল শখের বসে কোনো প্রাণী না পুষে বরং এদের প্রত্যেকের জন্য সঠিক যত্ন, খাবার ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।