প্লেন ওড়ার ৩০ সেকেন্ড পর কেন মনে হয় নিচে পড়ে যাচ্ছি

প্লেন রানওয়ে ছেড়ে আকাশে ডানা মেলার ৩০ সেকেন্ড পর হঠাৎ মনে হয়, প্লেনটা বুঝি নিচে পড়ে যাচ্ছেছবি: ডাগেন্স

তুমি কি প্লেনে চড়তে ভয় পাও, নাকি ভালোবাসো? তুমি যে দলেরই হও না কেন, একটা অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিশ্চয়ই পরিচিত। প্লেনটা যখন রানওয়ে ছেড়ে আকাশে ডানা মেলে, ঠিক তার ৩০ সেকেন্ড পর হঠাৎ মনে হয়, এই রে! প্লেনটা বুঝি নিচে পড়ে যাচ্ছে!

পেটের ভেতরটা কেমন যেন খালি খালি লাগে, মনে হয় রোলার কোস্টারের ওপর থেকে নিচে নামছ। অথচ জানালা দিয়ে তাকালে দেখবে প্লেন কিন্তু ঠিকই ওপরে উঠছে। তাহলে কেন এমন মনে হয়? এটা কি কোনো বিপদ, নাকি মনের ভুল?

এই রহস্যের সমাধান দিয়েছেন সাইমন নামের একজন অভিজ্ঞ পাইলট। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্লাইম্যান সাইমন নামে পরিচিত। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ক্যাপ্টেনের কাজই হলো মানুষের প্লেনভীতি দূর করা। চলো, তাঁর কাছ থেকেই শোনা যাক আসল ঘটনা।

আরও পড়ুন

প্লেন কি আসলে নিচে পড়ে

সাইমন বলছেন, ‘একদমই না। ওই পড়ে যাওয়ার অনুভূতিটা আসলে একটা ভ্রম বা সেনসেশন মাত্র। বাস্তবে প্লেন নিচে নামে না।’

ঘটনা হলো, টেক-অফের সময় প্লেন ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে খাড়াভাবে ওপরে উঠতে থাকে। কিন্তু মাটি থেকে একটু ওপরে ওঠার পরই পাইলটরা ইঞ্জিনের শক্তি বা থ্রাস্ট কিছুটা কমিয়ে দেন। আর প্লেনের নাকটা মানে সামনের অংশটা সামান্য নিচু করেন। কেন জানো? যাতে প্লেন বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের গতি বাড়াতে পারে।

এই সময়েই পাইলটরা ডানার বাড়তি অংশগুলো গুটিয়ে ফেলেন। একে বলা হয় ক্লিনিং আপ। এতে প্লেনটি আরও মসৃণ হয় এবং আরও দক্ষভাবে উড়তে পারে।

আরও পড়ুন

কেন মনে হয় প্লেন নিচে পড়ছে

সমস্যাটা প্লেনের নয়, সমস্যাটা আমাদের শরীরের। আমাদের কান এবং পেট এই হঠাৎ পরিবর্তনটা ঠিকঠাক মেনে নিতে পারে না। আমাদের কানের ভেতরে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার একটা সেন্সর আছে। টেক-অফের সময় তীব্র গতিতে ওপরে ওঠার পর যখনই হঠাৎ প্লেনের ওপরে ওঠার হার বা ত্বরণ একটু কমে যায় এবং ইঞ্জিনের শব্দ কমে আসে, তখন আমাদের কান ভুল সংকেত পাঠায়। মস্তিষ্ক ভাবে, আমরা বুঝি নিচে পড়ে যাচ্ছি! একে বলা হয় একধরনের ভার্টিগো বা ভ্রম। দ্বিতীয় কারণ হলো, টেক-অফের সময় প্লেন তীব্র গতিতে ওপরে ওঠে। একই সঙ্গে ওপরে উঠি আমরাও। হঠাৎ প্লেনটি তার ওপরে ওঠার ত্বরণ কমালে, আমাদের শরীর জড়তার কারণে তখনো আগের গতিতেই ওপরে উঠতে চায়। এই পার্থক্যের কারণেই পেটের ভেতর রোলার কোস্টারের মতো সেই অদ্ভুত ওজনহীন অনুভূতি হয়।

আরও পড়ুন

পাইলটরা কেন এমন করেন

তোমার মনে হতে পারে, পাইলটরা কি আমাদের ভয় দেখানোর জন্যই এমন করেন? মোটেও না। এর পেছনে দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। প্রথমত, সারাক্ষণ সর্বোচ্চ শক্তিতে ইঞ্জিন চললে ক্ষতি হতে পারে। তাই ওড়ার কিছুক্ষণ পরই ইঞ্জিনের ওপর চাপ কমানো হয়। আর দ্বিতীয়ত, বিমানবন্দরের আশপাশে যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদের যেন প্লেনের বিকট শব্দে সমস্যা না হয়, সে জন্যই টেক-অফের পরপরই ইঞ্জিনের শব্দ ও শক্তি কমানো হয়।

তবে তোমরা যদি শিগগিরই প্লেনে ওঠো, তাহলে ভয় পেও না যেন। কারণ, ফ্লাইম্যান সাইমন অভয় দিয়ে বলছেন, ‘এই অনুভূতিটা খুব অল্প সময়ের জন্য হয়। এর পরপরই তুমি দেখবে প্লেন আবার গতি বাড়িয়ে তরতর করে ওপরে উঠছে।’

তাই প্লেন ওপরে ওঠার সময় ভয় পেও না। নিজেকে মনে করিয়ে দেবে, প্লেন নিচে পড়ছে না, বরং আরও দ্রুত এবং শান্তভাবে ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তুমি নিরাপদেই আছ! এই সংকেত তোমার মস্তিষ্ক একবার বুঝে নিলে আর ভয় লাগবে না।

সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

আরও পড়ুন