হতাশ
তিন বিষয়ে ফেল করেছে, বাবলুর ব্যাডলাক!
স্যার বলেছে, ‘বাবলু রে তুই ক্লাস সেভেনেই থাক!’
আমরা সবাই ক্লাস সেভেনে, বাবলু ভাইও তা–ই
এক বছরের বড় বলে সবাই ডাকি ভাই!
ক্লাসে যখন স্যাররা পড়ান, সজাগ সবার কান
বাবলু ভাইয়ের তখন চলে মনোযোগের ভান।
স্যাররা ক্লাসে পড়া ধরেন, খোঁজেন বাড়ির কাজ
বাবলু রে তুই এমন কেন? নেই লজ্জা–লাজ?
বাবলু ভাইয়ের চিন্তা, কখন সাঙ্গ হবে পাঠ
কখন তিনি খেলতে যাবেন, ডাকছে খেলার মাঠ!
পড়ার কথা বললে রাগেন, ধমকে বলেন, ‘থাম!
বই–খাতা রাখ, পারলে আনিস খেলার সরঞ্জাম!’
সরঞ্জামের অনেক অভাব, একখানা ফুটবল
আমরা যাওয়ার আগেই দখল করবে বড়র দল!
ক্লাস সেভেনের পাত্তা আছে? তৈরি থাকে টেন
এক সকালে বাবলু ভাইয়ে সবাইকে বললেন…
‘ক্লাস সেভেনের পরীক্ষাতে আবার হলে ফেল
মা বলেছেন, বাবা চিপে বের করবেন তেল!
পৌঁছে দেবেন গ্রামের বাড়ি, করব চাষাবাদ!
লাঙল ঠেলে মিটবে আমার খেলাধুলার সাধ!
‘পাস করলে কী হবে তা বলছি বাপু, শোন!
খেলার জিনিস কিনে দেবেন সবচে বড় বোন!
কিনে দেবেন ফুটবল আর ক্রিকেট খেলার সেট।’
আমরা বলি, দারুণ খবর! কিসের দেরি? লেট!
আমরা রেডি, আমরা মানে পিংকু, আমি, জন
সবার হাতে সবারই হাত, সবাই করি পণ!
সবাই নেব ভাইয়ের পাসের নিশ্চয়তার ভার
খেলার জিনিস চাইতে যাওয়ার দায় পড়েছে কার!
শুরুর দিকেই এই ঘোষণা আসত যদি, ইশ!
বাংলা আমি, পিংকু গণিত, জন পড়ায় ইংলিশ।
ক্লাসের ফাঁকে ভাইকে পড়াই, ছুটির পরেও তাই
আমরা পড়াই, বাবলু ভাইয়ের কেবল ওঠে হাই!
বাবলু ভাইয়ের মাথায় ঢোকা জ্ঞানের যে কী হাল!
দেখতে দেখতে পরীক্ষা শেষ, শেষ হলো ফাইনাল!
রেজাল্ট দেওয়ার দিনে হাজির পিংকু, আমি, জন
বাবলু ভাই তো পুরোই নিখোঁজ, খুঁজছি অনেকক্ষণ!
বাবলু ভাইয়ের নাম ঘোষণা, আমরা বেয়াক্কেল
এই বছরেও ডাব্বা মেরে তিন বিষয়ে ফেল!
(দিনের শেষে ওনার কাছে স্বীকার করি ঋণ!)
বাবলু ভাইয়ের তিন শিক্ষক আমরা প্রথম তিন!
ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড হয়েছি, কিন্তু বিধি বাম
বাবলু ভাইয়ের ফেল-এ বাতিল খেলার সরঞ্জাম।
খুব প্রয়োজন ছিল রে ভাই বাবলু ভাইয়ের পাস!
হতাশাতে ডুবে সবার কাটবে বারো মাস!