একা করার চেয়ে দল বেঁধে ব্যায়াম করলে বেশি লাভ কেন

মিডজার্নি

তোমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো দলগত খেলাধুলা এড়িয়ে চলতে চাও। কারণ, হয়তো তুমি অন্যদের মতো ভালো খেলো না। ক্রিকেট খেলবে কিন্তু ব্যাটে ঠিকভাবে বলটা লাগাতে পারো না। ফুটবল খেলতে গেলে বলটা হয়তো গোল বরাবর মারতেই পারো না। তাই বলে কি খেলাধুলা বন্ধ করে দেবে? মোটেই না।

ছোটবেলায় আমাদের অনেকেরই এমন হয়। ভালো খেলতে না পারলে খেলাধুলা মজার চেয়ে যন্ত্রণাই বেশি লাগে। তার ওপর অনেকের জেতার ইচ্ছা থাকে প্রচণ্ড, তাই হারলেই মেজাজ বিগড়ে যায়।

কিন্তু বিজ্ঞান এখন সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, একা একা জিমে ঘাম ঝরানোর চেয়ে বন্ধুদের নিয়ে ফুটবল খেলা বা দল বেঁধে দৌড়ানো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। কেন এমনটা বলছে বিজ্ঞান?

২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দল বেঁধে খেলাধুলা করে, তাদের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস অন্যদের চেয়ে অনেক কম থাকে। তাদের দুশ্চিন্তা কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। মজার ব্যাপার হলো, তুমি কতটা কঠোর পরিশ্রম করছ, সেটা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো তুমি সবার সঙ্গে মিশে কাজ করছ কি না। একা ট্রেডমিলে দৌড়ানোর চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা তোমার মনকে অনেক বেশি চাঙা করতে পারে।

আরও পড়ুন

জানো নিশ্চয়ই, ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো আলসেমি। বন্ধুর পাল্লায় পড়ে হয়তো জিমে ভর্তি হয়েছ, কিন্তু আজ না কাল করতে করতে আর জিমে যাওয়াই হয় না। এখানেই সামাজিকতা কাজে আসে।

২০২৪ সালের একটা মজার পরীক্ষার কথা বলি। ৭৭০ জনের ওপর একটা পরীক্ষা চালানো হয়। শর্ত ছিল, জিমে গেলেই পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে টাকা! কিন্তু একদলকে বলা হলো, টাকা পেতে হলে সঙ্গে বন্ধুকে আনতে হবে।

যারা বন্ধু নিয়ে এসেছিল, তাদের জিমে আসার হার অন্যদের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি ছিল! কারণটা সহজ, একা হলে আলসেমি লাগে কিন্তু বন্ধু থাকলে একটা দায়বদ্ধতা কাজ করে। মনে হয়, ‘ও আসছে, আমি না গেলে কেমন দেখায়?’ তা ছাড়া আড্ডা দিতে দিতে ব্যায়ামটা তখন আর কষ্ট মনে হয় না, আনন্দ লাগে।

আরও পড়ুন

কাজটা প্রিয়জনের সঙ্গে করতে পারলে আরও বেশি আনন্দ পাওয়া যায়। বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ালে দৌড়ের গতি বেড়ে যেতে পারে! গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে এসব কাজে অংশ নেয়, তারা বেশি শক্তি পায় এবং জোরে দৌড়ায়।

আরও অবাক করা তথ্য দিই। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ব্যায়াম করার সময় প্রিয়জনের ছবির দিকে তাকিয়ে ছিল, তারা অপরিচিত মানুষের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকাদের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি সময় ধরে ব্যায়াম করতে পেরেছে।

এখন প্রশ্ন হলো, মস্তিষ্কের কারসাজি এমন হয় কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্কে। আমাদের ক্লান্তির পেছনে পেশির চেয়ে মস্তিষ্কের কারসাজি বেশি। অতিরিক্ত পরিশ্রম করে শরীর যাতে ইনজুরিতে না পড়ে, সে জন্য মস্তিষ্ক আমাদের থামিয়ে দিতে চায়। একে বলা হয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন

কিন্তু যখন সঙ্গে বন্ধু বা প্রিয়জন থাকে, তখন মস্তিষ্ক সংকেত পায়, ‘আমি নিরাপদ পরিবেশে আছি।’ ফলে সে ক্লান্তিটাকে একটু দূরে ঠেলে দেয় এবং আমাদের শরীরকে আরেকটু বেশি ব্যায়াম করার বা দৌড়ানোর অনুমতি দেয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আদিম যুগের মানুষ কিন্তু একা একা বিশাল ম্যামথ শিকার করতে যেত না, যেত দল বেঁধে। আমাদের সবচেয়ে বড় শারীরিক গুণ লুকিয়ে আছে এই দলবদ্ধ শিকারের মাধ্যমেই। আমাদের ডিএনএতে সেই সহযোগিতার ব্যাপারটা রয়ে গেছে। তাই আমরা যখন দল বেঁধে কিছু করি, তখন আমাদের শরীর ও মন সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করে।

অর্থাৎ প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতাই সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র!

সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট

আরও পড়ুন