কীভাবে টেবিল গুছিয়ে রাখলে কাজে মন বসে

টেবিল পরিষ্কার থাকলে মাথার ভেতরের ভাবনাও পরিষ্কার থাকেমিডজার্নি

অনেকে ভাবতে পারেন, ‘মাই ডেস্ক, মাই রুল’। আমি নিজের মতো আমার টেবিল গুছিয়ে রাখব। ইচ্ছা হলে এলোমেলো রাখব, ইচ্ছা হলে গোছাব। এখানে আবার অন্যের কী বলার আছে? এটুকু মেনে নিয়েও কিছু উপায় জানা যেতে পারে, যেগুলো মানলে কাজে মন বসে। কাজে গতি আসে। টেবিলটাকে ঠিক গোছানো নয়, অর্গানাইজ বা অর্ডার ঠিক করে রাখার কিছু নিয়মের কথা এই লেখায় থাকছে।

ঐতিহাসিকভাবে টেবিল না গুছিয়েই অনন্য বা অসাধারণ সব কাজ করেছেন বিখ্যাত ব্যক্তিরা। যেমন এলোমেলো টেবিলে বসে আলবার্ট আইনস্টাইন করেছেন দুনিয়া বদলে দেওয়ার গবেষণা। তবু বেশির ভাগ মানুষের জন্য বিষয়টি এভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে যাঁরা সৌন্দর্যবোধে বিশ্বাসী, সামান্য শৃঙ্খলা মেনে স্বস্তি পান, তাঁদের জন্য কিছু নিয়ম মানতেই হয়। কলম্বিয়ান ডিজাইনার নাতালিয়া ক্রিয়াদোর মতে, টেবিল পরিষ্কার থাকলে মাথার ভেতরের ভাবনাও পরিষ্কার থাকে। নিজের ড্রয়ারে ছড়িয়ে থাকা কাগজের বিশৃঙ্খলা থেকে তিনি এমন কাগজ ও নোট, হোল্ডার বানিয়েছেন, যা অগোছালো জিনিসকে কাঠামোয় বেঁধে দেয়।

আরও পড়ুন

তবে গোছানো মানেই টেবিল পুরো খালি থাকা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের টেবিল যেমন টেলিফোন আর পেন হোল্ডার ছাড়া তেমন কিছু নেই। কাজ বা পড়ার টেবলটা এমন পরিষ্কার রাখা উচিত নয়, যেন দেখে মনে হয় প্রাণ নেই। টেবিলকে কিছুটা সৃজনশীল রাখতে হয়। লেখক মেরি র‍্যান্ডলফ কার্টারের কাছে টেবিল হলো আশ্রয়। একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে প্রয়োজনীয় ও প্রিয় জিনিস রেখে কাজ করা যায়। তাঁর টেবিলে থাকে একটি টিনের পেঁচা, কাঠের কানাডিয়ান মাউন্টি, হলুদ কাগজের কাঠবিড়ালি আর খুলির মতো দেখতে একটি পাথর।

নতুন বছরের শুরুতে নতুন বছরের পরিকল্পনা থাকে, এবার একটু বেশি গুছিয়ে চলব। এই ইচ্ছাকে পূরণ করতে বিশেষজ্ঞরা সাহায্য করতে পারেন। তাঁদের মতে, টেবিলে দুটি বিষয় থাকতে হবে। টেবিল যে ডাকছে, যে আমার সামনে বসো। পড়ো, কাজ করো। দ্বিতীয়টি হলো, টেবিল হবে অনুপ্রেরণাদায়ক।

আরও পড়ুন

টেবিলের ওপর কাজের জায়গা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। স্থাপত্য ডিজাইনার জশ ইতিওলার পরামর্শ, রেফারেন্স বই বা কাগজগুলো পাতলা স্তূপে রাখতে হবে। ভারী জিনিসগুলো নিচের দিকে থাকবে। তিনি মনে করেন, টেবিলে আলাদা কাজের জন্য আলাদা জায়গা থাকলে কাজের গতি বাড়ে। গবেষণা আর সৃজনশীল কাজ একে অন্যের জায়গা দখল করে না। ফিলিপ জনসনস স্টুডিওর বিখ্যাত পারসন্স টেবিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এক পাশে পড়াশোনা, অন্য পাশে আঁকাআঁকি। টেবিলে আলোও থাকবে ঠিক সেই অনুযায়ী।

কোনো প্রজেক্ট শেষ হয়ে গেলে তার কাগজপত্র কী করব? এর উত্তর একটাই। আর্কাইভ করে ফেলতে হবে। যে কাজ শেষ, যে প্রজেক্ট আর করা হবে না, সেটাকে গুছিয়ে তুলে ফেলতে হবে। টেবিলের নিচে ফাইলিং ক্যাবিনেটের রাখা যেতে পারে। চোখের সামনে না থাকলেও প্রয়োজনের সময় যেন হাতের কাছে পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবলে তেমন কিছুই থাকে না
ছবি: রয়টার্স

টেবিলে আলো নিয়ে সবার মত একরকম নয়, তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত, প্রাকৃতিক আলো যতটা সম্ভব কাজে লাগান। জানালার কাছে টেবিল রাখলে দিনের আলো পাওয়া যায়। রাতের জন্য উষ্ণ আলো দেওয়া টেবিল ল্যাম্প সবচেয়ে ভালো। কারও কাছে স্থির আলো ভালো লাগে। কেউ আবার এমন টেবিল ল্যাম্প খোঁজেন, যেটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করা যায়।

পড়া বা কাজের সময় ছোট ছোট নিয়ম মানাও জরুরি। কেউ কাজ শুরুর আগে চা বানান, কেউ টেবিলে রাখেন পানির বোতল। কেউ মোমবাতি জ্বালান। যে যা–ই করুন, এটা আসলে একটা সংকেত। এখন পড়ার সময়, কাজের সময়।

আরও পড়ুন

টেবিলে কোন কোন প্রযুক্তি থাকবে, কোনটা থাকবে না, এটা আগে থেকে ঠিক করে রাখা উচিত। মূলত প্রযুক্তি টেবিল থেকে লুকিয়ে রাখাও শিখতে হবে। ফোন, ল্যাপটপ, প্রিন্টার—সবই দরকার। ফোন হাতের কাছে থাকলে মনটা ফোনে চলে যেতে পারে। ইদানীং কাজে বসে কখন যে রিলস দেখা শুরু হয়ে গেছে, কেউই টের পান না। এ জন্য ফোন দূরে রাখা উচিত। ডিভাইসগুলো সব চোখের সামনে থাকলে টেবিলের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তারগুলো ঢেকে রাখা যায়। মাঝেমধ্যে দরকার এমন জিনিস আলাদা ক্যাবিনেটে রাখা যায়।

আধুনিক যন্ত্রের সঙ্গে পুরোনো দিনের সুন্দর জিনিস মিশিয়ে নিলে ভারসাম্য আসে। টেবিলে কলম ও পেনসিলের জন্য আলাদা পাত্র থাকতে পারে। ভালো কাগজ, সুন্দর নোটবুক, রঙিন জিনিস ভালো লাগা দেয়।

টেবিলে আসলে ব্যক্তিগত ছোঁয়া থাকে। টেবিলটা একান্ত আপনার। টেবিলে রাখা যায় নিজের বা প্রিয় মানুষের ছবি, মনে রাখার জন্য ছোট কোনো নোট। স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন জিনিস টেবিলে মানিয়ে যায়। কাজ করতে করতে ক্লান্ত হলে, পড়তে পড়তে মাথা ধরে গেলে এগুলো সাহায্য করতে পারে।

টেবিল সাজানো মানে শুধু গোছানো নয়, চিন্তাকে গুছিয়ে নেওয়ারও উপায়।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

আরও পড়ুন