নতুন বছর এলে চারপাশে একধরনের হইচই শুরু হয়। নতুন ক্যালেন্ডার, নতুন ডায়েরি, খাতা, কলম সব মিলিয়ে সময়টা হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। ক্লাসের নতুন বইয়ে সুন্দর করে মলাট দাও তোমরা। কারণ, সারা বছর বইগুলো পড়তে হবে। বছরজুড়ে বইগুলো তো টিকিয়ে রাখতে হবে। কেউ কেউ নিজের কাছে নতুন বছরে প্রতিজ্ঞা করে, ক্লাসের বাইরের ৫০টা বই পড়ব। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগধ্যমগুলোতে আগের বছরকে বিদায় জানায়। ফেলে আসা বছরে যে কাজগুলো করার কথা ছিল কিন্তু করা হয়নি, সেগুলো নতুন বছরে করবই করব—এমন প্রতিজ্ঞা করে। বন্ধুকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে, তোমার নতুন বছরের ‘রেজল্যুশন’ কী? কেউ কেউ তো স্ট্যাটাস দিয়ে বসে, ‘নিউ ইয়ার, নিউ মি।’ কিন্তু সত্য হলো, এসব প্রতিজ্ঞা বছরের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে খুব কম সংখ্যক মানুষ। তবে, যারা প্রতিজ্ঞা ধরে রাখে, এগিয়ে থাকে তারা। নিজেকে দেওয়া কথা রাখে। বছর শেষে যা–ই হোক, বছরের শুরুতে নতুন বছরকে নিয়ে আশা করতে বা স্বপ্ন দেখতে অসুবিধা কী? চলো দেখি, নতুন বছরে তুমি কী করতে চাও, নতুন বছর নিয়ে তুমি কতটা আশাবাদী।
১. থার্টি ফার্স্ট নাইট বা বছরের শেষ রাতে ঘড়িতে ১২টা বাজতে যখন মিনিট দশেক বাকি, তখন তোমার মাথার ভেতরে কী চলে?
ক. এবার নিজেকে একটু গুছিয়ে নেব। পড়াশোনা করব, অলস সময় কাটাব না, সবকিছু নতুনভাবে শুরু করব।
খ. কিছু পরিকল্পনা মাথায় আসে। আবার মনে হয়, আগেরবারও তো এমন ভেবেছিলাম, কাজের কাজ খুব বেশি হয়নি।
গ. নতুন বছর নিয়ে ভাবার কী আছে? আগে থার্টি ফার্স্ট নাইটে একটু আনন্দ করে নিই। কিছু ফানুস ওড়াই।
২. ডিসেম্বরের লম্বা ছুটি শেষে নতুন বছরে প্রথম দিনের স্কুলের কথা ভাবলে তোমার কেমন লাগে?
ক. গত বছর ভালোভাবে পড়াশোনা করেছি, রেজাল্ট ভালো হয়েছে। এবারও প্রথম দিন থেকে পড়াশোনা শুরু করব। নতুন বই নেব, মন দিয়ে ক্লাস করব, ভাবতেই ভালো লাগে।
খ. স্কুল তো স্কুলই। প্রতিদিনই তো আসি। খুব আলাদা কিছু হবে বলে মনে হয় না।
গ. স্কুলের কথা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়।
৩. গত বছর যে কাজগুলো ঠিকঠাক করা হয়নি, যেমন হোমওয়ার্ক ফেলে রাখা, পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া দেরিতে পড়া, এসব নিয়ে এবার তোমার পরীকল্পনা কী?
ক. ভুল আর অবহেলাগুলো মনে মনে বছরের শুরুতে হিসাব রাখি, এবার যেন সেগুলো না করি।
খ. ভুলের কথা মনে পড়লে একটু খারাপ লাগে, তবে বছরটা আগের মতোই খারাপ যাবে না বলে মনে করি।
গ. অতীত নিয়ে ভাবার সময় নেই। যা হয়েছে, হয়েছে। সামনেও খারাপ কিছু হবে না।
৪. নতুন বছরে বই পড়া বা নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে তোমার মনোভাব কী?
ক. অন্তত একটা নতুন অভ্যাস গড়তে চাই। অন্তত ৫০টা বই পড়তে চাই। এবার নতুন কিছু শিখতেই হবে।
খ. কিছু শেখার ইচ্ছা আছে, কিন্তু ক্লাস, কোচিং করে সময় হবে কি না, ঠিক জানি না।
গ. এসব আমার তালিকায় নেই। আমি যেগুলো করি, সেগুলো করলেই হবে।
৫. খেলাধুলা, গান, আঁকা বা অন্য কোনো শখ নিয়ে নতুন বছরে তুমি কী করতে চাও?
ক. এবার নিজের পছন্দের কাজগুলোকে সময় দিতে চাই। নতুন কিছু অবশ্যই শিখব।
খ. আমার অনেক শখ আছে, অনেক কিছু ভালো লাগে। কিন্তু স্কুল আর বাসার চাপে সবকিছু ঠিকঠাক করা কঠিন।
গ. শখের জন্য আলাদা করে ভাবি না। যেভাবে চলছে, ভালোই চলছে।
৬. ধরো, ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হলো। তখন নতুন বছর নিয়ে তোমার উৎসাহ কেমন থাকবে?
ক. উৎসাহে ভাটা পড়েনি। প্রথম মাসের পরিকল্পনার সবটুকু করা সম্ভব না হলেও করার চেষ্টা করেছি।
খ. উৎসাহ একটু কমে গেছে, তবে পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
গ. উৎসাহ শেষ। পড়াশোনার চাপে পিষ্ট হয়ে যাচ্ছি।
৭. নতুন বছরে নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করার ব্যাপারে তুমি কী ভাবছ?
ক. ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করেছি যেন চাপ না পড়ে। ডায়েরিতে পরিকল্পনা লিখে রেখেছি।
খ. ভাবছি লক্ষ্য ঠিক করব, কিন্তু ডায়েরিতে লিখে রাখিনি।
গ. লক্ষ্য ঠিক করা মানে পরে কাজটা না করে হতাশ হব। তাই পরিকল্পনা করিনি, লিখিনি। যেভাবে চলছে, চলুক।
৮. নতুন বছরে মুঠোফোন বা স্ক্রিনটাইম নিয়ে তোমার পরিকল্পনা কী?
ক. স্ক্রল করে করে বারোটা বেজে যাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় এই কাজ আমাকে ছাড়তে হবে।
খ. কমানো দরকার জানি, কিন্তু পারব কি না, সন্দেহ।
গ. এসব নিয়ে ভাবার দরকার কী! আমার তো স্ক্রিনটাইম কোনো ক্ষতি করছে না।
৯. নতুন বছরের কোনো একটা দিন যদি কিছুই ঠিকঠাক না হয়, যেমন পড়া হয়নি, মনও ভালো নেই; তখন তুমি কী ভাববে?
ক. নিজেকে বলি, কাল আবার নতুন করে শুরু করব। নিজের মনে প্রত্যয় অনুভব করি।
খ. একটু মন খারাপ করি, তারপর ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করি।
গ. সব সময়ই তো এমন হয়। এ আর নতুন কী? গত বছরও এমন ছিল।
১০. সব মিলিয়ে নতুন বছর তোমার কাছে কেমন?
ক. নতুন বছর মানে নতুন বই। নতুন করে সব শুরু করার সুযোগ। পুরোটা না পারলেও কিছু তো অন্তত বদলানো যাবে।
খ. নতুন বছর নিয়ে কিছু আশা আমার আছে। কিন্তু একটু ভয় লাগে, যদি কিছু না হয়।
গ. আগের বছরেরই কপি।
নম্বর সব কটি প্রশ্নে
ক = ১০ খ = ৫ গ = ০
তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে
৭১-১০০: তুমি বেশ আশাবাদী
তুমি জানো, সব পরিকল্পনা সফল হবে না। তবু তুমি চেষ্টা করতে ভয় পাও না। নতুন বছরকে তুমি সুযোগ হিসেবে দেখো। এ মানসিকতাই তোমাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নেবে।
৪১-৭০: তুমি মাঝামাঝি জায়গায়
তোমার ভেতরে আশা আছে, আবার সন্দেহও আছে। এটা স্বাভাবিক। নিজেকে খুব বেশি চাপ দিয়ো না। ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করলেই চলবে।
০-৪০: তুমি নতুন বছর নিয়ে তেমন আশাবাদী নও
হয়তো আগের বছরের অভিজ্ঞতা তোমাকে ক্লান্ত করেছে। তুমি জানো, নতুন বছর নিয়ে খুব আশা বা উৎসাহ দেখালে তেমন লাভ হয় না। আশা মানেই সবকিছু নয়। ভালো করার ইচ্ছাটুকুই যথেষ্ট।